আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে এক অনবদ্য সাফল্যগাথা

৯ বছরের সালতামামি : দ্বিতীয় পর্ব

গতকালের পর…..

ড. শামসুল আলম: খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন এ সরকারের এক অন্যতম সাফল্য। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে দেশে চাল উৎপাদন হয় দুই কোটি ৬৫ লাখ মেট্রিক টন। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে উৎপন্ন হয়েছে তিন কোটি ৩৮ লাখ মেট্রিক টন। মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়ে ৪৫ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত হয়েছে। বাংলাদেশ এখন বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম মিঠাপানির মৎস্য উৎপাদনকারী দেশ। কৃষিক্ষেত্রে এ লক্ষ্য অর্জনে কৃষি উপকরণের বিপুল ভর্তুকিসহ বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনার ব্যবস্থা করা হয়। কৃষি উপকরণ সহায়তা কার্ড বিতরণ করা হয়েছে প্রায় এক কোটি ৪৪ লাখ। মাত্র ১০, ৫০ ও ১০০ টাকার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার সুবিধা গ্রহণ করেছেন প্রায় ৯২ লাখ কৃষক (২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত)। গবেষণাগারে ‘পাটের জীবন রহস্য’ উšে§াচিত হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় বিজ্ঞানীরা পাটের কাণ্ডপচা রোগসহ পাঁচ শতাধিক উদ্ভিদ বিধ্বংসী রোগের জন্য দায়ী ছত্রাকের জীবনরহস্য আবিষ্কারের পথে রয়েছেন। বর্তমান সরকার বাংলাদেশকে খাদ্য ঘাটতির দেশ থেকে খাদ্য রফতানির দেশে পরিণত করেছে। দেশে খাদ্য মজুত ক্ষমতা ১৪ দশমিক ছয় লাখ মেট্রিক টন থেকে বেড়ে ২০১৬ সালে ২০ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টনে উন্নীত করা হয়েছে। কৃষির অন্যান্য খাতেও এ সরকারের রয়েছে বিপুল সাফল্য। এ সময় বিশ্ববাজারে পাট ও পাটজাত পণ্য রফতানি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

বর্তমান সরকার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বিশ্বব্যাপী প্রশংসা অর্জন করেছে। বিশেষ করে এ সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই পাঁচটি উন্নয়ন সংস্থার ৭০ মিলিয়ন ডলারের মঞ্জুরি সাহায্য দ্বারা ‘ঈড়সঢ়ৎবযবহংরাব উরংধংঃবৎ গধহধমবসবহঃ চৎড়মৎধসসব’ চালু করেছে। অনুরূপভাবে বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশের পরিবেশে যে ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে, তা মোকাবিলায় উন্নয়ন সংস্থা ও বন্ধুপ্রতিম উন্নত দেশগুলোর সহযোগিতায় ১৭০ মিলিয়ন ডলার সহায়তাসহ সরকারি সহযোগিতায় ‘জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ড’ গঠন করে তিন হাজার ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। বর্তমান সরকার অভ্যন্তরীণ নৌপথগুলোর নাব্য রক্ষায় ও নিরাপদ নৌ-চলাচল নিশ্চিতের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রায় ১১ হাজার ৪৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে ক্যাপিটাল ড্রেজিং ও নদীরক্ষা প্রকল্প গ্রহণ করে। এর ফলশ্রুতিতে দেশে বন্যার প্রকোপ কমেছে। বর্তমান সরকারের উদ্যোগে বন্যা মোকাবিলা, নদী ও পানি ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ১০০ বছরের দীর্ঘমেয়াদি ‘ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০’-এর চূড়ান্ত খসড়া প্রণীত হয়েছে।

সরকার আর্থসামাজিক উন্নয়নের অনুকূলে টেকসই নিরাপদ ও মানসম্মত সড়ক অবকাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যে ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। ১৩টি বৃহৎ সেতু নির্মাণ, ৩০ দশমিক পাঁচ কিলোমিটার নতুন সড়ক ও চার হাজার ৪৬ মিটার কংক্রিট সেতু নির্মাণ, ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ, তিন দশমিক এক কিলোমিটার কুড়িল ফ্লাইওভার নির্মিত হয়েছে। ৭৫০ মিটার দীর্ঘ তিস্তা সেতু, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ককে চার লেনে উন্নীতকরণ, ঢাকা ও চট্টগ্রাম শহরে ফ্লাইওভার নির্মাণসহ উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের কাজ সমাপ্ত হয়েছে। সর্বশেষ ঢাকা শহরে একটি উড়াল রেল (মেট্রোরেল) স্থাপনের বিশাল উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। হাতিরঝিল প্রকল্প ঢাকা শহরে একটি সুন্দরতম অবকাঠামো আবেষ্টনী তৈরি করেছে। নিকুঞ্জ-বনানী-মিরপুর-পূর্বাঞ্চল সংযুক্ত উড়াল সেতু, মগবাজার-মালিবাগ উড়াল সেতুগুলো উন্নয়নের দৃশ্যমান মাইলফলক সৃষ্টি করেছে। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ এ পর্যন্ত ৫০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। ২০১৮ সাল নাগাদ এ সেতু যানবাহন চলাচলের জন্য উš§ুক্ত করা সম্ভব হবে।

৩৫ কিলোমিটার নতুন রেলপথ নির্মাণ, ১৮০ কিলোমিটার রেলপথ পুনর্বাসন, ১০১ কিলোমিটার রেলপথ মিটারগেজ থেকে ডুয়েলগেজে রূপান্তর সম্পন্ন হয়েছে। রেল যোগাযোগব্যবস্থার ব্যাপক সংস্কারের লক্ষ্যে ২০ বছরমেয়াদি একটি রেলওয়ে মাস্টারপ্ল্যান গ্রহণ করা হয়েছে। সম্প্রতি চট্টগ্রাম হতে কক্সবাজার পর্যন্ত ১২৯ দশমিক পাঁচ কিলোমিটার রেললাইন স্থাপনের জন্য একটি বৃহৎ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।

এছাড়া প্রবৃদ্ধি সহায়ক ১০টি অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প ঋধংঃ ঞৎধপশ-ভুক্ত করা হয়েছে, যথা: পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ, পদ্মা সেতুতে রেলসংযোগ, দোহাজারী-রামু-কক্সবাজার ও রামু-ঘুমধুম পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণ, ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্র্যানজিট ডেভেলপমেন্ট, পায়রা সমুদ্রবন্দর নির্মাণ, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন প্রকল্প (প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়), মাতারবাড়ি ১২০০ মেগাওয়াট আলট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কোল ফায়ার্ড প্রজেক্ট, মৈত্রী সুপার থার্মাল বিদ–্যৎ প্রকল্প (২–৬৬০ মেগাওয়াট), এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ। ২০১৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ প্রকল্পের ৫০ ভাগ ভৌতকাজ সম্পন্ন হয়েছে।

উন্নয়ন কর্মসূচির বাইরে অর্পিত সম্পত্তি আইন ও পার্বত্য শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর সামাজিক বৈষম্য দূর করার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জিত হয়েছে।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের দায়িত্ব গ্রহণকালে দেশে বিদ–্যৎ খাতে বিরাজ করছিল এক নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি। বিদ্যুৎ খাতকে অগ্রাধিকার ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করে ভর্তুকি দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধির পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। সরকার নির্বাচনী ইশতেহারে ২০১১ সালের মধ্যে পাঁচ হাজার মেগাওয়াট ও ২০১৩ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন সাত হাজার মেগাওয়াটে উন্নীতের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে। ইতোমধ্যে ২০১১ সালেই এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে। স্থাপিত বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২০০৯ সালের চার হাজার ৯৪২ মেগাওয়াট থেকে বর্তমানে ১৫ হাজার ৩৭৯ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে (সরকারি খাতে সাত হাজার ৫৪, বেসরকারি খাতে পাঁচ হাজার ৫২৫ ও ভারত হতে আমদানি করা ৬০০ মেগাওয়াট)। এতে মাথাপিছু বিদ্যুৎ উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ৪৩৩ কিলোওয়াট। মোট জনসংখ্যার প্রায় ৮৬ শতাংশ এখন বিদ্যুৎ সুবিধা পাচ্ছে। নির্মাণাধীন রয়েছে নতুন ৩৩টি স্থায়ী বিদ্যুৎকেন্দ্র। দুই হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল প্রকল্প রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। এছাড়াও মাতারবাড়ি ২–৬০০ মেগাওয়াট আলট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কোল ফায়ার্ড পাওয়ার প্রকল্প কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে চলেছে।

দেশে এযাবৎ আবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্রের সংখ্যা ২৬টি। পেট্রোবাংলার সাম্প্রতিক প্রাক্কলন অনুযায়ী মোট গ্যাস মজুতের পরিমাণ ৩৮ দশমিক শূন্য দুই ট্রিলিয়ন ঘনফুট আর উত্তোলনযোগ্য প্রমাণিত সম্ভাব্য মোট গ্যাস মজুতের পরিমাণ ২৭ দশমিক ১২ ট্রিলিয়ন ঘনফুট। ২০টি গ্যাসফিল্ড থেকে দৈনিক দুই হাজার ৭২৮ মিলিয়ন ঘনফুট হারে গ্যাস উৎপাদন ও সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। সিলেটের কৈলাশটিলা ও হরিপুরে দুটি নতুন তেলক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়েছে। শাহবাজপুর-সুন্দলপুর ও শ্রীকাইলে আবিষ্কৃত হয়েছে দুটি গ্যাসক্ষেত্র। গ্যাস উৎপাদন বেড়েছে দৈনিক ৫৯৩ মিলিয়ন ঘনফুট। ২০০৮ সালের তুলনায় বর্তমানে দৈনিক তিন হাজার মেট্রিক টন অতিরিক্ত কয়লা দেশে উত্তোলন করা হচ্ছে।

মানবসম্পদ উন্নয়ন ও শিক্ষা খাতে তাৎপর্যপূর্ণ সাফল্য অর্জিত হয়েছে। দেশে বর্তমানে সাক্ষরতার হার ৭২ দশমিক তিন শতাংশ। প্রাথমিক স্কুলে শতভাগ ভর্তির লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে। শিক্ষার গুণগত উৎকর্ষ সাধনে প্রাথমিক ও নি¤œমাধ্যমিক স্তরে সাফল্যের সঙ্গে পাবলিক পরীক্ষা পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। বিগত বছরগুলোয় স্কুল ও মাদরাসা শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে প্রতি বছর ৩১ কোটিরও অধিক পাঠ্যবই সময়মতো পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। শিক্ষাক্ষেত্রে এ এক অবিস্মরণীয় সাফল্য। ২৬ হাজার ১৯৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ ও এক লাখ ২০ হাজার শিক্ষকের চাকরি জাতীয়করণ করা হয়েছে। যেসব উপজেলায় সরকারি স্কুল ও কলেজ নেই, সেখানে একটি করে স্কুল ও কলেজ জাতীয়করণ করা হচ্ছে। বিদ্যালয়বিহীন এক হাজার ১২৫ গ্রামে নতুন প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করা হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষাকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত উন্নীতের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধির পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ৯ বছরে স্বাস্থ্য খাতের নির্দেশকগুলোর ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। ইতোমধ্যে নারীপ্রতি মোট সন্তান জš§হার দুই দশমিক ১০-এ নেমে এসেছে। একই সময় শিশুমৃত্যুর হার প্রতি হাজার জীবিত জšে§ ২৮ জন এবং পাঁচ বছরের নিচের শিশুর ক্ষেত্রে ৩৫ জনে নেমে এসেছে, যা ২০০৫ সালে ছিল যথাক্রমে ৫৬ ও ৮২ জন। এছাড়াও মাতৃমৃত্যুর হার হ্রাসের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। মাতৃমৃত্যুর হার প্রতি এক লাখ জীবিত জšে§ ১৭৮ জন, যা ২০০৫ সালে ছিল ৩২০-৪০০ জন। স্বাস্থ্যসেবা এখন মানুষের দোরগোড়ায়। সাড়ে ১৬ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র করা হয়েছে। নতুন ১১টি সরকারি মেডিক্যাল কলেজ চালু করা হয়েছে। দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী এক লাখ পরিবারের মধ্যে স্বাস্থ্য কার্ড বিতরণ করা হবে। পর্যায়ক্রমে সারা দেশে সব দরিদ্র পরিবারের মধ্যে এ কার্ড বিতরণ করা হবে। ২০০৫-০৬ সালে যেখানে গড় আয়ু ছিল ৬৬ দশমিক পাঁচ বছর, এখন তা বেড়ে হয়েছে ৭১ দশমিক ছয় বছর।

ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ব্যাপক সাফল্য অর্জিত হয়েছে। বাংলাদেশে এখন মোবাইল সিমগ্রাহকের সংখ্যা ১৩ কোটির বেশি। ইন্টারনেট ব্যবহার করছে মোট জনসংখ্যার ৪১ দশমিক ৫২ শতাংশ। ডাক বিভাগে মোবাইল মানি অর্ডার, পোস্টাল ক্যাশ কার্ড, গ্যারান্টেড এক্সপ্রেস সার্ভিস, মোবাইল ব্যাংক সেবা চালু করা হয়েছে। নতুন নতুন ডাকঘর নির্মাণ ও সংস্কার করা হয়েছে। সারা দেশে এখন ডাকঘরের সংখ্যা ৯ হাজার ৮৮৬টি (২০১৩)। ইউনিয়ন পরিষদ, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার ওয়ার্ডগুলোয় বর্তমানে পাঁচ হাজার ২৮৬টি ‘ডিজিটাল সেন্টার’ কাজ করছে, যা থেকে গড়ে ৪০ লক্ষাধিক মানুষ সেবা পাচ্ছে। সর্বস্তরের মানুষের হাতের মুঠোয় তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে ২৫ হাজার অফিসের পোর্টাল নিয়ে প্রস্তুত করা বাংলাদেশের ‘জাতীয় তথ্য বাতায়ন’ বিশ্বের সর্ববৃহৎ তথ্য পোর্টাল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। ২০০৬-০৭ অর্থবছরে যেখানে টেলি ডেনসিটি ছিল মাত্র ১৩ দশমিক ৪৪ শতাংশ, ২০১৭ সালে এসে তা ৮৩ দশমিক শূন্য তিন শতাংশে উন্নীত হয়েছে। একটি নিরবচ্ছিন্ন ও উন্নত টেলিযোগাযোগব্যবস্থা নিশ্চিতে মহাকাশে ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’ নামে বাংলাদেশের নিজস্ব স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। চলতি বছরের ১৬ ডিসেম্বর এটি মহাকাশে উৎক্ষেপণ করা হবে। তথ্যপ্রবাহ অবারিত করে দেওয়ার পাশাপাশি জনগণের তথ্য জানার অধিকার নিশ্চিত করা ও রাষ্ট্রীয় জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে জবাবদিহিতার সংস্কৃতি গড়ে তোলার জন্য প্রণয়ন করা হয়েছে তথ্য অধিকার আইন। একই সঙ্গে গঠন করা হয়েছে তথ্য কমিশন। (চলবে)

সদস্য (জ্যেষ্ঠ সচিব), সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ, বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশ