হোম শেষ পাতা ‘আর্থিক প্রতিষ্ঠানের রিফাইন্যান্স ঋণের সুদ তিন শতাংশ হওয়া উচিত’

‘আর্থিক প্রতিষ্ঠানের রিফাইন্যান্স ঋণের সুদ তিন শতাংশ হওয়া উচিত’


Warning: date() expects parameter 2 to be long, string given in /home/sharebiz/public_html/wp-content/themes/Newsmag/includes/wp_booster/td_module_single_base.php on line 290

বাংলাদেশ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের (বিডি ফাইন্যান্স) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুম। তিন দশক ধরে ব্যাংক খাতে কাজ করার পর সম্প্রতি তিনি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন। সর্বশেষ মার্কেন্টাইল ব্যাংক লিমিটেডের উপব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন। সম্প্রতি শেয়ার বিজের সঙ্গে আর্থিক খাতের বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা বলেছেন মোহাম্মদ মাসুম। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন তানিয়া আফরোজ

শেয়ার বিজ: মাত্র দুই-তিনটি ছাড়া অন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ‘ব্র্যান্ড ভ্যালু’ সৃষ্টি করতে পারেনি। নিজের প্রতিষ্ঠানকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?

মোহাম্মদ মাসুম: আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বাণিজ্যিক কার্যক্রম গতিশীল করার ক্ষেত্রে ব্র্যান্ড ভ্যালুর একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে এবং যা নির্ভর করে এদের শক্তিশালী আর্থিক ভিত এবং গুড-গভর্ন্যান্সের ওপর। বিডি ফাইন্যান্স যদিও আইডিএলসি বা লংকাবাংলার মতো অবস্থান সুদৃঢ় করতে পারেনি, তবে আমি বিশ্বাস করি বিডি ফাইন্যান্সকে আর্থিক খাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা হিসেবে বিকাশ ঘটানোর যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। আমাদের পরিচালনা পর্ষদ বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনায় স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর যথেষ্ট গুরুত্বারোপ করে থাকে, যা আমি মনে করি গুড-গভর্ন্যান্সের একটি অন্যতম পূর্বশর্ত। আমি আশাবাদী, বিডি ফাইন্যান্স এই প্রতিযোগিতামূলক আর্থিক খাতে নিজের অবস্থানকে সুদৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে।

শেয়ার বিজ: শ্রেণীকৃত ঋণ নিয়ন্ত্রণে কী ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছেন?

মোহাম্মদ মাসুম: যে কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্যই শ্রেণীকৃত ঋণ একটি প্রতিবন্ধকতা। শ্রেণীকৃত ঋণকে নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য এবং নতুনভাবে যাতে শ্রেণীকৃত ঋণ সংযোজিত না হয়, সেক্ষেত্রেও যথার্থ গুরুত্ব আরোপ করা হচ্ছে। শ্রেণীকৃত ঋণ যে কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ভিতকে দুর্বল করে তোলে। আমরা এই প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণকে নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য ‘টাইম বাউন্ড’ পরিকল্পনা নিয়েছি, যেখানে প্রতি প্রান্তিকভিত্তিক কর্মপদ্ধতি গ্রহণ করার পরিকল্পনা রয়েছে। খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনার লক্ষ্যে এবং আমাদের নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনের জন্য সঠিক কর্মপ্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

দুই ধরনের ঋণখেলাপি আছে। একটি হচ্ছে ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি, অর্থাৎ যাদের সমক্ষতা আছে, কিন্তু ঋণ ফেরতের ইচ্ছা নেই। এই ধরনের ঋণখেলাপি যথেষ্ট তাগিদ দেওয়ার পরও আর্ধিক দায় পরিশোধের ব্যাপারে প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে না। এদের বিরুদ্ধে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি।

খেলাপি ঋণ হওয়ার অন্যতম কারণ হলো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণ প্রস্তাবনা মূল্যায়ন করার সময় ঋণগ্রহীতার আর্থিক অবস্থার ওপর প্রকৃত গুরুত্ব না দিয়ে কোল্যাটারাল সিকিউরিটির ওপর অধিকতর গুরুত্ব আরোপ করে থাকে। আমাদের মনে রাখতে হবে যে, সিকিউরিটি মাস্ট বি কাম ফ্রম দ্য বিজনেস ইটসেলফ অ্যান্ড কোল্যাটারাল ক্যান নট বি দ্য সাবস্টিটিউট ফর রিপেমেন্টÑঅর্থাৎ কোনো ব্যবসা নিজেই ঋণের নিরাপত্তা দান করে এবং জামানত কখনোই ঋণ-পরিশোধের বিকল্প হতে পারে না।

এ কথা বলার অর্থ এই নয় যে, আমি কোল্যাটারালকে একবারেই গুরুত্ব দিচ্ছি না, বরং বলতে চাইছি ব্যবসার ঝুঁকিমাত্রা এবং কোল্যাটারালের মধ্যে একটি সমন্বয় সাধন করে ঋণ প্রস্তাবনা অনুমোদনের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এক্ষেত্রে ‘ওয়ান সাইজ ফিটস অল,’ অর্থাৎ সবার জন্য একই মূল্যমানের কোল্যাটারালের প্রয়োজন নেই। ওয়ান সাইজ ফিটস অলÑএই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। এটাই ঋণ প্রস্তাবনা বিবেচনা করার ক্ষেত্রে প্রাধান্য পাওয়া উচিত। কোল্যাটারালের পর্যাপ্ততা বা অপর্যাপ্ততা নির্ভর করবে ঋণদাতা, ঋণগ্রহীতা ও বিজনেস রিস্ক পারসেপশনের ওপর। আবার ঋণগ্রহীতার ক্রেডিট রেটিং স্ট্যাটাসের ওপরও এটা নির্ভর করে।

কিন্তু অনেকে আছেন, যারা  ভুল পরিকল্পনা অথবা বাজার পরিস্থিতি না বোঝার কারণে ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখে পড়ে ঋণ ফেরত দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। এদের ব্যাপারে অর্থলগ্নিকারী প্রতিষ্ঠানকে সহযোগী মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। লগ্নিকারী প্রতিষ্ঠানকে ‘ডক্টর অব দ্য বিজনেস’-এর ভূমিকা পালন করতে হবে। এক্ষেত্রে ঋণগ্রহীতা কীভাবে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত, সেটা যে কারণেই হোক না কেন তার ওই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য তার খেলাপি ঋণকে পুনঃতফসিলীকরণ করার উদ্যোগ নিতে হবে।  সেক্ষেত্রে ওই ব্যক্তির সামর্থ্যরে ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রয়োজনীয় সময়সীমা পর্যন্ত বর্ধিত করতে হবে। প্রয়োজনবোধে ওয়ার্কিং ক্যাপিট্যালের সাপোর্ট প্রদান করতে হবে, যাতে করে তার ব্যবসায়িক কার্যক্রমকে পুনরুজ্জীবিত করার ক্ষেত্রে সে যথাযথ ভূমিকা পালন করতে পারে।

শেয়ার বিজ: আগামী পাঁচ বছরে কী পরিকল্পনা রয়েছে?

মোহাম্মদ মাসুম: আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে আমাদের পরিকল্পনা হচ্ছে বিডি ফাইন্যান্সকে প্রথম সারির একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে অন্তর্ভুক্ত করা, যেখানে বিডি ফাইন্যান্স তার নিজস্ব ব্র্যান্ডেড স্বকীয়তা অর্জন করতে সক্ষম হবে।

শেয়ার বিজ: প্রথম সারিতে আসতে কী পদক্ষেপ নিয়েছেন?

মোহাম্মদ মাসুম: প্রথমত, আমরা আমাদের ব্যালেন্সসিটগত দুর্বল জায়গাগুলোকে চিহ্নিত করে ‘কেপিআই’ভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ করার উদ্যোগ নিয়েছি। এ উদ্দেশ্যে আমরা বছরভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছি, যাতে ‘কী পারফরম্যান্স ইনডিকেটরস’ প্রতি বছরান্তে একটা পর্যায়ে যেতে পারে। আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণদান ও লিজ পোর্টফোলিও ম্যানেজমেন্টকে সুচারুভাবে ব্যবস্থাপনা করা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বড় চ্যালেঞ্জ হলো একদিকে কস্ট অব ফান্ড, অন্যদিকে খেলাপি ঋণগুলোকে নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা। প্রতিষ্ঠানের আর্থিক স্বাস্থ্য নির্ভর করে তার লিজ এবং ঋণ পোর্টফোলিওর গুণগত মানের ওপর এবং পোর্টফোলিও থেকে উপার্জন সক্ষমতার ওপর। একটি খেলাপি ঋণ একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের উপার্জন ক্ষমতার ওপরে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। কারণ খেলাপি ঋণের শ্রেণীবিন্যাসের ওপর নির্ভর করে একদিকে নির্দিষ্ট সঞ্চিতি রাখতে হয়। অন্যদিকে খেলাপি ঋণ থেকে অর্জিত সুদ ইনকামে নেওয়ার কোনো সুযোগ তো নেই-ই, বরং সেটা ইন্টারেস্ট সাসপেন্সে রাখতে হয়। কিন্তু ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে তার আমানতের সুদ যথাযথভাবে গ্রাহককে প্রদান করতে হয়। আমাদের মনে রাখতে হবে, খেলাপিদের কাছে যে অর্থ অনাদায়ী রয়ে গেছে, তার বিরাট অংশই সাধারণ আমানতকারীদের অর্থ।

সামগ্রিকভাবে কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে ট্রান্সফরমেটিভ চেঞ্জের মধ্য দিয়ে একটি অবস্থানে নিয়ে আসা অবশ্যই চ্যালেঞ্জিং। কিন্তু এটাও মনে রাখা দরকার যে, চ্যালেঞ্জই সুযোগ সৃষ্টি করে। একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তার নিজস্ব প্রতিষ্ঠানগত কিছু চ্যালেঞ্জ ও দুর্বলতা থাকে। অভ্যন্তরীণ এবং বাহ্যিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই একটি প্রতিষ্ঠানকে এগোতে হয়।

আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনার মূলই হলো ব্যালেন্সশিট ম্যানেজমেন্ট। আমরা জানি, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের সহযোগী ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অসম প্রতিযোগিতার সম্মুখীন। আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ফান্ড ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমে তহবিল ব্যয় কমিয়ে আনার চেষ্টার সঙ্গে এদের নন-পারফরমিং লিজ লোনস পোর্টফোলিও কমিয়ে আনার প্রচেষ্টা ত্বরান্বিত করা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমরা খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনার জন্য ক্র্যাস প্রোগ্রামের মাধ্যমে নিরন্তর প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছি।

পোর্টফোলিও বহুমুখীকরণের মাধ্যমে ঝুঁকি কমানোর জন্য আমরা ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠানকে ঋণদানে প্রাধান্য দিচ্ছি। এজন্য প্রয়োজনীয় প্রডাক্ট ডেভেলপ করে ক্লাস্টারভিত্তিক অর্থায়নের উদ্যোগ নিয়েছি। আশা করি সৃজনশীল ও কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করলে আর্থিক উন্নয়ন সহজসাধ্য হয়ে উঠবে।

শেয়ার বিজ: এখন নেটওয়ার্ক প্রসারের ক্ষেত্রে অনেকেই ব্রাঞ্চ বাড়ানোর পক্ষপাতী নন! এ ব্যাপারে কী ভাবছেন?

মোহাম্মদ মাসুম: ব্রাঞ্চ বাড়ালে কিছু ভৌগোলিক ডিভিডেন্ড পাওয়া যায়। সীমাবদ্ধতার মধ্যেও আমরা চেষ্টা করছি এ বছর দু-তিনটা ব্রাঞ্চ করবো। ঢাকার মধ্যে গুলশানে এবং বাইরে গাজীপুর ও সাভারে ব্রাঞ্চ করার উদ্যোগ নিয়েছি। আর্থিক অন্তর্ভুক্তির অংশ হিসেবে আমরা মানুষের দোরগোড়ায় বিডি ফাইন্যান্সকে নিয়ে যেতে চাইছি। ক্ষুদ্র ও মাঝারি জনগোষ্ঠীকে ফোকাস করছি। এক্ষেত্রে ক্লাস্টারভিত্তিক অর্থায়নের পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের।

শেয়ার বিজ: গত কয়েক মাসে বিডি ফাইন্যান্সের শেয়ারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে। এটিকে কতটা টেকসই মনে করছেন?

মোহাম্মদ মাসুম: আপনারা জানেন যে, শেয়ার বাজারের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সংযোগ থাকে না। তবে ফিন্যান্সিয়াল ফান্ডামেন্টালস ভালো হলে এবং অন্য ইনডিকেটরগুলো ইতিবাচক ভূমিকা রাখলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বেড়ে যায়, যার প্রতিফলনই ঘটে শেয়ারের মূল্যমানের ওপরে, তা বলার

অপেক্ষা রাখে না।

শেয়ার বিজ: ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সুযোগ ও চ্যালেঞ্জকে কীভাবে দেখেন?

মোহাম্মদ মাসুম: বর্তমানে ৫৭টি ব্যাংক ও প্রায় ৩৪টি নন-ব্যাংকিং অর্থিক প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। এখানে উল্লেখ্য, নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাংকের সঙ্গে এক অসম প্রতিযোগিতার সম্মুখীন। ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকেও বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রুডেনশিয়াল গাইড লাইনের আওতায় কাজ করতে হয়। সর্বোপরি নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের গুরুত্ব কোনোভাবেই ছোট করে দেখার অবকাশ নেই।

চ্যালেঞ্জকে সুচারুভাবে মোকাবিলা করার স্বার্থেই নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কার্যক্রম গতানুগতিক লিজ ফাইন্যান্সিংয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেনি, অধিকন্তু তারা ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানের মতোই প্রজেক্ট ফাইন্যান্স থেকে শুরু করে ওয়ার্কিং ক্যাপিটালে অর্থায়ন করে থাকে। আমি বলব, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাংকের তুলনায় বেশি স্ট্রাকচার্ডভাবে কাজ করে। ব্যাংকের তুলনায় দ্রুত গতিতে ক্রেডিট অ্যাসেসিং করে থাকে।

আর্থিক প্রতিষ্ঠানের তহবিল ব্যয় (কস্ট অব ফান্ড) কম রাখার সুযোগ সীমিত। ব্যাংকগুলোর কম খরচে এমনকি বিনা খরচেও আমানত আহরণ করার সুযোগ রয়েছে,  নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর তা একেবারে নেই বললেই চলে। তাছাড়া ব্যাংকগুলো নন-ফান্ডেড বিজনেসের মাধ্যমে মার্জিন আকারে ফ্রি ফ্লোট ডিপোজিট মোবিলাইজ করতে পারে। নন-ফান্ডেড ডিলিংস, যেমন এলসি, গ্যারান্টি এসব জায়গায় ব্যাংকগুলো এককভাবে তাদের কার্যক্রম চালাতে পারে।

শেয়ার বিজ: আর্থিক খাতের অগ্রগতিকে ত্বরান্বিত করতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে কোনো প্রত্যাশা আছে কি?

মোহাম্মদ মাসুম: বাংলাদেশ ব্যাংক প্রধান নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে ইতিবাচক এবং প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করে। এর ফলে ব্যাংকিং এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে গুণগত মান উন্নয়নের ধরাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে। কেননা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ‘লো-কস্ট’ এবং ‘নো-কস্ট’ আমানত আহরণ করতে পারে না। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এটি বিবেচনায় রাখতে পারে।

ব্যাংকের তুলনায় কম হারে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের রিফাইন্যান্সিংয়ের সুদহার নির্ধারণ করতে পারে। আমি মনে করি, রিফাইন্যান্স ফ্যাসিলিটেটর ঋণের সুদহার আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য তিন শতাংশ হলে অযৌক্তিক হবে না। আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে গতিশীল করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিগত আনুকূল্য যথেষ্ট গুরুত্ব বহন করে।