আর নয় হজযাত্রীদের ভোগান্তি

মুসলিমদের এক ফরজ ইবাদত হজ। তা সত্ত্বেও প্রতিবছর হজের সময় এলেই নানা সমস্যার কথা জানা যায়। কোনো কোনো সময় হজের আগের দিন অপেক্ষমাণ অনেক যাত্রীকে বিশেষ ব্যবস্থায় হজ পালনের উদ্দেশ্যে রওনা হতে হয়। গতকাল শেয়ার বিজের শেষের পাতায় প্রকাশিত ‘এখনও অবিক্রীত ১৫ হাজার টিকিট: হজ ফ্লাইট শুরু ১৪ জুলাই’ থেকে জানা যায়, আর মাত্র আট দিন পর থেকে হজ ফ্লাইট শুরু হচ্ছে। এ বছর বাংলাদেশ থেকে হজ পালনে যাবেন এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ হজযাত্রী। এদের ৫০ শতাংশ অর্থাৎ ৬৩ হাজার ৫৯৯ জনকে বহন করবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। হজের সময় নিয়মিত ফ্লাইটের চেয়ে অতিরিক্ত ১৫০টির বেশি ফ্লাইট পরিচালিত হয়। কিন্তু শঙ্কার বিষয়, হজযাত্রীদের বেশিরভাগের জন্য টিকিট কেনেনি হজ এজেন্সিগুলো। অর্থাৎ এখনও অবিক্রীত রয়েছে প্রায় ১৫ হাজার টিকিট। এ নিয়ে গত মঙ্গলবার বিমানের পরিচালনা পর্ষদের সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় এ বছরও হজের টিকিট বিক্রি না হওয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন পর্ষদ সদস্যরা।
এদিকে ধর্ম মন্ত্রণালয়, বিমান মন্ত্রণালয় ও হজ এজেন্সিগুলোকেও বার্তা পাঠিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। ধর্ম মন্ত্রণালয় হজ এজেন্সিগুলোকে দ্রুত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের টিকিট কেনার জন্য কয়েক দফা নির্দেশনা দিলেও তার বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে অনিশ্চয়তা বাড়ছে হজের টিকিট বিক্রিতেও। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এবার নির্ধারিত সময়ে টিকিট সংগ্রহ না করলে অতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনার জন্য সময়সীমা বাড়াবে না সৌদি আরব। এতে হজযাত্রীদের একটি অংশকে সেখানে যাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়তে হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষ। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের আরেক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সুষ্ঠু হজ ব্যবস্থাপনার স্বার্থে যেসব এজেন্সি এখনও বিমানের টিকিট কেনেনি, ভিসা সংগ্রহের জন্য ঢাকার হজ অফিসে হজযাত্রীদের পাসপোর্ট জমা করেনি; তাদের দ্রুত এ কাজ করতে হবে।
সংবাদটি থেকে আরও জানা যায়, গত বছর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস হজযাত্রী না পাওয়ায় ২৪টি ফ্লাইট বাতিল করতে হয়। শেষ মুহূর্তে সৌদি আরব থেকে অতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনার স্লট বরাদ্দ নিয়ে সমস্যার সমাধান করা হয়।
জানা যায় সৌদি এয়ারলাইনসের তুলনায় বাংলাদেশ এয়ারলাইসের টিকেটের দাম ও অন্যান্য কারণে প্রায় আট হাজার টাকা বেশি গড়ে। অবশ্য পরে বিমান টিকিটের মূল্যের এই ব্যবধান কমিয়ে আনে। হজযাত্রীদের জন্য বাড়ি ভাড়া নিশ্চিত করা, সময়মতো ভিসা না হওয়া জটিল সমস্যা। এর প্রভাবে হজযাত্রীদের বিমুখ হচ্ছে বাংলাদেশ এয়ারলাইনস থেকে। অনেক হজযাত্রী বুকিং দিলেও পরে অনেকে সৌদি এয়ারলাইনসের উড়োজাহাজে করে গিয়েছে।
গত হজ মৌসুমেও হজযাত্রী না পাওয়ায় ২৪টি হজ ফ্লাইট বাতিল করতে হয় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসকে। শেষ মুহূর্তে সৌদি আরব থেকে অতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনার সøট বরাদ্দ নেওয়া হয়েছিল। এবারও হজ মৌসুমে যাত্রী সংকটের কারণে ফ্লাইট বাতিল হলে আর্থিক ক্ষতিতে পড়বে বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইনস। শেষ মুহূর্তে হজযাত্রী পরিবহনেও সংকট তৈরি হতে পারে।
একদিকে হজ এজেন্সিগুলোর দায়িত্বে অবহেলা, অন্যদিকে সৌদি কর্তৃপক্ষের সতর্কবাণীÑসব মিলিয়ে হজযাত্রীদেরই যেন ভোগান্তি। এর নিরসনে এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে।