ইন্টারনেট হতে হবে স্পন্সরড আর সবার জন্য ফ্রি

ইলেকট্রনিকস, টেলিকম ও আইটি খাতের বিপণনে একটি জনপ্রিয় নাম হাসান মেহেদী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (আইবিএ) থেকে বিবিএ এবং একই প্রতিষ্ঠান থেকে এমবিএ ডিগ্রি শেষ করে একটি বিজ্ঞাপনী সংস্থার ক্লায়েন্ট সার্ভিস এক্সিকিউটিভ হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করেন। তারপর এফএমসিজি, ব্যাংক, মোবাইল ফোন সেবাদাতা কোম্পানিতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত ছিলেন। গত পাঁচ বছর একটি স্বনামধন্য মোবাইল ফোন কোম্পানিতে হেড অব বিজনেস ও জিএম হিসেবে কাজ করার মাধ্যমে বাংলাদেশে স্মার্টফোন বিপণন ও জনপ্রিয়করণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন তিনি। বর্তমানে দেশের অন্যতম বৃহৎ আইটি কোম্পানি সিস্টেমস সলিউশনস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট টেকনোলজিসের (এসএসডি-টেক) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে কাজ করছেন। দেশের আইটি খাতের বর্তমান অবস্থা, এ খাত সম্প্রসারণের প্রতিবন্ধকতা ও অন্যান্য বিষয়ে কথা বলেছেন শেয়ার বিজের সঙ্গে। সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছেন আহমেদ সাঈফ মুনতাসীর

শেয়ার বিজ: এসএসডিটেক গ্রাহকদের মূলত কোন ধরনের সেবা দিয়ে থাকে? কোম্পানির বর্তমান গ্রাহক সংখ্যা কত?

হাসান মেহেদী: আমি একজন গর্বিত বাংলাদেশি। বাঙালির মেধা আর প্রচেষ্টা এক হলে সেটা যে একটা বড় শক্তি তার প্রমাণ হচ্ছে সিস্টেমস সলিউশনস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট টেকনোলজিস বা এসএসডি-টেক। এক যুগ আগে যাত্রা করা এসএসডি-টেক বর্তমানে বাংলাদেশ ছাড়াও মালয়েশিয়া, মিয়ানমারের মতো দেশগুলোতে কাজ করছে। খুব দ্রুতই এশিয়ার আরও কয়েকটি দেশে আমাদের ব্যবসাকে প্রসারিত করার ইচ্ছা আছে। এসএসডি-টেকের শুরুটা ছিল ফাইন্যান্সিয়াল সেক্টরের জন্য অটোমেশন সফটওয়্যার বানানো দিয়ে। তারপর মোবাইল ফোন এসে যখন দেশের মধ্যে একটা বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে এলো তখন দেখা গেলো গ্রাহকদের মধ্যে কথা বলা ও বার্তা আদান-প্রদান করার বাইরেও কিছু চাহিদা আছে। যেমন মানুষের তথ্য পাওয়ার আগ্রহ আছে, বিনোদনের প্রয়োজনীয়তা আছে। গ্রাহকদের এ আগ্রহের দিকটা খেয়াল করে মোবাইল ফোন অপারেটর কোম্পানিগুলোর সহযোগিতায় আমরা ‘ইনফোটেইনমেন্ট’ ধারণার জন্ম দিই, যার মাধ্যমে আমরা অন্তত ৫০ লাখ গ্রাহকের কাছে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছি। আমরা সম্প্রতি ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার বা আইএসপি ব্যবসায় মনোযোগী হয়েছি। কারণ আমরা মনে করি বর্তমান যুগে অন্ন, শিক্ষা ও বাসস্থানের মতো ইন্টারনেটও একটি অত্যাবশ্যকীয় প্রয়োজন। আমরা যে ডিজিটাইজেশনের কথা বলি ইন্টারনেট ছাড়া সেটা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। তাই আমরা কাজ করছি এমন একটা বিজনেস মডেলের জন্য, যেখানে ঘরে ঘরে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট যাবে সঠিক মূল্যে, সঠিক সার্ভিস নিয়ে, সঠিক জীবনধারা তৈরির হাতিয়ার হয়ে। ইতোমধ্যে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কুমিল্লায় আমরা সফলভাবে এ কার্যক্রম পরিচালনা করছি। আমরা আশা করছি অল্পদিনের মধ্যেই সারা দেশে এ সেবা পৌঁছে দিতে পারবো।

শেয়ার বিজ: ক্ষুদ্র কমার্স রিটেইলারদের ফাইন্যান্সিয়াল আউটসোর্সিং সেবা দিতে আপনারা যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন, সে সম্পর্কে কিছু বলুন

হাসান মেহেদী: ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও ই-কমার্স রিটেইলারদের আর্থিক, কারিগরি ও লজিস্টিক সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার জন্য এসএসডি-টেক ও ডিএফআইডি মিলে এ চমৎকার প্রজেক্টটি হাতে নিয়েছি। তৃণমূল পর্যায়ের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, যারা ব্যাংকঋণ ও লজিস্টিক জটিলতার কারণে নিজেদের ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে পারছে না, তাদের সহযোগিতা করার কাজে আমরা হাত দিয়েছি। এক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের পণ্যের স্টক ৫০ শতাংশ আগে থেকেই কিনে নিয়ে আমরা গুদামজাত করবো এবং ই-কমার্স মার্কেটিং থেকে আসা অর্ডারগুলো ক্রেতার কাছে আমরাই পৌঁছে দেবো। ফলে ওই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী তার স্টকের ৫০ শতাংশ দাম অগ্রিম পাচ্ছে, গুদামজাত করার সুবিধা পাচ্ছে আর এর সঙ্গে পাচ্ছে সঠিক সময়ে সঠিক উপায়ে হোম ডেলিভারি সুবিধা। এ সেবাটি পুরোপুরিভাবে সেই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীকে লাভবান করছে। আমরা ইতোমধ্যে এ প্রকল্পের আওতায় প্রচুর সাড়া পেয়েছি। এখন আমাদের কাজ হচ্ছে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে তাদের সঙ্গে ব্যবসার পার্টনারশিপে যাওয়া। আমরা আশা করছি, এ বছরের মধ্যেই প্রজেক্টটি সফলতার মুখ দেখবে।

শেয়ার বিজ : অনেকের মতে, বাংলাদেশে আইটি খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে গত কয়েক বছরে সম্পর্কে আপনার মন্তব্য কী? আইটি খাতে উল্লেখযোগ্য সফলতাগুলো কী বলে আপনার মনে হয়?

হাসান মেহেদী : এ কথা আমাদের মানতেই হবে যে, অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে বর্তমানে আইটি খাত নিয়ে সবচেয়ে বেশি কাজ হচ্ছে। আমার মতে, গত কয়েক বছরে আইটি-বিষয়ক সবচেয়ে বড় সফলতা হচ্ছে মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে পারা। মানুষ এখন আইটি কী এবং কেন এ সম্পর্কে বেশ জানে ও বুঝে। মানুষ তাদের এ জ্ঞানকে নিজেদের দৈনন্দিন জীবনে কাজে লাগাচ্ছে। টেকনোলজির ওপর মানুষের আস্থা বেড়েছে। অনেক ম্যানুয়াল কাজ এখন নির্ভুলভাবে অটোমেশনে চলে এসেছে, ফলে অনেক কাজে গতিশীলতা এসেছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ সেøাগানটাকে সত্য করার জন্য সরকার বিভিন্ন প্রোগ্রাম, সেমিনার, রোড শো, প্রজেক্টফেয়ার ইত্যাদির মাধ্যমে আইটির সঙ্গে তৃণমূল পর্যায়ের ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততা যেভাবে বাড়াচ্ছে, সেটা সত্যিই প্রশংসনীয়। আমি আশা করি, এভাবে চললে এ কাজগুলোর সমষ্টিগত ফলাফলই একদিন হবে সত্যিকারের টেকনোলজি-নির্ভর বাংলাদেশ।

শেয়ার বিজ : আইটি খাতের উন্নয়নে বড় প্রতিবন্ধকতাগুলো কী?

হাসান মেহেদী : আমার মতে এ মুহূর্তে আইটি খাতের তিনটি বড় প্রতিবন্ধকতা বিশ্ববাজারে আমাদের খানিকটা পিছিয়ে রেখেছে। তার মধ্যে দুটি হচ্ছে সফট স্কিল রিলেটেড, অন্যটা হচ্ছে অবকাঠামো রিলেটেড।

যেমন : আইটি সলিউশনকে সাধারণ ভোক্তা কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবহারকারীর কাছে তার মতো করে, তার প্রয়োজনীয়তা বুঝে দারুণভাবে উপস্থাপন করতে না পারাটা একটা প্রতিবন্ধকতা। অথচ আমাদের রয়েছে দারুণ সব সলিউশন ডিজাইনার, দারুণ সব ডেভেলপার। কিন্তু তাদের ডেভেলপ করা সলিউশনগুলোর গল্পটা দেখা যায় নিজেরাই সুন্দরমতো গুছিয়ে বলতে পারছে না। কিছুদিন আগেও আমি টেক টক অনুষ্ঠানে গিয়ে বলেছি, আমাদের দেশে আইটি কোম্পানিগুলোতে হয়তো সবই আছে; কিন্তু নেই একজন গল্প বলার লোক, নেই একজন ভালো চিফ মার্কেটিং অফিসার। ফলে মানুষকে বোঝানো যাচ্ছে না সলিউশনটার প্রয়োজনীয়তা। তাছাড়া আরেকটি প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে, আমাদের সলিউশনগুলোর ইউজার এক্সপেরিয়েন্স ও ইউজার ইন্টারফেস আরও বেশি বিশ্বমানের ও আরও বেশি ডাম্ব-প্রুফ হওয়া প্রয়োজন। মানুষকে তার সাধ্যের মধ্যে সেরা ইউএক্সটা দিতে পারলে সেই প্রোডাক্ট খুব সহজেই সবার কাছে গ্রহণযোগ্যতা পাবে।

আর অবকাঠামোগত যে বাধাটা আমার চোখে বেশি পড়ে, সেটাকে কিছুটা সুদূরপ্রসারী বলতে পারেন। আর সেই বাধাটা হচ্ছে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের সীমিত ব্যাপ্তি। আমার ব্যক্তিগত মত হচ্ছে, বাংলাদেশের তৃণমূল পর্যায়ে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটকে বড় বড় কোম্পানি ও ব্র্যান্ড দ্বারা স্পন্সর করা উচিত, তখন মানুষের জন্য সেই ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট হবে ফ্রি। ইন্টারনেটের জন্য মানুষকে টাকা গুনতে হবে কেন? তার চেয়ে বরং মানুষ ইন্টারনেট থেকে প্রাপ্ত সেবাগুলোর জন্য পে করবে। ইন্টারনেট থেকে মানুষ তখন প্রোডাক্ট ও সার্ভিস কিনবে। অর্থাৎ ইন্টারনেট হবে একটা যোগসূত্র, ভোক্তা আর সার্ভিস প্রোভাইডার প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে। ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে না পারলে আইটি খাতের উন্নয়নের কথা বলি আর ডিজিটাল বাংলাদেশের কথাই বলিÑতার কতটুকু আমরা অর্জন করতে পারবো, বলুন?

শেয়ার বিজ : আপনি বিজ্ঞাপনী সংস্থা, ব্যাংক, টেলিকম, ইলেকট্রনিকস আইটি খাতে কাজ করেছেন সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং মনে হয়েছে কোন ক্ষেত্রটিকে?

হাসান মেহেদী : প্রতিটা সেক্টরই চ্যালেঞ্জিং ছিল। আর চ্যালেঞ্জ ছিল বলেই আমি প্রতিটা কাজ উপভোগ করেছি। বিজ্ঞাপনী সংস্থাতে ক্যারিয়ার শুরু করে এফএমসিজি, ব্যাংক, টেলিকম অপারেটর এবং বর্তমানে আইটি সার্ভিস প্রোভাইডার কোম্পানিতে আছি। প্রতিটি সেক্টর ছিল আগেরটার চেয়ে ভিন্ন ও নতুন। তাই আমি প্রতিবারই নতুন নতুন কাজকে নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি। সম্প্রতি আমি যেখানে কাজ করছি, সেটা একটা ক্রমবর্ধমান খাত। তাই এখানে কাজ করতে পারাটা আমার জন্য বিশাল সুযোগ বলে মনে করি। যেমন ধরুনÑযখন একটা মার্কেট আপনার প্রত্যাশার চেয়েও বেশি গ্রো করে, তখন অনেক কিছুই দেখা যায় পরিকল্পনা অনুসারে এগোয় না। ফলে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি গ্রো করলেই সেই গ্রোথ কন্ট্রোল, কোয়ালিটি মেইন্টেইন ইত্যাদি বিষয় কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। তখন সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারাটা বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ সে সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে পুরো প্রজেক্টের সফলতা। আমি মনে করি ক্যারিয়ারে বিভিন্ন সময় পাওয়া প্রতিটি অ্যাসাইনমেন্টই ছিল অনেক চ্যালেঞ্জিং। আর প্রতিটি চ্যালেঞ্জ ছিল একটা এনজয়মেন্ট। আমি সেই একই রকমের চ্যালেঞ্জ ও এনজয়মেন্টের মধ্যে এখনও আছি।

শেয়ার বিজ : দীর্ঘদিন স্বনামধন্য মোবাইল ফোন কোম্পানিতে হেড অব মোবাইল হিসেবে কাজ করেছেন সে অভিজ্ঞতা থেকে বাংলাদেশে স্মার্টফোনের বর্তমান বাজার সম্পর্কে কিছু বলুন

হাসান মেহেদী : বাংলাদেশে প্রতি মাসে প্রায় ২০ লাখ মোবাইল হ্যান্ডসেট বিক্রি হয়, যার বাজারমূল্য প্রায় ৫০০ কোটি টাকা। সে হিসাবে প্রতিবছর এখানে প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকার মোবাইল হ্যান্ডসেট বিক্রি হয়। মোট বিক্রি হওয়া হ্যান্ডসেটের ৪০ শতাংশ কেবল স্মার্টফোনের দখলে। তবে স্মার্টফোনের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। আশা করা যায়, কয়েক বছরের মধ্যে এ বাজার দশ হাজার কোটি টাকা ছাড়াবে।

শেয়ার বিজ : বাংলাদেশে কনজ্যুমার ইলেকট্রনিকস পণ্য বিপণনের ক্ষেত্রে মূল চ্যালেঞ্জগুলো কী?

হাসান মেহেদী : বাংলাদেশে কনজ্যুমার ইলেকট্রনিকস পণ্য বিপণনে সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর হিসেবে যেটা কাজ করে, সেটা হচ্ছে প্রাইস বা পণ্যের দাম। বিপণনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে কঠিন কাজ হচ্ছে দামের বিপরীতে পণ্যের কোয়ালিটি ও মান সম্পর্কে বোঝানো। পণ্যের কোয়ালিটি ঠিক থাকলে ক্রেতার কিন্তু বেশি দামে পণ্য কিনতে সমস্যা নেই। তবুও কিছু প্রতিষ্ঠান আছে যারা বাজারকে খুব দ্রুত ধরার জন্য অল্পদামে নিম্নমানের পণ্য অফার করে। ক্রেতারা কম দাম দেখে হয়তো আকৃষ্ট হয় কিন্তু দিন দিন ওই প্রোডাক্টের ওপর আস্থা হারায়। আমি মনে করি বাংলাদেশে ইলেকট্রনিকস পণ্য বিপণনে ক্রেতাদের সামর্থ্যরে দিকে লক্ষ রেখে কোয়ালিটি মেইন্টেইন করাটা জরুরি।

শেয়ার বিজ : মোবাইল ফোনের অভ্যন্তরীণ যন্ত্রাংশ সাধারণত চীন অন্য দেশ থেকে আমদানি করা হয় বাংলাদেশে এসব যন্ত্রাংশ উৎপাদনে মূল প্রতিবন্ধকতাটা কোথায়?

হাসান মেহেদী : মোবাইলের অভ্যন্তরীণ যন্ত্রাংশ তৈরি করার মতো প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ এখনও আমরা অর্জন করতে পারিনি। এমনকি মোবাইল ফোনের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ এনে অ্যাসেম্বিলিং করাটাই শুরু করতে পারিনি এখনও। ফলে টেকনোলোজিগত সব ক্ষেত্রে আমাদের এখনও বিদেশনির্ভর হয়ে থাকতে হচ্ছে। তবে সরকারের ভালো একটা পলিসি এ চিত্রটা পালটে দিতে পারে বলে বিশ্বাস করি। সরকার যদি পুরো বিষয়টাকে ভালো একটা ফ্রেমের মধ্যে এনে কাজ শুরু করে, তবে অবস্থার উন্নতি হবে দ্রুত। যেমনÑপ্রথমে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ এনে অ্যাসেম্বলিং শুরু করতে হবে, তারপর চেষ্টা করতে হবে হার্ডওয়্যার এখানেই ম্যানুফ্যাকচার করার। এভাবে যদি শুরুটা করা যায়, তাহলে খুব বেশিদিন দূরে না, যেদিন টেকনোলজিতে আমরা স্বনির্ভর হবো।

শেয়ার বিজ : ইলেকট্রনিক বর্জ্য উন্নত দেশগুলোতে রিসাইকেল করা হয় বাংলাদেশে বর্জ্য নিষ্কাশনে কোনো পদ্ধতির সাহায্য নেওয়া হয়?

হাসান মেহেদী : ইলেকট্রনিক বর্জ্য বাংলাদেশের জন্য বড় একটা সমস্যা। ইলেকট্রনিক বর্জ্য নিষ্কাশনের কোনো আনুষ্ঠানিক পদ্ধতি আমাদের দেশে নেই, এমনকি মানুষের মধ্যে এ নিয়ে সচেতনতাও দেখি না। তাই এটি আমাদের জন্য বড় রকমের অ্যালার্মিং বিষয় বলে মনে করি। উন্নত দেশগুলোতে মোবাইল ও ইলেকট্রনিক বর্জ্য নিষ্কাশনের জন্য রিসাইক্লিং পদ্ধতি ব্যবহার করা হয় কিন্তু আমাদের দেশে এখনও এ পদ্ধতি প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ফলে যেখানে-সেখানে ফেলে রাখা হচ্ছে এসব বর্জ্য, যা আমাদের পরিবেশের জন্য বেশ বড় রকমের হুমকি। এখন সরকার যদি এ বিষয়ে দ্রুত একটি নীতিমালা গ্রহণ করে তাহলে হয়তো বর্জ্য নিষ্কাশন একটা ফরমেশনের মধ্যে আসবে। যদি তা না করা হয়, তবে কয়েক বছরের মধ্যে আমাদের পরিবেশের জন্য সবচেয়ে বড় বোঝা হবে এ ইলেকট্রনিক বর্জ্য।