ইন্টারনেটে ভ্যাট-দ্বৈত কর পরিহার চায় মোবাইল ফোন অপারেটররা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোক্তাদের ব্যয় কমানো, সরকারের ভিশন ও ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে মোবাইল ইন্টারনেটের ওপর মূসক, সম্পূরক শুল্ক ও সারচার্জ প্রত্যাহার এবং দ্বৈত কর পরিহারের প্রস্তাব করেছে বেসরকারি মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশ (অ্যামটব)।

গতকাল জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সম্মেলন কক্ষে প্রাক-বাজেট আলোচনায় অ্যামটবের পক্ষ থেকে এসব প্রস্তাব দেওয়া হয়। সভায় এনবিআর চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া সভাপতিত্ব করেন।

বাংলালিংকের ফিন্যান্সিয়াল কন্ট্রোলার মোহাম্মদ আবিদ হোসেন খান বলেন, মোবাইল অপারেটরা ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণ ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিভিন্ন কাজ করছে। বর্তমানে ইন্টারনেট ব্যবহারের ওপর ২১ দশমিক ৭৫ শতাংশ মূসক, সম্পূরক শুল্ক ও সারচার্জ দিতে হয়। এটা প্রত্যাহার করলে ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়বে, দেশ উপকৃত হবে। সরকার তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রচুর ব্যয় করছে। অন্যদিকে ভোক্তা বেশি টাকা ইন্টারনেটে খরচ করছে। ভোক্তার খরচ কমানো ও সেবা বৃদ্ধির জন্য ইন্টারনেটে রাজস্ব প্রত্যাহার করা প্রয়োজন।

দ্বৈত কর বিষয়ে তিনি বলেন, মোবাইল অপারেটদের বিভিন্ন সার্ভিস বিশেষ করে যেসব সফটওয়্যারের সার্ভিস বিদেশি বিভিন্ন ভেন্ডর থেকে কিনতে হয়। এ সার্ভিস কিনতে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ হারে প্রচুর পরিমাণে উৎসে কর কর্তন করতে হয়। যেসব দেশের ভেন্ডর থেকে আমরা এসব সার্ভিস কিনি, সেসব দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বৈত কর পরিহার চুক্তি রয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী এ কর পরিহার করতে হলে এনবিআর থেকে একটি সনদপত্র লাগে। এ সনদপত্র পেতে সময় লাগে। এ দ্বৈত কর কাটলেও পরে তা সমন্বয় করা এবং সনদপত্র গ্রহণের বাধ্যবাধকতা বাতিলের সুপারিশ করেন তিনি। এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, এ সনদপত্র পেতে যাতে ভোগান্তির শিকার না হতে হয় সে জন্য কর অফিসকে নির্দেশনা দেওয়া হবে।

মোবাইল টেলিফোন বিল উৎসে করের আওতামুক্ত করার সুপারিশ করে তিনি বলেন, বর্তমানে ব্যাংক, বিমা, আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সেবা উৎসে করের আওতামুক্ত। আয়কর আইন অনুযায়ী এনবিআর এ থেকে কর কর্তন করতে পারে। এ কর কর্তন করলে মোবাইল অপারেটররা তাদের গ্রাহকদের কাছ থেকে কর অব্যাহতির সনদ সংগ্রহ করে জমা দিলে কর সমন্বয় করা হয়। কিন্তু মোবাইল অপারেটরদের এ ধরনের গ্রাহক লাখ লাখ। এত সনদ নেওয়া বা জমা দেওয়া কষ্টকর। সে জন্য মোবাইল অপারেটরদের এ থেকে মুক্তি দেওয়া যেতে পারে।

তিনি বলেন, বর্তমানে মোবাইল অপারেটরদের বার্ষিক মোট বিক্রয়ের ওপর সর্বনিম্ন কর শূন্য দশমিক ৭৫ শতাংশ। এ কর থেকে অব্যাহতি দেওয়া উচিত। কারণ অপারেটরদের মধ্যে অনেকেই লোকসান করছে।

মোবাইল অপারেটর রবির হেড অব রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স সাহেদ আলম বলেন, ইন্টারনেট ব্যবহারকারী এখনও কম। ফোরজির মাধ্যমে দেশের আনাচে-কানাচে উচ্চগতির ইন্টারনেট দেওয়ার চেষ্টা করছি। বর্তমানে সরকার ইন্টারনেট ব্যবহার থেকে এক হাজার কোটি টাকা পায়। কিন্তু রাজস্ব কমালে ব্যবহার বাড়লে রাজস্ব দ্বিগুণ হবে। আমরা আইওটি (ইন্টারনেট অব থিংকস) আনছি। এর মাধ্যমে শত শত কোম্পানি দেশে গড়ে উঠবে, সরকার প্রচুর রাজস্ব পাবে।

ফোরজি হ্যান্ডসেটের ওপর শুল্ক প্রত্যাহারের সুপারিশ করে সাহেদ বলেন, দেশে ১৭-১৮টি কোম্পানি মোবাইল ফোন তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। তারা উৎপাদনে যেতে দুই থেকে আড়াই বছর লাগবে। দেশে বর্তমানে তিন কোটি মোবাইল ফোনের চাহিদা রয়েছে। আমদানি হয় প্রায় ৮৯ লাখ। যেসব ফোন আমদানি হয় তাতে ফোরজি ফোন আসছে না। কারণ দাম বেশি। স্থানীয়ভাবে উৎপাদন হলে দাম কমে যাবে। সে জন্য ফোরজি মোবাইল আমদানির ওপর বিদ্যমান ৩১ শতাংশ রাজস্ব দুই-তিন বছর পর্যন্ত প্রত্যাহারের সুপারিশ করেন তিনি। এছাড়া অ্যামটবের পক্ষ থেকে করপোরেট কর কমানো, সিম ও রিপ্লেসমেন্ট ট্যাক্স প্রত্যাহারসহ ১৯টি প্রস্তাব দেওয়া হয়।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, মোবাইল কোম্পানি লোকসান করছে, কীভাবে ব্যবসায় সহযোগিতা করা যায় তা দেখা হবে। মোবাইল অপারেটরের কাছে অনেক বকেয়া রয়েছে। এসব বকেয়া পরিশোধ করে দিন আমরা সব সুবিধা দেব। বিকল্প বিরোধের নিষ্পত্তির মাধ্যমে মামলা নিষ্পত্তিতে এগিয়ে আসেন। মামলায় রাজস্ব আহরণ বিলম্বিত হয়, আপনারা ক্ষতিগ্রস্ত হন। ইন্টারনেট ব্যবহারের ওপর রাজস্ব বিষয়ে পর্যালোচনা করা হবে।