আড়াই হাজার একর জমি অবৈধ দখলে

শাহীন রহমান, পাবনা: বাংলাদেশ রেলওয়ের পাকশী পশ্চিমাঞ্চল বিভাগের প্রায় আড়াই হাজার একর জমি অবৈধ দখলে চলে গেছে। বিভিন্ন সময় অভিযানে দখলদারদের উচ্ছেদ করে রেল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু লোকবল ও সংরক্ষণের অভাবে আবার বেহাত হয়ে যাচ্ছে এসব জমি। রয়েছে রেল দফতরের সঙ্গে সরকারি বিভিন্ন দফতরের সমন্বয়ের অভাবও। তাই থামছে না রেলের জমি দখলকারীদের দৌরাত্ম্য। এমন প্রেক্ষাপটে মুখ থুবড়ে পড়েছে জমি উদ্ধার কার্যক্রম।
পাকশী বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তার দফতর থেকে জানা গেছে, পাকশী পশ্চিমাঞ্চল বিভাগের আওতায় বাংলাদেশ রেলওয়ের জমির পরিমাণ প্রায় ২৬ হাজার ৩০৬ একর। এর মধ্যে রেললাইন, স্টেশন, ব্রিজ, বিভিন্ন কোয়ার্টার ও স্থাপনাসহ অপারেশনাল জমির পরিমাণ ৯ হাজার ৮২০ একর। এর বাইরে রেলওয়ের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ব্যবসা, আবাদ ও বিভিন্ন কারণে লাইসেন্স বা লিজ দেওয়া হয়েছে চার হাজার ৮১৬ একর জমি। অব্যবহƒত অবস্থায় রয়েছে ৯ হাজার ২০১ একর। আর বাকি প্রায় দুই হাজার ৪৭০ একর জমি চলে গেছে অবৈধ দখলে।
বেদখল হয়ে যাওয়া এই বিপুল পরিমাণ জমির দাম প্রায় হাজার কোটি টাকা। রেলের এসব জমিতে কেউ ৪০ বছর, কেউবা ৫০ বছর ধরে বসবাস করছেন। রেলওয়েতে চাকরির সুবাদে বংশপরম্পরায় বাস করছেন তাদের স্বজনরা। শুধু তাই নয়, রেলের এসব জমি লিজ নিয়ে অনেকে আবার অন্যের কাছে বিক্রি করে দিচ্ছেন।
সম্প্রতি প্রায় দশ দখলদারের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, তাদের বাবা চাকরি করতেন রেলে। সেই সুবাদে রেলের জমিতে বাড়ি করে কেউ সরকারি কোয়ার্টারে থাকছেন বছরের পর বছর। বাবা মারা যাওয়ার পরও তারা বসবাস করে আসছেন। অনেকে রেলেওয়ের কাছ থেকে লিজ নিয়ে বসবাস করছেন। আবার কেউ কেউ রেলওয়ের কাছ থেকে লিজ নিয়ে নিজে বসবাস করার পাশাপাশি কোনোরকম অনুমোদন ছাড়াই সেই জমি মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে অন্য কাউকে বসবাসের সুযোগ করে দিয়েছেন।
কিছুদিন আগে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদের জন্য অভিযানে নামে রেল কর্তৃপক্ষ। এজন্য অবৈধ দখলদার ও বাড়ি চিহ্নিত করে উচ্ছেদের নোটিস দেওয়া হয় দখলদারদের। এর প্রতিবাদে রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় অফিস ঘেরাও ও মানবন্ধন করেন দখলকারীরা। তাদের দাবি, লিজ নিয়ে বাস করছেন তারা। তাদের যাওয়ার কোনো জায়গা নেই। উচ্ছেদ না করে রেলওয়ের অন্য জমিতে তাদের পুনর্বাসন করা হলে পরিবারগুলো বাঁচবে।
এ বিষয়ে পাকশী বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা ইউনুছ আলী জানান, রেলের জমি উদ্ধারে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছেন তারা। কাউকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। পর্যায়ক্রমে সব জমি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। মাঝেমধ্যেই অভিযান চালিয়ে দখলদারদের উচ্ছেদ করা হয়। কিন্তু উচ্ছেদের কিছুদিনের মধ্যেই আবারও সেই স্থান অবৈধ দখলদারদের কবলে চলে যায়। জনবলের অভাব এবং সরকারি বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে সমন্বয়হীনতাও এর একটি কারণ। অবৈধভাবে দখলে থাকা জমি উদ্ধারের জন্য বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন থানায় দুই থেকে তিন শতাধিক এজাহার দায়ের করা হলেও আজ অবধি একটি এজাহারেরও তদন্ত হয়েছে বলে তাদের জানা নেই।
উদ্ধার ও উচ্ছেদ অভিযান চলছে বলে জানিয়ে ইউনুছ আলী জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে রেলস্টেশন, রেলগেট ও আশপাশের এলাকার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে জায়গাগুলো উদ্ধার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অবৈধভাবে দখলে থাকা সব স্থাপনা উচ্ছেদ করে রেলের জায়গা উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকবে।