সুশিক্ষা

‘ইনোভেট ইয়োর ড্রিমস ২০১৯’ প্রজেক্টে বাংলাদেশ

জাতিসংঘ ঘোষিত এসডিজি অর্জনের উদ্দেশ্যে ঘোষিত ১৭টি অভীষ্টের তিনটি হচ্ছে গুণগত শিক্ষা; সুলভ ও স্বচ্ছ জ্বালানি এং শিল্প উদ্ভাবন ও অবকাঠামো। এ তিনটি লক্ষ্য অর্জনে বিশ্বব্যাপী যেসব প্রকল্প পরিচালিত রয়েছে, সেগুলোর মধ্যে ‘ওহহড়াধঃব ণড়ঁৎ উৎবধসং ২০১৯’
সবচেয়ে জনপ্রিয়।
প্রজেক্টটি মূলত বিশ্বব্যাপী ঝঞঊগ ও চইখ পদ্ধতিতে পরিচালিত হচ্ছে। এ প্রজেক্টের প্রতিষ্ঠাতা পাকিস্তানি শিক্ষাবিদ খুররাম হইজ ও গ্রিসের শিক্ষাবিদ রানিয়া ল্যাম্পাও।
প্রজেক্টটির প্রথম ধাপে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, মেক্সিকো, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, ফিনল্যান্ড, স্পেন, কানাডা, তুরস্কসহ বিশ্বের ৮৪টি দেশ এ প্রজেক্টে যুক্ত হয়। দ্বিতীয় ধাপে বাকি দেশগুলো যুক্ত হয়েছে।
অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশ প্রথম ধাপে এ প্রজেক্টে অংশ নেয়। প্রায় সাত সপ্তাহব্যাপী প্রজেক্টটিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রায় দুই হাজার ৭০০ শিক্ষক ও বিভিন্ন স্তরের প্রায় এক লাখ ২০ হাজার শিক্ষার্থী যুক্ত হন। প্রতি সপ্তাহে একটি কাজ ই-মেইল কিংবা গ্রুপে পোস্ট করা হতো। কাজটি নির্ধারিত নির্দেশনা অনুযায়ী সম্পাদন করে এর বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও নির্ধারিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নির্ধারিত গ্রুপে পোস্ট করতে হতো। প্রায় দেড় মাসব্যাপী এ প্রজেক্টের মূল উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কর্মস্থান সম্পর্কে ধারণা দেওয়া এবং এমন কিছু কর্মসংস্থানের উদ্ভাবন করা, যা এখনও বিশ্বে প্রচলিত নয়।
তুরস্ক, রোমানিয়া ও মেসিডোনিয়াসহ প্রায় ১২টি দেশ এ প্রজেক্টকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তাদের কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। তুরস্কের শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রজেক্টটি তাদের ওয়েবসাইটে তুলে ধরেছে এবং বিভিন্ন টিভি চ্যানেলের কার্যক্রম সরাসরি সম্প্রচার করেছে। রোমানিয়া, মালডোভা ও ফিলিস্তিনসহ প্রায় ৯টি দেশে এ কার্যক্রম সমাপ্ত হলে দেশগুলোর শিক্ষামন্ত্রীরা প্রজেক্টে অংশগ্রহণকারীদের সনদ বিতরণ করেন।
বাংলাদেশের ফেনী সাউথ-ইস্ট ডিগ্রি কলেজের দর্শন বিভাগের প্রভাষক শরীফুর রহমান আদিলের নেতৃত্বে এ প্রজেক্টে প্রায় ৩০ শিক্ষার্থী অংশ নেন। তাদের সঙ্গে দর্শন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ অনুপ্রেরণাদায়ী প্রশিক্ষণার্থী হিসেবে অংশ নেন।
ফেনী সাউথ-ইস্ট ডিগ্রি কলেজ ওই প্রজেক্টের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে তাদের ওপর অর্পিত কাজগুলো সমাপ্ত করে সাটিফিকেট অর্জন করেছে। এ কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত শিক্ষার্থী ও প্রজেক্টটি নিয়ে বেশ উচ্ছ্বাস লক্ষ করা গেছে। প্রজেক্টে অংশগ্রহণকারী পূর্ণিমা রানী নাথ বলেন, আমি সত্যিই খুবই গর্ববোধ করছি এ ধরনের প্রজেক্টে অংশ নিতে পেরে। হুমায়রা আক্তার বলেন, এ প্রজেক্টের মাধ্যমে অসাধারণ কিছু বিষয় রপ্ত করা গেছে, যা কখনও জানা যেত বলে মনে করি না। ভবিষ্যৎ কর্মস্থান, ভবিষ্যতের সমতাভিত্তিক পৃথিবী গড়ার যে ধারণা এসডিজি গ্রহণ করেছে এ প্রজেক্টের মধ্য দিয়ে বিষয়টি সুন্দরভাবেই ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। সালেহা আক্তার বলেন, সত্যিই অসাধারণ একটি প্রজেক্ট ছিল। বিশেষ করে গুণগত শিক্ষা অর্জনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্স ছিল অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর।
প্রজেক্টটির কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর শরীফুর রহমান আদিল বলেন, আমার বন্ধু ও ইউরোপের সেরা শিক্ষক আরসালের মাধ্যমে প্রজেক্টটি সম্পর্কে অবগত হই। তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে কাজটি শুরু করি। শিক্ষার্থীরা যে এত আগ্রহ ও উদ্দীপনা নিয়ে এতে অংশ নেবেন, তা ভাবতে পারিনি তখন। প্রতিদিন ক্লাস শেষ হওয়ার পর শিক্ষার্থীরা তিন ঘণ্টা সময় দিতেন। প্রায় সবাই এ প্রজেক্টে কাজ করতে আগ্রহী ছিলেন। বিশ্বের অন্যান্য দেশের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে মেধা পরীক্ষার দারুণ সুযোগ ছিল এটি।

সর্বশেষ..