আর্থিক অনিয়মের তদন্ত করছে প্রধান কার্যালয়

ইসলামী ব্যাংকের রামপুরা শাখা

নিজস্ব প্রতিবেদক: আর্থিক অনিয়ম, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও গ্রাহকের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে ইসলামী ব্যাংকের রামপুরা শাখা ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে। গ্রাহকের সঙ্গে শাখা ব্যবস্থাপকের দুর্ব্যবহার ও হাতাহাতির ঘটনায় রামপুরা থানায় জিডি পর্যন্ত হয়েছে। এসব ইস্যুতে শাখাটির ব্যবস্থাপক ও সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়।
সূত্র জানায়, ইসলামী ব্যাংকটির রামপুরা শাখার বর্তমান ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ এর আগেও উঠেছে। ব্যাংকের সান্ড্রি হিসাব থেকে কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই শুধু স্বাক্ষর দিয়ে প্রতি মাসে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা নিয়েছেন তিনি। কর্মকর্তারা এ বিষয়ে ভাউচার চাইলে তিনি বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে ব্যাংক চালাতে হয়। এ টাকা আমি কোথা থেকে আনব। ব্যাংককেই দিতে হবে।
এছাড়া তার উগ্র আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও গ্রাহক। অল্পতেই রেগে গিয়ে কর্মকর্তাদের তুই-তুকারিতে সম্বোধন করেন বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক কর্মকর্তা। এক গ্রাহকের সামনে ব্যাংকের এক কর্মকর্তাকে ‘তুই’ বলে ডাকলে ওই কর্মকর্তা তার কথার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওই কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন শাখা ব্যবস্থাপক। বর্তমানে ওই কর্মকর্তাকে ব্যাংকের আরেক শাখায় বদলি করা হয়েছে।
এছাড়া এক গ্রাহকের সঙ্গে বাদানুবাদের এক পর্যায়ে হাতাহাতিতে মেতে ওঠার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। পরবর্তীকালে স্থানীয়রা ও ব্যাংকে উপস্থিত গ্রাহক পরিস্থিতি সামাল দেন। এ ঘটনায় ব্যাংকের পক্ষ থেকে রামপুরা থানায় জিডি পর্যন্ত করা হয়েছে।
ঘটনার পরদিনই ইসলামী ব্যাংকের উত্তর জোন-প্রধান আমিনুর রহমান রামপুরা শাখায় যান। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকে ঘটনার বিবরণ জেনে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন। এ বিষয়ে আমিনুর রহমান শেয়ার বিজকে বলেন, ‘রামপুরা শাখার বিষয়ে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকে তদন্ত করা হচ্ছে। আমি তদন্ত করছি না।’
অভিযোগের বিষয়ে রামপুরা শাখা ব্যবস্থাপক মনিরুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে শেয়ার বিজকে বলেন, ‘নিয়ম ছাড়া ব্যাংকের হিসাব থেকে অর্থ নেওয়ার সুযোগ নেই। আর এটি ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এটা দেখার জন্য হেড অফিস আছে।’
দুর্ব্যবহার ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিতের বিষয়ে জানতে চাইলে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি বলেন, ‘ভিত্তিহীন কথা। কোনো কর্মকর্তাকে মারা হয়নি। এটা ব্যাংকের বিষয়, ব্যাংক দেখবে। আপনি কেন জানতে চাইছেন।’ রামপুরা থানার জিডি প্রসঙ্গে বলেন, ‘এটি ব্যাংক কর্মকর্তারা করেছেন।’
সূত্র জানিয়েছে, রামপুরা শাখার বর্তমান এ ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে পূর্বের শাখায়ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে ব্যাংকের এক কর্মকর্তা পরিচালনা পর্ষদের এক পরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন। ওই শাখা থেকেও বিব্রত অবস্থায় তাকে সরানো হয়। বর্তমান শাখায় একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি করায় তার বিরুদ্ধে বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে প্রধান কার্যালয় থেকে।
ইসলামী ব্যাংকের কয়েকজন ভুক্তভোগী গ্রাহক বলেন, রামপুরা শাখার বর্তমান ব্যবস্থাপকের আচরণ ইসলামী ব্যাংকের আদর্শের সঙ্গে বেমানান। শুধু ইসলামী ব্যাংকই নয়, কোনো ব্যাংকের এ পর্যায়ের কর্মকর্তা অশালীন ও উগ্র আচরণ করতে পারেন না গ্রাহকের সঙ্গে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ব্যাংক। গ্রাহক অতিষ্ঠ হয়ে অন্য ব্যাংকে চলে যাওয়ার কথা ভাবছেন। ইতোমধ্যে তার দুর্ব্যবহারের কারণে এক নারী গ্রাহক তাৎক্ষণিক হিসাব বন্ধ করে টাকা তুলে নিয়ে গেছেন সম্প্রতি।