আর্জেন্টিনাকে ৫ হাজার কোটি ডলার ঋণ দেবে আইএমএফ

শেয়ার বিজ ডেস্ক: অর্থনৈতিক সংকটে থাকা আর্জেন্টিনাকে পাঁচ হাজার কোটি ডলার ঋণ দিতে রাজি হয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। তিন বছর মেয়াদি ঋণচুক্তি সংস্থাটির সভায় অনুমোদন দেওয়া হবে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আর্জেন্টিনার মুদ্রা পেসোর মান ক্রমাগত কমছে। এতে মূল্যস্ফীতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশটি আইএমএফের কাছে গত ৮ মে ঋণ চেয়েছিল। খবর বিবিসি।
চুক্তির অংশ হিসেবে দেশটি এর দুই অঙ্কের মূল্যস্ফীতি মোকাবিলা এবং রাষ্ট্রীয় ব্যয় কমানোর ব্যাপারে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে। গত মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে আইএমএফ বলেছে, ‘আর্জেন্টাইন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা ঋণের প্রথম কিস্তি উত্তোলন করতে চায়। একই সঙ্গে তারা ঋণটিকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচনা করতে চায়।’ তবে আইএমএফের সাহায্য চাওয়ায় দেশজুড়েই আর্জেন্টাইন প্রেসিডেন্ট মরিসিও ম্যাক্রি সমালোচিত হচ্ছেন। ২০০১ সালে দেশটির অর্থনৈতিক ক্ষতির জন্য আইএমএফকে দায়ী করা হয়। আন্তর্জাতিক সংস্থাটি তখন কোনো কারণ ছাড়াই অর্থ সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছিল, কিন্তু প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রি জানিয়েছেন, আইএমএফ থেকে প্রাপ্ত ঋণ তার দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে।
উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে মৌলিক চাহিদা মেটাতেই হিমশিম খাচ্ছে দেশটির নাগরিকরা। এতে কমছে ভোক্তা খরচ। তাই পেসোর মান বাড়াতে সম্প্রতি সুদের হার বাড়িয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সবশেষে এখন সুদের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০ শতাংশে।
পেসোর মান কমে যাওয়ায় ২০১৭ সালে আর্জেন্টিনার মূল্যস্ফীতি ২৫ শতাংশে পৌঁছায়। ভেনিজুয়েলা ছাড়া লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর মধ্যে গত বছর এটিই ছিল সবচেয়ে বেশি মূল্যস্ফীতি, যদিও ২০১৬ সালেও দেশটির মূল্যস্ফীতি ছিল ৪৭ শতাংশ। সে তুলনায় মূল্যস্ফীতি কমলেও পণ্যের দামের তুলনায় আয় বাড়েনি। ফলে হিমশিম খাচ্ছে সাধারণ জনগণ। চলতি বছর কেন্দ্রীয় ব্যাংক মূল্যস্ফীতি ১৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।
আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট মরিসিও ম্যাক্রি ক্ষমতায় বসার দুই বছর পরও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেননি। এর কারণে তার জনপ্রিয়তাতেও ভাটা পড়ছে। তবে দেশের জন্য সঠিক কাজ করছেন বলেই মনে করছেন তিনি।
এর আগে ১৯৮২, ১৯৮৯ এবং ২০০১ সালে আর্থিক মন্দার মুখে পড়ে দেশটি। এর পর থেকে পেসোর ওপর নির্ভরতা কমাতে ডলারে সঞ্চয় শুরু করেন দেশটির নাগরিকরা। তবে সম্প্রতি দেশটির অর্থমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন, শিগগিরই আর্জেন্টিনায় নিয়ন্ত্রণে আসবে মূল্যস্ফীতি।