আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে এক অনবদ্য সাফল্যগাথা

৯ বছরের সালতামামি : তৃতীয় পর্ব

গতকালের পর……..

ড. শামসুল আলম: শান্তি, গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বিগত বছরগুলোর সাফল্য বিশ্বনন্দিত। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বঙ্গবন্ধু হত্যকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন ও বিচারের রায় কার্যকর করা হয়েছে। জেলহত্যার পুনর্বিচার শুরু হয়েছে। জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চলছে। জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ দমনে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি বিশ্ববাসীর প্রশংসা অর্জন করেছে। ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা ও দশ ট্রাক অস্ত্র চোরাচালানির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিচারাধীন মামলাগুলো নিষ্পত্তির প্রক্রিয়ায় রয়েছে। দুর্নীতি প্রতিরোধে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) শক্তিশালী করা হয়েছে। জাতীয় সংসদে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী গৃহীত হয়েছে। সাংবিধানিকভাবে বাংলাদেশে আবার ’৭২-এর সংবিধানের মৌলিক নীতি-কাঠামো পুনঃস্থাপিত হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় রাষ্ট্র পরিচালনার সব আইনগত বাধা অপসারিত হয়েছে। সার্চ কমিটির মাধ্যমে মহামান্য রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের পদক্ষেপ সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের আর্থিক ও জনবল নিয়োগের কর্তৃত্ব নিশ্চিত করা হয়েছে। মানবাধিকার কমিশন ইতোমধ্যে দেশের সব দলমতের মানুষের আস্থা অর্জন করেছে। বাংলাদেশে গণমাধ্যমের নিরপেক্ষ ও অবাধ তথ্যপ্রবাহ এখন নিরঙ্কুশ। দেশে এখন ৪১টি বেসরকারি টিভি চ্যানেল, সাতটি বার্তা সংস্থা, ২২টি এফএম ও ৩২টি কমিউনিটি রেডিও চালু আছে। প্রকাশিত হচ্ছে ৩২০টি দৈনিক পত্রিকা ও ১৫১টি সাপ্তাহিক। ক্রীড়া ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও নয় বছরে বাংলাদেশ ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করেছে।
মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমার শান্তিপূর্ণ সমাধান তথা সমুদ্রবিজয় আমাদের পররাষ্ট্রনীতির সাফল্যের এক যুগান্তকারী মাইলফলক। সমুদ্রে এক লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটার এলাকায় দেশের নিরঙ্কুশ অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আলোচনার মাধ্যমে ভারতের সঙ্গে স্থলসীমানা সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান করা হয়েছে। এর ফলে ভারতের সঙ্গে প্রায় সাত দশকের সীমান্ত ও ছিটমহল সমস্যার সমাধান হয়েছে। স্থলসীমান্ত চুক্তির ফলে মোট ১১১টি ছিটমহলের ১৭ হাজার ১৬০ একর ৬৩ শতাংশ জমি বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে এসেছে; ভারত পেয়েছে সাত হাজার ১১০ একর। এছাড়া অন্যান্য অমীমাংসিত সমস্যাগুলোরও পর্যায়ক্রমে সমাধান হচ্ছে। চীনসহ নিকট প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে আমাদের বহুমুখী সহযোগিতার দ্বার উšে§াচিত হয়েছে। জননেত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক উত্থাপিত ‘জনগণের ক্ষমতায়ন ও উন্নয়ন’ মডেল জাতিসংঘে গৃহীত হওয়ায় আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের সুনাম বেড়েছে ও ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুর মৃত্যুর হার হ্রাসের জন্য ‘টঘ গউে অধিৎফং ২০১০’ পুরস্কারে ভূষিত হওয়ার মধ্য দিয়ে আমাদের এ সাফল্য বিশ্বব্যাপী সমাদৃত হয়েছে। মহিলা ও শিশুদের স্বাস্থ্যের অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্ভাবনী চিন্তাশক্তির জন্য বাংলাদেশ ২০১১ সালে ‘উরমরঃধষ ঐবধষঃয ভড়ৎ উরমরঃধষ উবাবষড়ঢ়সবহঃ’ শীর্ষক সাউথ-সাউথ পুরস্কারেও ভূষিত হয়। ‘ঞযব জরংব ড়ভ ঃযব ঝড়ঁঃয’ শীর্ষক জাতিসংঘের ‘মানব উন্নয়ন প্রতিবেদন ২০১৩’-তে যে ১৮টি দেশ এমডিজি অর্জনে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে তাদের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। এছাড়া এমডিজি অভীষ্ট লক্ষ্য-১ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই দারিদ্র্য অর্ধেকে নামিয়ে আনার জন্য ২০১৩ সালের জুনে বাংলাদেশ জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার কাছ থেকে ‘উরঢ়ষড়সধ অধিৎফ’ লাভ করে। এ পুরস্কার ছাড়াও বাংলাদেশ ক্ষুধা ও দারিদ্র্য মোকাবিলায় অভাবনীয় অগ্রগতির জন্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রশংসা অর্জনে সক্ষম হয়েছে। সামাজিক উন্নয়নে তথ্য-প্রযুক্তির মাধ্যমে জনগণের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা প্রদানে সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ ওঞট বাংলাদেশকে ২০১৪ সালে ‘ওয়ার্ল্ড সামিট অন ইনফরমেশন সোসাইটি’ (ডঝওঝ) পুরস্কারে ভূষিত করে। এছাড়া ডড়ৎষফ ওহভড়ৎসধঃরড়হ ঞবপযহড়ষড়মু ধহফ ঝবৎারপবং অষষরধহপব, মেক্সিকো থেকে ২০১৪ সালে বাংলাদেশ ‘ডওঞঝঅ ২০১৪ ষেড়নধষ ওঈঞ ঊীপবষষবহপব অধিৎফ’ অর্জন করে। নারীশিক্ষার অনুকূল পরিবেশ তৈরি ও শিক্ষার মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়নের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ ইউনেস্কো থেকে ‘পিস ট্রি’ অ্যাওয়ার্ড লাভ করেছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নারীর ক্ষমতায়নে ও জেন্ডার সমতা আনায় উন্নতির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৫ সালে বাংলাদেশ ‘ডড়সবহ রহ চধৎষরধসবহঃং ষেড়নধষ ঋড়ৎঁস অধিৎফ’ শীর্ষক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখায় প্রধানমন্ত্রী ২০১৫ সালে ‘চ্যাম্পিয়ন অব দ্য আর্থ’ পুরস্কার অর্জন করেন। নারীর ক্ষমতায়নে জোরাল ভূমিকা রাখায় ২০১৬ সালে তিনি ‘ইউএন উইম্যান অ্যাওয়ার্ড’ পুরস্কার লাভ করেন।
আগামী ১৫ বছরের উন্নয়ন লক্ষ্য নিয়ে সম্প্রতি জাতিসংঘ কর্তৃক গৃহীত টেকসই উন্নয়ন অভীষ্টগুলো (এসডিজিস) বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। বাস্তবায়নাধীন সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (২০১৬-২০) দলিলে এসডিজির ১৭টি অভীষ্টকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে কোন মন্ত্রণালয়ের কী করণীয়, এ নিয়ে কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করার কাজ এগিয়ে চলেছে।
দীর্ঘমেয়াদে (৫০ থেকে ১০০ বছরের জন্য) বাংলাদেশের পানিসম্পদ ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলা করে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিতকরণের একটি কাঠামো প্রণয়ন করা এবং তা বাস্তবায়নের কর্মকৌশল নির্ধারণের লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান ২১০০’ শীর্ষক পরিকল্পনার চূড়ান্ত খসড়া প্রণীত হয়েছে।
বাংলাদেশ সরকার দারিদ্র্য দূরীকরণ, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং অসমতা দূরীকরণে বদ্ধপরিকর। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীকে সরকার দারিদ্র্য দূরীকরণের অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে মনে করে। রূপকল্প ২০২১-এর আলোকে প্রণীত প্রেক্ষিত পরিকল্পনা (২০১০-২১) এবং ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (২০১১-১৫) ও সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় (২০১৬-২০) এ অঙ্গীকার প্রতিফলিত হয়েছে। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীকে আরও যুগোপযোগী ও কার্যকর করার লক্ষ্যে সরকার ‘জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কৌশল’ প্রণয়ন করেছে। ২০১৫ সালের ১ জুন মন্ত্রিসভা বৈঠকে কৌশলপত্রটি অনুমোদন লাভ করে। প্রথমবারের মতো গৃহীত সামাজিক নিরাপত্তা কৌশলের প্রস্তাবিত দারিদ্র্যবান্ধব বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে চলছে।
আর্থসামাজিক উন্নয়নে সহস্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশের অগ্রগতি বিশ্ব পরিমণ্ডলে ব্যাপকভাবে আলোচিত। প্রাথমিক শিক্ষায় প্রকৃত ভর্তির হার, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষায় জেন্ডার সমতা এবং চরম দারিদ্র্য ও ক্ষুধা নির্মূলকরণের লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুর মুত্যুর হার কমানো ও মাতৃস্বাস্থ্য উন্নয়নে বাংলাদেশের অর্জন বিশ্বব্যাপী নন্দিত হয়েছে এবং বাংলাদেশ সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে। উপমহাদেশের নোবেলবিজয়ী বাঙালি অর্থনীতিবিদ ড. অমর্ত্য সেনও বাংলাদেশের সামাজিক ক্ষেত্রে, বিশেষত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যক্ষেত্রের সফলতার বিষয়টি তার বইসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে উল্লেখ করেছেন। বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ কৌশিক বসুর মতে, বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন উড়ন্ত সূচনার পর্যায়ে রয়েছে। বিনিয়োগের পরিমাণ মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩০ দশমিক ৫১ শতাংশের সমপরিমাণ। আগামী কয়েক বছরে এ বিনিয়োগ আরও তিন-চার শতাংশ বাড়ানো সম্ভব হবে এবং আট শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের মাইলফলক স্পর্শ করবে। বাংলাদেশ এশিয়ার টাইগার দেশগুলোর একটিতে পরিণত হবে। বিশ্বমন্দার মধ্যেও কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ছয় শতাংশের ওপরে রয়েছে এবং চলতি অর্থবছরে সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে সাত দশমিক ২৮ শতাংশে উপনীত হয়েছে। কৌশিক বসুর ভাষায় প্রবৃদ্ধি ‘তরতর’ করে বাড়ছে। কৌশিক বসুর মন্তব্য ‘আজকের বাংলাদেশ পুরোটাই সাফল্যের গল্প, যা বিশ্বের অনেক দেশের জন্যই দৃষ্টান্ত’।
সরকারের গৃহীত সহায়ক নীতি ও উদ্যোগের প্রভাবে নারীর ক্ষমতায়ন বেড়েছে। লিঙ্গবৈষম্য হ্রাসে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ বর্তমানে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। বিশ্ব অর্থনীতি ফোরামের দ্য গ্লোবাল জেন্ডার গ্যাপ রিপোর্ট অনুযায়ী ২০১৭ সালে ১৪৪টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৪৭তম, যেখানে ২০০৬ সালের ১১৫টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৯১তম। জেন্ডারবৈষম্য সূচকে দক্ষিণ এশীয় দেশ শ্রীলঙ্কা, ভারত ও পাকিস্তানের অবস্থান বাংলাদেশের অনেক পেছনে (যথাক্রমে ১০৯, ১০৮ ও ১৪৩তম)।
সরকারের নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টায় অর্জিত বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সাফল্য আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার নজর কেড়েছে। ঈরঃর ৎেড়ঁঢ়-এর বিবেচনায় ২০১০ থেকে ২০৫০ সালের মধ্যবর্তী সময়ে বিশ্বে সম্ভাব্য প্রবৃদ্ধি সঞ্চালক ‘৩ে (ষেড়নধষ ৎেড়ঃিয বেহবৎধঃড়ৎ) ঈড়ঁহঃৎরবং’ এবং বিনিয়োগের আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে ঔচ গড়ৎমধহ-এর ‘ঋৎড়হঃরবৎ ঋরাব’ তালিকায় স্থান পেয়েছে বাংলাদেশ। প্রথমবারের মতো ২০০৯-১০ অর্থবছরে ঝঃধহফধৎফ ধহফ চড়ড়ৎ’ং এবং গড়ড়ফু’ং বাংলাদেশের ওপর সভরেন ক্রেডিট রেটিং প্রণয়ন করে। প্রতিকূল বিশ্ববাস্তবতার মাঝেও দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সর্বোত্তম সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনামের সমতুল্য ঋণ পরিশোধের সক্ষমতার মানদণ্ড অর্জন ও অক্ষুণœ রাখা সম্ভব হয়েছে। জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অরগানাইজেশনের (জেটরো) মতে, বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দ্বিতীয় পছন্দের তালিকায় রয়েছে। এছাড়া প্রাইস ওয়াটারহাউস কুপারসের মতে, বাংলাদেশ ২০৫০ সালের মধ্যেই পরিণত হবে পৃথিবীর ২৩তম বৃহত্তর অর্থনীতিতে এবং পেছনে ফেলবে মালয়েশিয়া ও অস্ট্রেলিয়াকে, যা আমাদের অত্যন্ত উজ্জীবিত করে।
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বিদেশি বিনিয়োগের পরবর্তী কেন্দ্রস্থল হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সেই লক্ষ্যে দেশটি কাজ করে যাচ্ছে বলে মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী পত্রিকা ‘আরব নিউজ’-এর এক প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বলছে, ২০২১ সালের মধ্যে এটি ৩২ হাজার ২০০ কোটি ডলারের বাজারে পরিণত হবে। যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান ব্লুমবার্গ বিশ্ব অর্থনীতির গতি-প্রকৃতি বিশ্লেষণ করে বিভিন্ন দেশের প্রবৃদ্ধি অর্জনের হার নিয়ে তৈরি প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, বাংলাদেশ হবে বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ প্রবৃদ্ধির দেশ। ফোর্বস ম্যাগাজিনের করা ২০১৬ সালের বিশ্বের ক্ষমতাধর ১০০ নারীর তালিকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবস্থান ৩৬ নম্বরে। যুক্তরাষ্ট্রের টাইম করপোরেশনের বাণিজ্যবিষয়ক ম্যাগাজিন ফরচুনের ২০১৬ সালের মার্চের জরিপে বিশ্বের শীর্ষ নেতাদের তালিকায় দশম স্থানে রয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
দিন বদলের সনদ ও ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকার নিয়ে ৯ বছর আগে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দেশবাসীর নজিরবিহীন ম্যানডেট পেয়েছিল। নানা প্রতিকূলতা, বাধাবিপত্তি, সীমাবদ্ধতা ও ষড়যন্ত্র-নাশকতা মোকাবিলা করে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারকে দেশ পরিচালনা করতে হয়েছে। সাফল্যের স্মারক হিসেবে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকার আবার ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হতে পেরেছে। আওয়ামী লীগ যেহেতু একটি রূপকল্প-২০২১ সামনে রেখে অগ্রসর হচ্ছে, সে কারণে তার দৃষ্টি কেবল এক বছরে সীমাবদ্ধ নয়। আওয়ামী লীগ ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উচ্চমধ্যম আয়ের দেশের স্তর পেরিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ, সমৃদ্ধ, সুখী ও উন্নত জাতিতে পরিণত করার ব্যাপারে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ। ‘এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ’ শীর্ষক নির্বাচনী ইশতেহারে ২০১৪ সালে দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে বিশ্বের প্রথম সারির উন্নত দেশগুলোর সমপর্যায়ে উন্নীত করার রূপরেখা অঙ্কিত হয়েছে। উন্নত বাংলাদেশের অভিলাষে সরকারের নির্দেশনায় বাংলাদেশের দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনা (ভিশন ২০২১-২০৪১) প্রণয়নের কাজ সাধারণ অর্থনীতি বিভাগে বর্তমানে চলমান। (শেষ)

সদস্য (জ্যেষ্ঠ সচিব), সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ, বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশন