আর্থিক প্রতিবেদন তৈরিতে আসছে বড় পরিবর্তন

নিজস্ব প্রতিবেদক: কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন প্রস্তুত করতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। আর্থিক প্রতিবেদন আরও বিনিয়োগকারীবান্ধব করতে আনা হচ্ছে এ পরিবর্তন। বেশকিছু তথ্য সংযোজন, পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা ও কোম্পানির পরিচালনা ব্যবস্থার চিত্র তুলে ধরে পরিবর্তন করা হচ্ছে আর্থিক ধারণাপত্রে। এতে কোম্পানির পাশাপাশি অ্যাকাউনট্যান্টদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে। অপরদিকে নতুন ধারণাপত্রে সম্পদ ও দায় ব্যাখ্যায় অতিমূল্যায়িত হওয়ার শঙ্কা দেখছেন বাংলাদেশের চার্টার্ড অ্যাকাউনট্যান্টরা।
গতকাল চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টদের এক সম্মেলনে এ কথা বলেন বক্তারা। রাজধানী ঢাকার কারওয়ান বাজারে অবস্থিত নিজ কার্যালয়ে সদস্যদের জন্য এ সম্মেলনের আয়োজন করে দি ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএবি)। সংস্থাটির সভাপতি দেওয়ান নুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনটিতে প্রধান অতিথি ছিলেন ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলের (এফআরসি) চেয়ারম্যান সি কিউ কে মুস্তাক আহমেদ।
মূল প্রবন্ধে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট স্নেহাশীষ বড়–য়া বলেন, ইন্ট্যারন্যাশনাল অ্যাকাউনন্টিং স্ট্যান্ডার্ড বোর্ড (আইএএসবি) কর্তৃক নির্ধারিত মানদণ্ডে আনা হচ্ছে এ পরিবর্তন। বাংলাদেশে বাস্তবায়িত হবে ২০২০ সালের জানুয়ারি মাস থেকে। মূলত কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন তৈরির ধারণাপত্রে (কনসেপ্ট) বড় পরিবর্তন এনেছে আইএএসবি। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে নীতিগত কোনো পরিবর্তন করা হবে না। তবে অনেক বিষয়ের নিখুঁত ব্যাখ্যা থাকবে।
তিনি প্রবন্ধে উল্লেখ করেন, বর্তমানে আর্থিক প্রতিবেদনে কোম্পানির সম্পদ ও দায়, ও অর্থপ্রবাহের খুঁটিনাটি ব্যাখ্যা উল্লেখ থাকে না। কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনার অবস্থান কেমন তা পরিষ্কার ফুটে উঠে না অনেক ক্ষেত্রেই। কোন পক্ষের দায় কতটুকু কেমন তা জানতে কষ্ট হয়। ফলে আর্থিক প্রতিবেদনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তোলেন। অনেক সময়েই সব প্রশ্নের উত্তর দিতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। বোদ্ধা বিশ্লেষকরাই শুধু তা বুঝতে পারেন, কিন্তু সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য এ আর্থিক প্রতিবেদন দুর্বোধ্য হয়। নতুন ধারণাপত্রে চার্টার্ড অ্যাকাউনট্যান্টরা এ বিষয়গুলো তুলে ধরবেন।
তথ্যবহুল আর্থিক প্রতিবেদনের ফলে একজন সাধারণ বিনিয়োগকারী সহজেই একটি কোম্পানির সম্যক পরিস্থিতি বুঝতে পারবেন। নতুন ধারণাপত্র শুধু কোম্পানির আর্থিক দিকটিই তুলে ধরবে না, একইসঙ্গে কোম্পানির ভবিষ্যৎ বিষয়েও একটি ধারণা পাবেন বিনিয়োগকারীরা। ব্যবস্থাপনায় পর্ষদ কতটুকু মনোযোগী তাও দেখা হবে। এতে কোম্পানির অনেক বিষয়েই তুলে ধরতে হবে, যা এখন নেই। এজন্য নতুন ধারণাপত্র সম্পর্কে বাংলাদেশের চার্টার্ড অ্যাকাউনট্যান্টদের এখনই বুঝতে হবে।
আইসিএবির ভাইস প্রেসিডেন্ট মাহমুদুল হাসান খসরুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন চার্টার্ড অ্যাকাউনট্যান্ট সাব্বির আহমেদ, এসকে আশিক ইকবাল, রোকুনুজ্জামান, ওয়াসিউল হক রিগ্যান, এসকে তরিকুল ইসলাম প্রমুখ।
আলোচকরা বলেন, পরিচালনা পর্ষদকেই কোম্পানির ব্যবস্থাপনার বিষয়ে নজরদারি করতে হয়। নতুন পদ্ধতির বেশকিছু বিষয় সরকারের বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও আইনের সঙ্গে দ্বন্দ্ব তৈরি করতে পারে। এ বিষয়টি চিহ্নিত করা দরকার। নতুন ধারণাপত্র একটি কোম্পানির সম্যক চিত্র তুলে ধরে সম্ভাবনাকেও উল্লেখ করা হবে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সম্পদ ও দায়ের তথ্য তুলে ধরার ক্ষেত্রে অতিমূল্যায়িত করার শঙ্কা তৈরি করতে পারে। বিষয়টি সরকারি বিভিন্ন দফতর ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাকেও বুঝতে হবে। নইলে আর্থিক প্রতিবেদন তৈরিকারকদের সঙ্গে সরকারি আমলাদের দ্বন্দ্বের সৃষ্টি করবে।
এজন্য তাত্ত্বিক বিষয়টির দিকেও নজর দিতে হবে। অনেক বিষয়ে আরও বিস্তৃত তথ্য দেওয়া হবে, যাতে কোম্পানির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আরও বাড়বে। এতে চার্টার্ড অ্যাকাউনট্যান্টদের জবাবদিহিতা বাড়বে এবং কোম্পানিতে নতুন বিনিয়োগে সিদ্ধান্ত নিতে তা সহযোগিতা করবে বিনিয়োগকারীদের।