সম্পাদকীয়

আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত চিত্র বুঝে ব্যবস্থা নিন

আমাদের দেশে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তথ্য গোপন কিংবা প্রকৃত তথ্য না দেওয়ার অভিযোগ পুরোনো। খেলাপি ঋণ, কর, বিনিয়োগ, লাভ-লোকসানসহ বিভিন্ন বিষয়ে সঠিক তথ্য দেয় না এসব প্রতিষ্ঠান। এতে সংশ্লিষ্ট খাতের প্রকৃত অবস্থা যাচাই সম্ভব না হওয়ায় অনিয়ম করলেও প্রতিকারে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারে না নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো। এতে গ্রাহক প্রতারিত হতে পারে, ঋণখেলাপি প্রশ্রয় পেতে পারে, রাজস্ব আহরণে লক্ষ্যমাত্রা অনর্জিত থাকতে পারে। এ তিনটিই অর্থনীতিকে এগিয়ে নেওয়ার পথে অন্তরায়।
অনিয়ম, সীমাবদ্ধতাবিষয়ক তথ্য বেশি দিন গোপন রাখা সম্ভব নয়। বছর শেষে প্রত্যাশিত অগ্রগতি না হলে কিংবা লোকসান হলে সেটি একসময় প্রকাশ হয়ে পড়ে। ওপরে ভালো দেখালেও সূচকের অবনমনসহ কয়েকটি বিষয় দৃশ্যমান হয়। কিন্তু ততদিনে অনেকে ক্ষতিগ্রস্ত হন। তবে দেরিতে হলেও আর্থিক খাতের প্রকৃত অবস্থার চিত্র উঠে আসবে বলেই আমাদের ধারণা। গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত ‘প্রকৃত অবস্থা মূল্যায়ন: সব আর্থিক প্রতিষ্ঠানের তথ্য নিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক’ শীর্ষক প্রতিবেদন থেকে সেটিই প্রতীয়মান।
খবরে জানা যায়, ঋণ বিতরণে অনিয়ম, আর্থিক কেলেঙ্কারি, আগ্রাসী বিনিয়োগ ও ভুয়া ঋণে জর্জরিত হয়ে পড়ছে ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো (এনবিএফআই)। কিছু ক্ষেত্রে ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারিকেও হার মানিয়েছে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। আমানত সংকটে গ্রাহকের অর্থও ফেরত দিতে পারছে না অনেক প্রতিষ্ঠান। এতে ৩৪ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ডজনখানেকের আর্থিক বিভিন্ন সূচকের অবনমন ঘটেছে। এ অবস্থায় সব আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত চিত্র জানতে উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে আমানত, দায়, খেলাপি ঋণ, বড় গ্রাহক, ঋণ অবলোপন, সুদ মওকুফের সুবিধাভোগী, সম্পদের তথ্য, বেতন কাঠামো, বিনিয়োগের ক্ষেত্র, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও পরিচালনা পর্ষদ সদস্যদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য নেবে বাংলাদেশ ব্যাংক।
আমাদের বিশ্বাস, চাহিত তথ্যগুলো যথানিয়মে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে সরবরাহ করবে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো। এ ক্ষেত্রে তাদের কোনো ধরনের অসহযোগিতা কাম্য নয়। ঋণ অনিয়ম ও দুর্নীতির দায়ে একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান অবসায়ন হওয়া থেকে তারা শিক্ষা নিতে পারে।
প্রকৃত অবস্থা আগেই মূল্যায়ন করা হলে পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেডকে হয়তো অবসায়নের শিকার হতে হতো না। আমাদের বিশ্বাস, সংগৃহীত তথ্যাবলি যাচাই-বাছাই করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক খাতের প্রকৃত অবস্থা অনুধাবনে সক্ষম হবে এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিলে এ খাত ঘুরে দাঁড়াবে। সে ক্ষেত্রে অবশ্যই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ থাকতে হবে। অধীন প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ সদস্যদের অনৈতিক চাপ মোকাবিলার সক্ষমতা থাকলেই ব্যবস্থা নিতে পারবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

সর্বশেষ..



/* ]]> */