আরব দেশগুলোকে দুই হাজার কোটি ডলার ঋণ দেবে চীন

শেয়ার বিজ ডেস্ক: আরব দেশগুলোকে দুই হাজার কোটি ডলার ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। পাশাপাশি ওই দেশগুলোকে ১০ কোটি ৬০ লাখ ডলার অনুদান দেবে চীন। আরব দেশগুলোর অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য চীনের প্রেসিডেন্টের ‘অয়েল অ্যান্ড গ্যাস প্লাস’ প্রকল্পের আওতায় এই ঋণ ও অনুদান দেওয়া হবে। গতকাল মঙ্গলবার বেইজিংয়ে ২১ আরব রাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সম্মেলনে তিনি এই ঘোষণা দেন। খবর রয়টার্স।
গত কয়েক বছরে আরব দেশগুলোতে সক্রিয়তা বাড়িয়েছে চীন। দেশটির গুরুত্বপূর্ণ বেল্ট অ্যান্ড রোড পররাষ্ট্রনীতিতে বড় ধরনের ভূমিকা রয়েছে আরব দেশগুলোর। এই নীতির আওতায় কেন্দ্রীয় ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যিক রুট নির্মাণ করবে চীন।
সম্মেলনে শি বলেন, আরব দেশগুলোর অনেক নিরাপত্তা সমস্যা সমাধানের চাবিকাঠি হলো উন্নয়ন। আমাদের একে অন্যের প্রতি আচরণ খোলামেলা হওয়া উচিত, পার্থক্যকে ভয় নয়, সমস্যা এড়ানো নয় এবং পররাষ্ট্রনীতি ও উন্নয়ন কৌশল নিয়ে আলোচনা বৃদ্ধি করা উচিত।
চীনা প্রেসিডেন্ট জানান, ফিলিস্তিনের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য দেড় কোটি ডলার সহযোগিতার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জর্ডান, লেবানন, সিরিয়া ও ইয়েমেনে ৯০ কোটি ১০ লাখ ডলার সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে। চীন ও আরব দেশগুলোর ব্যাংকগুলোর একটি কনসোর্টিয়ামকে ৩০০ কোটি ডলার দেওয়া হবে, যা পরে গড়ে তোলা হবে।
প্রতিবেদনমতে, ব্যাংক কনসোর্টিয়াম, আর্থিক সহযোগিতা ও ঋণের মধ্যকার সম্পর্ক কী হবে তা স্পষ্ট নয়। শি জানিয়েছেন, ঋণের অর্থ দিয়ে অর্থনৈতিক পুনর্গঠন ও শিল্পের পুনর্জাগরণে একটি পরিকল্পনা করা হবে, যাতে তেল, গ্যাস, পারমাণবিক ও ক্লিন এনার্জির সহযোগিতার বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
সম্মেলনে চীনের প্রেসিডেন্ট ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংঘাতে আন্তর্জাতিক অবস্থান মেনে চলার জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে আহ্বান জানান। একই সঙ্গে আঞ্চলিক সংঘাত এড়াতে বিষয়টি সঠিকভাবে মোকাবিলার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।
জ্বালানির জন্য মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের ওপর নির্ভরতা থাকলেও সেখানকার সংঘাত ও কূটনীতিতে চীনের ভূমিকা খুব সামান্যই। কিছুদিন ধরে চীন দীর্ঘদিনের ফিলিস্তিন-ইসরাইল বিরোধে আরও বেশি সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে।
চীন জানিয়েছে, উন্নয়নশীল দেশগুলোকে আর্থিক সহযোগিতা এবং চুক্তির ক্ষেত্রে তারা ‘হস্তক্ষেপ না করার’ নীতিতে অটল রয়েছে। দেশটির দাবি, উন্নয়নের মাধ্যমে রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উত্তেজনার সমাধান সম্ভব।