ইনসেনটিভ বোনাস ইস্যুতে সিদ্ধান্তহীনতায় জনতা ব্যাংক

 

নিজস্ব প্রতিবেদক: সমাপ্ত বছর শেষে জনতা ব্যাংকের কর-পরবর্তী মুনাফা ছিল প্রায় ২৬৯ কোটি টাকা। তবে বছর শেষে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রণোদনামূলক বিশেষ বা ইনসেনটিভ বোনাস দেওয়া নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে পরিচালনা পর্ষদ। গত সোমবার অনুষ্ঠিত বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) ব্যাংকের কর্মকর্তাদের জন্য চারটি ইনসেনটিভ বোনাস দেওয়ার জন্য সুপারিশ উপস্থাপন করা হয়, কিন্তু কোনো ধরনের সিদ্ধান্ত ছাড়াই বিষয়টি অপেক্ষমাণ রাখা হয়।
নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, ব্যাংকের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য ইনসেনটিভ বোনাস দিতে পরিচালনা পর্ষদে পাস করার জন্য ফাইল উপস্থাপন করা হয়। এ সময় পর্ষদকে জানানো হয়, গত বছরে ব্যাংকের ২৬৮ কোটি ৬৪ লাখ টাকার কর-পরবর্তী মুনাফা হয়েছে। এর পূর্ববর্তী বছরে কর-পরবর্তী মুনাফা হয়েছিল ২৬০ কোটি টাকা। এজন্য ব্যাংক স্টাফদের এবার চারটি বোনাস দেওয়া যেতে পারে। এ প্রস্তাবের বিরোধিতা করে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান লুনা শামসুদ্দোহা বলেন, চারটি নয়, একটি বোনাস দেওয়া যেতে পারে।
তখন পরিচালনা পর্ষদের কয়েকজন সদস্যর পক্ষ থেকে আপত্তি তোলা হয়। তারা যুক্তি দিয়ে বলেন, গতবার ব্যাংকের স্টাফদের তিনটি ইনসেনটিভ বোনাস দেওয়া হয়েছে। এবার আর্থিক প্রতিবেদনে আট কোটি টাকা বেশি মুনাফা দেখানো হয়েছে গতবারের চেয়ে। ইনসেনটিভ কমালে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি হবে, ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতা কমছে বলে বিভিন্ন মহলে প্রচার পাবে। পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তি ওঠায় কোনো ধরনের সিদ্ধান্ত না নিয়েই শেষ হয় বোনাস দেওয়ার ইস্যুটি।
পরে ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ অডিট কমিটির কাছে আর্থিক সক্ষমতা যাচাই করে মতামত দেওয়ার জন্য ফাইলটি পাঠানো হয়।

এ বিষয়ে জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান লুনা শামসুদ্দোহার সঙ্গে শেয়ার বিজের পক্ষ থেকে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার মোবাইলে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। ব্যাংকের বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আবদুছ ছালাম আজাদের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তাকেও পাওয়া যায়নি।