ধারাবাহিক

আর্বিট্রেজ

মিজানুর রহমান শেলী : এ বছরের শেষ নাগাদ আমাদের প্রধান আর্বিট্রেজ অবস্থানে ছিল আরজেধার নাবিস্কোর ৩৩ লাখ ৪২ হাজার শেয়ার। এর খরচ ছিল ২৮১ দশমিক আট মিলিয়ন ডলার এবং তার বাজারমূল্য ছিল ৩০৪ দশমিক পাঁচ মিলিয়ন ডলার। জানুয়ারি মাসে আমরা এই শেয়ার আরও বাড়ালাম। আনুমানিক বলা চলে, প্রায় চার মিলিয়ন শেয়ার খরিদ করলাম। আর ফেব্রুয়ারিতে আমাদের অবস্থান ছেড়ে দিলাম।
আমরা প্রথমেই প্রায় তিন মিলিয়ন শেয়ার ছেড়ে দিলাম। গ্রহণ করল কেকেআর। ফলে তারাই আরজেআরের অধিগ্রহণ করল এবং সেই ১৯৯৭ সালের অবস্থায় তারা আবার ফিলে গেল। শেয়ার খুব তাড়াতাড়িই বাজারে বিক্রি হয়ে গেল। আমাদের ট্যাক্স পূর্ববর্তী লভ্যাংশ কাক্সিক্ষত মানের চেয়ে অনেক বেশি হলো। এটা ৬৪ মিলিয়ন ডলারে গিয়ে শেষ হলো।
একেবারে শুরুতে অন্য পরিচিত মুখ আরজেআরের নিলাম প্রতিযোগিতায় নেমে পড়ল: জে পিৎজারের নাম এখানে উল্লেখ করতে চাই। তার সম্পর্কে আলোচনা এর আগেও করেছি। তিনি ছিলেন ফার্স্ট বোস্টন গ্রুপের একটি অংশ। তিনি একটি ট্যাক্স-সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবনা দিলেন। যোগি বেরির কথাকে তিনি উদ্ধৃত করতে গিয়ে বলেন, ‘সবকিছুর ওপর এটা আবারও ডেজা ভ্যু’।
যে সময়গুলোতে আমরা ছিলাম সব সময়ের জন্য খুব সাধারণভাবেই আরজেআরের ক্রেতা, তখন স্টকে আমাদের কার্যক্রম ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। কেননা, এ সময় সলোমন’স নিলাম দলে অংশ নিয়েছিল। রীতিমতো চার্লি ও আমি যদিও তখন সলোমনের ডিরেক্টর ছিলাম, তবুও আমরা সব ধরনের তথ্য থেকে একঘরে হয়ে ছিলাম। আমাদের কোনো তথ্য দেওয়া হতো না। বিশেষ করে এর একীভূতকরণ ও অধিগ্রহণ বিষয়ের সব তথ্য আমাদের থেকে গোপন করা হতো। আমরা বলেছি, এটা আসলে সেই পথÑযে পথে ওসব তথ্য পেয়েও আমাদের ভালো কিছু করার ছিল না। সত্য কথা হলো, মাঝে মাঝেই আমরা বার্কশায়ারের আর্বিট্রেজ পরিচালনার মধ্যে থাকতাম।
যদিও অপ্রচলিত পন্থাতেই সলোমন আরজেআরের কাছে একটি বড় প্রতিশ্রুতি চেয়ে প্রস্তাবনা দিয়েছিল। সেটা হলো, সলোমনের পরিচালকদের যেসব তথ্যপ্রাপ্তির প্রয়োজন রয়েছে, তা যেন আরজেআর দেয়। এমনকি সবিস্তার তথ্য তাদের আরজেআর দেবে এবং সলোমনের সব পরিচালকের এই লেনদেনে অন্তর্ভুক্ত করে রাখবে। তাই আরজেআরের শেয়ার বার্কশায়ার মাত্র দুবার কিনল। প্রথমত, ম্যানেজমেন্ট যখন তাদের বিক্রির পরিকল্পনা ঘোষণা করল, তার ক’দিন পরই। এ সময় সলোমন তখনও অংশ নেয়নি। দ্বিতীয়ত, অনেক দিন পর যখন আরজেআরের বোর্ড সিদ্ধান্ত নিল যে, তারা কেকেআরের আনুকূল্য দেখাবেÑতখন বার্কশায়ার শেয়ার কিনল। কেননা আমরা কার্যত অন্য সময় কিনতে পারি না: আমাদের ‘ডিরেক্টরশিপ’ খরচটি বার্কশায়ারের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অঙ্কের হিসাব।
১৯৮৮ সালের বার্কশায়ারের ফল বিবেচনায় আপনি হয়তো আশা করবেন, বার্কশায়ার ১৯৮৯ সালে আর্বিট্রেজে যেন গুদাম ভরে ফেলবে। কিন্তু আমরা তা করলাম না। আমরা পাঁকে পড়ে থাকলাম।
একটি বিশ্বাসযোগ্য যুক্তি এখানে দেখাতে চাই যে, কেন আমরা ১৯৮৯ সালে এত বেশি আর্বিট্রেজে ঝুঁকলাম না। কারণ হলো, আমাদের নগদ অর্থের পরিমাণ ছিল নিতান্তই কম। কেননা আমরা আমাদের ইক্যুইটির অবস্থান নিয়ে তখন ভেবেছিলাম, এ নিয়ে একটি নতুন সিদ্ধান্ত তখন আমাদের চলছিল। আমরা দীর্ঘ মেয়াদে ইক্যুইটির অবস্থানকে স্থির রাখতে চেয়েছিলাম। এমনকি এটা বিশালতায় স্থির রাখাটাই ছিল আমাদের সে সময়ের আকাক্সক্ষা। আপনারা যারা এই রচনাবলির নিয়মিত পাঠক, তারা জানেন আমাদের নতুন প্রতিশ্রুতি স্টক মার্কেটের স্বল্পমেয়াদি সম্ভাবনার ওপর দাঁড়িয়ে ছিল না। বরঞ্চ তা একটি দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসা সম্ভাবনার মতামত ব্যক্ত করে আসছিল। অবশ্য এ সিদ্ধান্ত কেবল বিশেষ কিছু কোম্পানির সঙ্গে ব্যবসার উদ্দেশ্যে নিয়েছিলাম। আমাদের নেই, কখনও ছিল না এবং কখনও এমন মতামত থাকবে না যে, আমরা এখন থেকে মাত্র এক বছরের জন্য স্টক মার্কেট, সুদহার বা ব্যবসা কার্যক্রম পরিচালনা করব।
এমনকি আমাদের যদি বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ থাকে, তবুও আমরা অনেক বেশি আর্বিট্রেজে যাব না। আমরা বস্তুত ১৯৮৯ সালের মতোই স্বল্পপরিমাণ আর্বিট্রেজে যুক্ত থাকব। তবে অধিগ্রহণ-জাতীয় কোনো পরিস্থিতিতে কখনওবা আমরা একটু বেশি পরিমাণ অর্থ ঢালতে পারি। সেটি ভিন্ন কথা নিশ্চয়ই। ডরোথি যেভাবে বলেছিলেন, সেভাবে যদি বলি: ‘টোটো, অনুভব করছি আমরা যেন আর কানসাসে নেই’।
তবে আমাদের কাছে ধারণা নেই যে, অতিরিক্ত কতদিন টিকিয়ে রাখা যায়। আবার এটাও জানি না কখন সরকারের মনোভাব পরিবর্তন হবে। ঋণদাতা ও ক্রেতারা সরকারকে সব সময় জ্বালানি দিতে থাকে। কিন্তু আমরা জানি, যাদের সঙ্গে অন্যদের সম্পর্কগুলো পরিচালিত হয়, ততই বেশি উৎপাদন ঘটবে তাদের সঙ্গেÑযাদের সঙ্গে নিজেদের সম্পর্কের বিষয়গুলো পরিচালিত হয়। আমাদের আর্বিট্রেজে লেনদেনে কোনো স্বপ্ন নেই; কেননা এটা লাগামহীন করে তোলে। তাছাড়া আমাদের দৃষ্টিতে এ ব্যবসায় ক্রেতা ও ঋণদাতা কারোই কোনো নিশ্চয়তা থাকে না। আমাদের কার্যক্রমে হার্ব স্টেইনের প্রজ্ঞা নিয়ে ভাবব। তিনি বলেন, ‘যদি কোনো কিছু চিরদিনের জন্য না চলে, তবে তা শেষ হবে’।
আপনাদের গত বছর বলেছিলাম, আমরা ১৯৮৯ সালে আর্বিট্রেজ নিয়ে খুব স্বল্পপরিমাণ কাজ করেছিলাম। আর এভাবেই বিষয়টি ধীরে ধীরে নিভে যায়। স্বল্পমেয়াদি ক্যাশ ইকুইভ্যালেন্টের তুলনায় আর্বিট্রেজ একটি স্বল্পমেয়াদি বিকল্প পন্থা। আর বছরের এ সময়ে আমরা তুলনামূলকভাবে অনেক কম নগদ ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছিলাম। বছরের বাকি সময়গুলোয় আমাদের বেশ ভালো অঙ্কের ক্যাশ হাতে থাকে। তাই বলে বছরের প্রথমে অনেক বেশি আর্বিট্রেজে অংশ নিতে হবেÑতা কিন্তু নয়। এর প্রধান কারণ করপোরেট লেনদেন, যা কোনো অর্থনৈতিক মেজাজ নির্মাণ করতে পারে না আমাদের কাছে। আর্বিট্রেজের মতো এ লেনদেনের কাজকর্ম বড্ড বোকামিপূর্ণ ক্রীড়া-কৌতুক হয়ে দোরগোড়ায় এসে আস্তানা গাড়ে। এ বিষয়ে ওয়াল স্ট্রিটের রে ডেভো বলেছেন: ‘পরীরাও যেখানে বাণিজ্য করতে ভয় পায়, সেখানে বোকারা ছুটে যায়’। মাঝে মাঝে আমরা আর্বিট্রেজে বিপুল পরিমাণ লগ্নি করে থাকি। কিন্তু এ কাজ তখনই করি যখন আমরা কোনো উদ্ভট কাজ করতে পছন্দ করি।

এই দর্শন রচনাবলি সম্পাদনা করেছেন লরেন্স এ. কানিংহ্যাম অনুবাদক: গবেষক, শেয়ার বিজ

সর্বশেষ..