সুশিক্ষা

ইন্টেরিয়র ডিজাইন

ইন্টেরিয়র শব্দটি এসেছে লাতিন শব্দ ইন্ট্রো থেকে। অর্থ ভেতর। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ডিজাইন শব্দটি। অর্থ নকশা। এ দুটি শব্দ একত্রিত করলে হয় ইন্টেরিয়র ডিজাইন, যার আভিধানিক অর্থ দাঁড়ায় অভ্যন্তরীণ নকশা বা অন্দরসজ্জা। সাধারণত ইন্টেরিয়র ডিজাইন বলতে ঘর গোছানোকে বোঝানো হয়। কিন্তু বাস্তবে শুধু ঘর সাজানোই নয়, ইন্টেরিয়র ডিজাইন ব্যাপক অর্থে ব্যবহার করা হয়।
ইন্টেরিয়র ডিজাইনিং একটি বহুমাত্রিক পেশা। এখানে সৃজনশীলতা ও প্রযুক্তি একসঙ্গে প্রয়োগ করা হয়। এর মূল লক্ষ্য বাসা ও কর্মক্ষেত্রের সাজসজ্জাকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলা। সবাই চায় অফিস বা বাসা সুসজ্জিত হোক, যাতে কোনো জায়গা নষ্ট না হয়। সুন্দর গোছানো একটি ঘর কে না ভালোবাসে? ঘরকে রঙিন করতে কার না ভালো লাগে? রঙের ব্যবহার, আসবাব, আলো, পোশাক-পরিচ্ছদ ও গৃহসজ্জার উপকরণের সামগ্রিকতাকে ব্যবহার করে ঘর, অফিস বা কোনো প্রতিষ্ঠানকে সুন্দর, আরামদায়ক ও নান্দনিকভাবে উপস্থাপন করাই ইন্টেরিয়র ডিজাইনিং। আর যিনি এ কাজ দক্ষতার সঙ্গে করে থাকেন, তিনি ইন্টেরিয়র ডিজাইনার।
বর্তমানে গ্র্যাজুয়েশন শেষ করতে সময় লাগে চার বছর। আবার অনেক সময় সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় সেশনজটের কারণে কোর্স শেষ করতে সময় লাগে পাঁচ থেকে ছয় বছর। কিন্তু কর্মমুখী শিক্ষায় এক থেকে দুই বছরের একটি কোর্স করে গড়ে নিতে পারেন আপনার ভবিষ্যৎ। কর্মমুখী শিক্ষার মধ্যে বর্তমানে এগিয়ে রয়েছে ইন্টেরিয়র ডিজাইন। আধুনিক স্থাপনার সৌন্দর্যবর্ধনে প্রধান ভূমিকা রাখছেন ইন্টেরিয়র ডিজাইনাররা। বর্তমানে একজন প্রফেশনাল ইন্টেরিয়র ডিজাইনারের চাহিদা ব্যাপক। আগে দেশে স্থপতিরাই সাধারণত কোনো ভবন নির্মাণের পাশাপাশি ইন্টেরিয়র ডিজাইন করতেন। কিন্তু বর্তমানে আর্কিটেকুভা ও ইন্টেরিয়র ডিজাইন পৃথকভাবে করা হচ্ছে। তাই উন্নত ক্যারিয়ার গড়তে পারেন যে কেউই।
কাজের চাহিদা
রিয়েল এস্টেট বিকাশের সঙ্গে প্রতিনিয়ত গড়ে উঠছে হাজার হাজার ফ্ল্যাট ও বাণিজ্যিক ভবন। গড়ে উঠছে দোকানপাট, রেস্টুরেন্ট, বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান, দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ধরনের ব্র্যান্ডের শোরুম প্রভৃতি। তাই সময়ের সঙ্গে বাড়ছে ইন্টেরিয়র ডিজাইনের গুরুত্ব ও কাজের চাহিদা। আর রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠানই এখন ইন্টেরিয়র ডিজাইনার নিয়োগ দিচ্ছে। বিভিন্ন করপোরেট গ্রুপ, স্থাপত্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠান, আসবাব নির্মাতা ও বাজারজাতকরণ প্রতিষ্ঠান, নামিদামি হোটেল, বিজ্ঞাপন সংস্থাসহ বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের স্থাপত্য বিভাগে চাকরির সুযোগ রয়েছে। এছাড়া বর্তমানে অনেক ইন্টেরিয়র ডিজাইন ফার্ম প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে, যারা সফলতার সঙ্গে ইন্টেরিয়র ডিজাইন করছে। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানে চাকরির সুযোগ বাড়ছে। পাশাপাশি ইন্টেরিয়র ডিজাইন শিখে ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। আপওয়ার্ক (ওডেস্ক) কিংবা ফ্রিল্যান্সার ডটকমে অটো ক্যাড অথবা থ্রিডি স্টুডিও ম্যাক্সের সাহায্যে বিভিন্ন ইন্টেরিয়র আইডিয়া ডিজাইন করে আয় করা যায়। তাই ইন্টেরিয়র ডিজাইন কোর্সটি সম্পন্নের পর উপার্জনের সুযোগ রয়েছে।
যোগ্যতা ও কোথায় পড়বেন
এইচএসসি পাস করে যে কেউ ইন্টেরিয়র ডিজাইন কোর্সটি করতে পারবেন। ইন্টেরিয়র ডিজাইন ও গ্রাফিক ডিজাইন বিষয়ে এক বছর ও ছয় মাস মেয়াদি ডিপ্লোমা কোর্স করার সুযোগ রয়েছে। সাধারণত এসএসসির পর চার বছরের ডিপ্লোমা কোর্স, এইচএসসি ও অনার্স পাস করে এক বছর মেয়াদি সার্টিফিকেট কোর্স করা যায়। আবার কিছু প্রতিষ্ঠানে দুই বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা ও বিএসসি কোর্স চালু হয়েছে। আর্কিটেকচারাল ড্রয়িং, ফ্লোরিং, ফার্নিচার ডিজাইন, গ্রাফিক ডিজাইন, ল্যান্ডস্কেপ ডিজাইন, অটোক্যাড, এয়ারকন্ডিশনিং, ফলস সিলিং, কালার কম্বিনেশন প্রভৃতি বিষয় শেখানো হয়। ইন্টেরিয়র ডিজাইন শেখানোর বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
# বাংলাদেশ ইন্টেরিয়র ডিজাইন ডেভেলপমেন্ট (বিআইডিপি)
# ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইউ অ্যান্ড অ্যালায়েন্স বিভাগ
# বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডিজাইন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট
# ইনস্টিটিউট অব ইনোভেটিভ
# বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড
# শান্ত মারিয়াম ইউনিভার্সিটি
# রেডিয়েন্ট ইনস্টিটিউট অব ডিজাইন
# ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ডিজাইন
# জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনেও বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে

শিপন আহমেদ

সর্বশেষ..



/* ]]> */