আস্থার সংকট কাটছে না পুঁজিবাজারে!

রুবাইয়াত রিক্তা: পুঁজিবাজারে আগের দিনের মতো বড় পতন গতকালও হয়েছে। তবে গতকাল লেনদেনের মাঝামাঝি পর্যায়ে হঠাৎ কিছু সময়ের জন্য শেয়ার কেনার চাপ বেড়েছিল। তবে তা বেশি সময় স্থায়ী হয়নি। পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা জরুরি বৈঠকে বসলে কিছু সময়ের জন্য সূচক ঊর্ধ্বমুখী হয়। তবে বৈঠক শেষে নেতারা গতানুগতিক আস্থার সংকট ছাড়া আর কোনো কারণ খুঁজে না পাওয়াতে বাজার ফের পূর্বের অবস্থায় চলে যায়। এদিকে ক্রমাগত পুঁজি হারাতে দেখে দিশেহারা সাধারণ বিনিয়োগকারীরা গতকালও রাজপথে বিক্ষোভ সমাবেশ করে।
গতকাল লেনদেনের শীর্ষে উঠে আসে বস্ত্র খাত। এ খাতে লেনদেন হয় মোট লেনদেনের ১৭ শতাংশ বা সাড়ে ৫৬ কোটি টাকা। দর বেড়েছে ১৬ শতাংশ কোম্পানির। এর মধ্যে নতুন তালিকভুক্ত এসকোয়্যার নিটের লেনদেন চালু হয় গতকাল। প্রথমদিন কোম্পানিটির প্রায় ৩৩ কোটি টাকা লেনদেন হয়। দর বেড়েছে ৭০ পয়সা। পুঁজিবাজারে প্রথম এলেও বিনিয়োগকারীরা এ কোম্পানির শেয়ারে সেভাবে সাড়া দেয়নি। যার কারণে শেয়ারটির দর সেভাবে বাড়েনি। এরপর ১৪ শতাংশ লেনদেন হয় প্রকৌশল খাতে। এ খাতে ১৯ শতাংশ কোম্পানির দর বেড়েছে। কে অ্যান্ড কিউ দর বৃদ্ধিতে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল। এছাড়া ইস্টার্ন কেব্লসের সাড়ে ১১ কোটি টাকা লেনদেনের পাশাপাশি দর বেড়েছে এক টাকা ৩০ পয়সা। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে লেনদেন হয় ১৩ শতাংশ। এ খাতে ২৬ শতাংশ কোম্পানির দর বেড়েছে। ইউনাইটেড পাওয়ারের সোয়া ২৩ কোটি টাকা লেনদেন হয়। দরপতন হয় ৩২ টাকা ৬০ পয়সা। ওষুধ ও রসায়ন খাতে লেনদেন হয় ১২ শতাংশ। এ খাতে ২৯ শতাংশ কোম্পানির দর বেড়েছে। এ খাতের বহুজাতিক কোম্পানি রেকিট বেনকিজারের সাড়ে ছয় কোটি টাকা লেনদেনের পাশাপাশি দর বেড়েছে ১০১ টাকা। স্কয়ার ফার্মার পাঁচ কোটি টাকা লেনদেনের পাশাপাশি দর বেড়েছে প্রায় দুই টাকা। জেএমআই সিরিঞ্জের সাড়ে চার কোটি টাকা লেনদেন হয়, দর কমেছে সাড়ে ১২ টাকা। ব্যাংক খাতে আট শতাংশ লেনদেন হয়। দর বেড়েছে ৩৭ শতাংশ কোম্পানির। ট্রাস্ট ব্যাংক দর বৃদ্ধির শীর্ষ দশে অবস্থান করে। এছাড়া টেলিযোগাযোগ, চামড়া শিল্প এবং কাগজ ও মুদ্রণ খাত শতভাগ দরপতনে ছিল। তবে তিনটি মিউচুয়াল ফান্ড দর বৃদ্ধির শীর্ষ দশের তালিকায় অবস্থান করে। এছাড়া খাদ্য খাতের বিএটিবিসির প্রায় ২১ কোটি টাকা লেনদেন হয়। দর বেড়েছে ১০৪ টাকা ৫০ পয়সা।