সারা বাংলা

ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বালি উত্তোলনের অভিযোগ

কেএম রুবেল, ফরিদপুর: ফরিদপুরে পদ্মা নদীর তীর থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালি কাটার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। গত একমাস ধরে ফরিপুর সদরের ডিক্রিরচর ইউনিয়নের ধলার মোড় এলাকা থেকে বালি উত্তোলন করা হয় বলে এলাকাবাসী অভিযোগ। তবে ইউপি চেয়ারম্যানের মেহেদী হাসান অভিযোগ অস্বীকার করে জানান নিয়ম মেনেই তিনি মাটি কাটছেন।
অপরিকল্পিতভাবে নদীর তীর সংরক্ষণ কাজের ৩০ থেকে ৫০ মিটারের মধ্যে নদীর ভিতর থেকে এভাবে বালি কাটায় আসছে বর্ষায় নদীর ভাঙনসহ বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ওই এলাকার অন্তত অর্ধকিলোমিটার জায়গাজুড়ে পদ্মা নদীর তীরে অন্তত ছয়টি খনন যন্ত্র (এসকেবেটর) দিয়ে বালি (মাটি) কাটা হচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গে ওই বালি ট্রাকে ভর্তি করে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। নদীর তীর থেকে বালি ভর্তি ট্রাকগুলো নদীর তীর সংরক্ষণের বোল্ডারের ওপর দিয়ে অনবরতভাবে চলাচল করছে।
এলাকাবাসী জানায়, প্রায় এক মাস ধরে এভাবে পদ্মা নদীর তীর থেকে বালি কাটা হচ্ছে। এ কাজে ছয়টি খননযন্ত্র ও বালি টানার ব্যাপারে ৪৮টি ট্রাক কাজ করছে।
প্রতিটি ট্রাকে প্রায় ৩০০ ঘন ফুট বালি ধরে। ট্রাকে বালিভর্তি ও তার হিসাব করার দায়িত্বে রয়েছেন শরিফ শেখ (২৭) নামে এক ব্যক্তি। তিনি প্রতিটি ট্রাক ভর্তি হওয়ার পর সিলিপ প্রদান করেন। এভাবেই ট্রাকগুলো ধলার মোড় তেকে বালি নিয়ে শহরের বিভিন্ন জায়গায় পৌঁছে দিচ্ছে।
ট্রাকচালক সাদ্দাম হোসেন (২১) জানান, এ এলাকা থেকে প্রতি ঘনফুট বালু ৩০০ টাকা দরে তারা শহরের বিভিন্ন জায়গায় পৌঁছে দেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই এলাকার তিনজন বাসিন্দা জানান, এভাবে অপরিকল্পিতভাবে বালু কাটায় নদীর ভেতরে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। আসছে বন্যার সময় পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে নদীতে স্রোত হলে খননকবলিত এ এলাকায় ভাঙন দেখা দিতে পারে। তিনি বলেন, এলাকার ইউপি চেয়ারম্যান এ কাজে জড়িত, আমরা প্রতিবাদ জানাব কোথায়? কার কাছে প্রতিকার চাইব?
একটি খনন যন্ত্রের চালক আয়নাল হোসেন (৩৩) জানান, ডিক্রির চর ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি চেয়ারম্যান মেহেদী হাসানের নির্দেশে এবং তার তত্ত্বাবধানে পদ্মা নদীর তীর থেকে বালু কাটা হচ্ছে। তিনি বলেন, এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যানই ভালো বলতে পারবেন।
এ ব্যাপারে ডিক্রির চর ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান বলেন, মাটি কাটার ব্যাপারে তাদের প্রশাসনিক অনুমতি আছে। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে আমি ঢাকায় অবস্থান করছি, ফরিদপুরে এসে সরেজমিনে দেখে প্রয়োজনে বালু তোলা মেশিন সরিয়ে দেব।’
ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুলতান মাহমুদ বলেন, নদীর তীর সংরক্ষণ কাজের অন্তত পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে বালু কাটা হলে তা নদীর তীর সংরক্ষণ কাজের ক্ষতি করবে। তিনি বলেন, এ বিষয়টি জেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।

সর্বশেষ..