প্রচ্ছদ শেষ পাতা

আয়-মুনাফায় ঘুরে দাঁড়াচ্ছে সাউথইস্ট ব্যাংক

পলাশ শরিফ: পিছিয়ে পড়ার ধকল সামলে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে বেসরকারি সাউথইস্ট ব্যাংক। খেলাপি ঋণ আদায়ের ওপর ভর করে সর্বশেষ আর্থিক বছরে ব্যাংকটির কর-পরবর্তী মুনাফা প্রায় ১১৩ শতাংশ বেড়েছে। এর মধ্য দিয়ে গত চার বছর পর আয়-মুনাফায় ঊর্ধ্বমুখী গতি এসেছে।
বড় গ্রাহকের কাছ থেকে খেলাপি ঋণ আদায় ও ঋণের সুদ আয়ে বড় পরিবর্তনের জেরে পিছিয়ে পড়া ব্যাংকের তকমা ঘোচাতে চলেছে তালিকাভুক্ত ব্যাংকটি।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, ২০১৮ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বেসরকারি সাউথইস্ট ব্যাংক এক হাজার ৪৯৬ কোটি ১৯ লাখ টাকা পরিচালন আয় করেছে, যা এর আগের আর্থিক বছরের তুলনায় সাত দশমিক ৩৮ শতাংশ বেশি। ওই বছরে ব্যাংকটির আয়ের চার খাতের মধ্যে তিনটিতেই বেড়েছে। এর মধ্যে সুদ আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩৭ শতাংশের বেশি, যা বাকি দুই খাতের প্রবৃদ্ধির চেয়ে বেশি। পরিচালন আয়ে বড় প্রবৃদ্ধির কল্যাণে ওই আর্থিক বছর শেষে সাউথইস্ট ব্যাংকের কর-পরবর্তী মুনাফা আগের আর্থিক বছরের চেয়ে প্রায় ১১২ দশমিক ৯৬ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৪৭ কোটি ৩২ লাখ টাকা। এর আগে, ২০১৪ সাল থেকে কমতে কমতে ২০১৭ সালে ওই মুনাফা প্রায় ১১৬ কোটি ৮৫ লাখ টাকায় নেমেছিল।
তথ্যমতে, খেলাপি ঋণের দায় ও বাড়তি প্রভিশনের চাপে ২০১৫ সাল থেকে সাউথইস্ট ব্যাংকের আয়-মুনাফা কমছে। গত পাঁচ বছরের মধ্যে ২০১৪ সালে সর্বোচ্চ (প্রায় ৩৮৩ কোটি ৭২ লাখ টাকা) কর-পরবর্তী মুনাফা করেছিল ব্যাংকটি, যা পরের বছরেই প্রায় পৌনে ৭৬ কোটি টাকা কমে প্রায় ৩০৭ কোটিতে নেমেছিল। এরপর ২০১৭ সাল শেষে সাউথইস্ট ব্যাংকের কর-পরবর্তী মুনাফা প্রায় ১১৬ কোটি ৮৫ লাখ টাকায় নেমেছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যাংকটির শীর্ষপর্যায়ে বড় রদবদল ও ব্যবস্থাপনা ব্যয় কমিয়ে আনাসহ বেশকিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়; যার ফলে তিন বছর পর আয়-মুনাফার ইতিবাচক ধারায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন ব্যাংকটির দায়িত্বশীলরা।
আলাপকালে সাউথইস্ট ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এম কামাল হোসেন শেয়ার বিজকে বলেন, ‘কয়েক বছর ধরেই ব্যাংক খাতে অস্থিরতা চলছে। যে কারণে ব্যাংকগুলো খারাপ সময় পার করছে। এ অবস্থায় ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য আমরা খেলাপি ঋণ আদায়ের দিকে জোর দিয়েছি। সেই সঙ্গে নতুন করে যাতে কোনো ঋণখেলাপি না হয় সে জন্য সতর্কতার সঙ্গে ঋণ দিচ্ছি। কারণ খেলাপি ঋণের প্রভিশন রাখতে গিয়ে সংকট বেড়েছে। সেই সঙ্গে গ্রাহকদের চাহিদাকে সামনে রেখে নতুন পণ্যও আনা হয়েছে। যার সুফল আমরা পাচ্ছি। এবার আয়-মুনাফায় উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে।’
এদিকে ২০১৮ সাল শেষে সাউথইস্ট ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে দুই টাকা ৩৫ পয়সা, যা এর আগের আর্থিক বছরে ব্যাংকটির ইপিএস এক টাকা ১১ পয়সা ছিল। অর্থাৎ এক বছরে সাউথইস্ট ব্যাংকের ইপিএস প্রায় ১১১ দশমিক ৭১ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে বছর শেষে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য (এনএভি) ২৬ টাকা ৬৬ পয়সায় দাঁড়িয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০০০ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সাউথইস্ট ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন প্রায় ৯১৭ কোটিতে দাঁড়িয়েছে। ব্যাংকটির মোট শেয়ারের ৩২ দশমিক ৪৪ শতাংশ উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে রয়েছে। বাকি শেয়ারের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে ৩০ শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হাতে পাঁচ দশমিক ৪৩ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে ৩২ দশমিক ১৩ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।
গত পাঁচ বছরের মধ্যে ২০১৩ সালে বোনাস ও নগদ মিলিয়ে সর্বোচ্চ ২১ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে। আর ২০১৮ সালের জন্য বিনিয়োগকারীদের ১০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে সাউথইস্ট ব্যাংক। পাঁচ পয়েন্টেরও কম (চার দশমিক ৬৮) পিই রেশিও নিয়ে বিনিয়োগ উপযোগী অবস্থানে রয়েছে ব্যাংকটির শেয়ার। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গত বৃহস্পতিবার ব্যাংকটির শেয়ার সর্বশেষ ১৪ টাকায় লেনদেন হয়েছে।

সর্বশেষ..