আলোর পথে আছি, আলোর পথে থাকবো

তাহসিন আহমেদ:  ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১২, মাত্র ছয় শিক্ষার্থী নিয়ে কার্যক্রম শুরু করে আলো আর্ট স্কুল। রাজধানীর দক্ষিণ শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলোনির সমাজকল্যাণ পরিষদ ভবনের একটি কক্ষে ক্ষুদে চিত্রশিল্পী তৈরির পাঠশালার সূচনা করেন বশীর উল্লাহ মজুমদার আলো।

রাজধানীর আরামবাগ রয়েল একাডেমি কিন্ডারগার্টেনে রয়েছে তাদের দ্বিতীয় শাখা। শাহজাহানপুর শাখায় বৃহস্পতি, শুক্র ও শনিবার ক্লাস হায়। আরামবাগে শুক্র ও শনিবার। শাহজাহানপুর শাখায় ৪০ জন ও অন্যটিতে ৩৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। আলো আর্ট স্কুলে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে আছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্পকলা ইতিহাসের প্রভাষক সঞ্জয় চক্রবর্তী।

এখানে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের বিনা খরচে ছবি আঁকা শেখানো হয়। নানা দিবস উপলক্ষে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। প্রতিযোগীরা কেউ খালি হাতে ফেরে না। সবাই সান্ত¡না পুরস্কার হিসেবে চিত্রকলা বিষয়ক বই উপহার পেয়ে থাকে। এছাড়া নানা উৎসবে ফুলদানি, কার্ড প্রভৃতি তৈরি করে থাকে শিক্ষার্থীরা। ২০১৩ সালে স্কুলের শিক্ষার্থীদের আঁকা ছবি নিয়ে চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। ধানমন্ডির ঢাকা আর্ট সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয় এ চিত্র প্রদর্শনী।

বিআরটিএ’র ম্যাজিস্ট্রেট জোহরা খাতুন স্কুলের আসবাবপত্র কেনার জন্য ৫০ হাজার টাকা অনুদান দেন। স্কুলটিকে পৃষ্ঠপোষকতা করছে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র, ব্রাইট আর্ট পাবলিকেশনস ও শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলোনিকেন্দ্রিক সমাজসেবামূলক সংগঠন সকালের সূর্য। এছাড়া ব্যক্তিগত উদ্যোগে  স্থানীয় সমাজসেবক নাসির উদ্দিন সোহাগ শিশুদের জন্য তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক বই দিয়ে থাকেন।

স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা বশীর উল্লাহ মজুমদার আলো শাহজাহানপুর রেলওয়ে স্কুল থেকে মাধ্যমিক পাস করেন। তিনি ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার পর নারায়ণগঞ্জ চারুকলা থেকে প্রি-বিএফএ ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেন। এর পাশাপাশি ঢাকার সরকারি তিতুমীর কলেজ থেকে ডিগ্রি পাস কোর্স সম্পন্ন করেন। তার বাড়ি কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের বাইয়ারা গ্রামে। বাবা রেলওয়েতে চাকরি করতেন। বাবার চাকরির সুবাদে শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলোনিতে থাকার সময় চিত্রশিল্পী হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। আর্ট স্কুলে কাজের পাশাপাশি মতিঝিল কলোনি উচ্চ বিদ্যালয়ে চারু ও কারুকলার চুক্তিভিত্তিক শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন।

 

ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক