প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

আর্থিক খাতে পতন, অন্যান্য খাতে মিশ্র প্রবণতা

শেখ আবু তালেব: দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গত সপ্তাহে চার কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছে। এ সময়ে আর্থিক খাতগুলোর সবগুলোরই পতন হয়েছে। অপরদিকে আর্থিক খাত ছাড়া অন্য খাতগুলোতে শেয়ারদর বৃদ্ধির পাশাপাশি কয়েকটিতে পতনও হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের লেনদেনে অংশগ্রহণ কমায় সপ্তাহ শেষে প্রধান সূচক কমেছে এক দশমিক ৫১ শতাংশ বা ৮৫ দশমিক ৬৭ পয়েন্ট আগের সপ্তাহের চেয়ে।
ডিএসইর গত সপ্তাহের লেনদেন চিত্র বিশ্লেষণ করে পাওয়া গেছে এমন তথ্য। সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে সরকারি ছুটি থাকায় লেনদেন শুরু হয় গত সোমবার। সপ্তাহ শেষে নেতিবাচক ধারায় লেনদেন শেষ করে বাজারটি। বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ আগের সপ্তাহের চেয়ে ২৫ দশমিক ৪০ শতাংশ কমে যায়। এর প্রভাব ও কার্যদিবস কমে যাওয়ায় লেনদেন কমেছে ৪০ দশমিক ৩৬ শতাংশ। একইসঙ্গে বাজার মূলধন কমেছে এক দশমিক ১৩ শতাংশ বা চার হাজার ৭৫১ কোটি টাকা। কমেছে লেনদেনের সংখ্যাও।
গত সপ্তাহে ডিএসইতে মোট ৩৫২টি সিকিউরিটিজ অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে শেয়ারদর বৃদ্ধি পেয়েছে ১০৫টির বা ২৯ দশমিক ৮৩ শতাংশ, কমেছে ২২৩টির বা ৬৩ দশমিক ৩৬ শতাংশ, অপরিবর্তিত ছিল ২২টির বা তিন দশমিক ৯৬ শতাংশ এবং লেনদেন হয়নি দুটি সিকিউরিটিজের শেয়ার।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ব্যাংক খাতের শেয়ারদর পতনের কারণ ছিল খাতটিতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধির সংবাদ। একইসঙ্গে তথ্য বলছে, দশটিরও বেশি ব্যাংক মূলধন সংকটে পড়েছে। ব্যাংকগুলোতে চলছে বার্ষিক হিসাবনিকাশ চূড়ান্ত করার প্রস্তুতি। হিসাব চূড়ান্ত হলে ব্যাংকগুলোর আর্থিক সক্ষমতা ও ডিভিডেন্ড দেওয়ার বিষয়টি বোঝা যাবে। তবে বিনিয়োগকারীরা এখন থেকেই চুলচেরা বিশ্লেষণ করছেন ব্যাংকের বিভিন্ন সূচকের।
তথ্য বলছে, আর্থিক খাতের মধ্যে সাধারণ বিমা খাতে সবচেয়ে বেশি চার দশমিক ৩৫ শতাংশ দরপতন হয়েছে। এছাড়া মৌলভিত্তির ব্যাংক খাতে তিন দশমিক ১১ শতাংশ, জীবন বিমায় দুই দশমিক ১৩ শতাংশ ও মিউচুয়াল ফান্ডে এক দশমিক ১৪ শতাংশ দরপতন হয়েছে। অপরদিকে আর্থিক খাতের বাইরে টেলিকম খাতটি গত সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি গেইন করেছে। খাতটি সর্বোচ্চ দুই দশমিক ২৬ শতাংশ গেইন করেছে। এর পরই ওষুধ খাতটি গেইন করেছে শূন্য দশমিক ৩৫ শতাংশ। এছাড়া খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতে দুই দশমিক ১২ শতাংশ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিতে এক দশমিক ৯২ শতাংশ ও প্রকৌশল খাতে এক দশমিক শূন্য তিন শতাংশ শেয়ারদর পতন হয়েছে।
লেনদেনের তথ্য বলছে, ডিএসইতে মোট লেনদেনে গত সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি ১৭ শতাংশ অবদান ছিল ব্যাংক খাতের। এছাড়া মোট লেনদেনে অন্যান্যর মধ্যে সিমেন্ট খাতের দুই শতাংশ, প্রকৌশল খাতের ১৩ শতাংশ, খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের আট শতাংশ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ১১ শতাংশ, সাধারণ বিমার পাঁচ শতাংশ, জীবন বিমার এক শতাংশ, আইটি খাতের দুই শতাংশ, বস্ত্র খাতের আট শতাংশ, ওষুধ খাতের ১৪ শতাংশ ও ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের চার শতাংশ অবদান ছিল।
গত সপ্তাহে শেয়ার বৃদ্ধিতে শীর্ষ ১০টি কোম্পানির মধ্যে ৯টিই ছিল ‘এ’ ক্যাটেগরির শেয়ার। শুধু ফাইন ফুডস ছিল ‘বি’ ক্যাটেগরির। শীর্ষে থাকা ইস্টার্ন কেব্লসের শেয়ারদর বৃদ্ধি পেয়েছে ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ। এর পরই শেয়ারদর বেড়েছে রেনউইক যজ্ঞেশ্বরের ১১ দশমিক ১০ শতাংশ, ফাইন ফুডসের ১০ দশমিক ৯৯ শতাংশ, রেকিট বেনকিজারের ১০ দশমিক ৭৯ শতাংশ, রূপালী লাইফের ৯ দশমিক ৬১ শতাংশ, ম্যারিকো বাংলাদেশের আট দশমিক ৪২ শতাংশ, রংপুর ফাউন্ড্রির সাত দশমিক ৫১ শতাংশ, বিডি অটোকারসের পাঁচ দশমিক ৪৮ শতাংশ, জিএমআই সিরিঞ্জ অ্যান্ড মেডিক্যাল ডিভাইসেসের পাঁচ দশমিক ৩৮ শতাংশ ও লিব্রা ইনফিউশনসের পাঁচ দশমিক ২০ শতাংশ।
অপরদিকে দর হারানোর শীর্ষে রয়েছে বিমা খাতের ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্স। কোম্পানিটি গত সপ্তাহে ২৮ দশমিক শূন্য আট শতাংশ শেয়ারদর হারায়। এর পরই দর হারানোর তালিকায় রয়েছে মুন্নু সিরামিক ১০ দশমিক ৪০ শতাংশ ও বিচ হ্যাচারি ১০ দশমিক ৩৬ শতাংশ।

সর্বশেষ..



/* ]]> */