ইন্ট্রাকো গ্রুপ

কৃষি, আবাসন, সিএনজি, আমদানি-রফতানি, পর্যটন, হোটেল প্রভৃতি খাতে বিনিয়োগ রয়েছে ইন্ট্রাকো গ্রুপের। এই গ্রুপের পথচলা শুরু হয় হোটেল আগ্রাবাদের মধ্য দিয়ে ১৯৬৯ সালে। প্রতিষ্ঠাতা হাকিম আলী। হোটেল ব্যবসায় সফলতার পাশাপাশি গড়ে তোলেন কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। পরে এসব প্রতিষ্ঠানকে একত্র করে গড়ে তোলেন ইন্ট্রাকো গ্রুপ, যা অল্প সময়ের মধ্যে দেশের শীর্ষস্থানীয় গ্রুপে পরিণত হয়।

১৯৭৮ সালটি গ্রুপটির টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ওই বছর ইন্দোনেশিয়া থেকে বিভিন্ন পণ্য আমদানি করে দেশীয় ভোক্তাদের জন্য তা সরবরাহ করা হতো। পরে পর্যটন খাতে বিনিয়োগ করেন উদ্যোক্তারা। মূলত দেশের পাশাপাশি বহির্বিশ্বেও নামকরা গ্রুপে পরিণত হতে চায় ইন্ট্রাকো গ্রুপ। ব্যবসায়ের সব পর্যায়ে আদর্শ ও সততা মেনে চলা হয় এখানে। বিশেষ করে বৈশ্বিক অংশীদারিত্বকে অগ্রাধিকার দিয়ে চলেছে তারা। একই সঙ্গে সমাজ, গ্রাহক ও কর্মীদের জন্য অগ্রণী ভূমিকা পালন করে চলেছে গ্রুপটি। কঠোর পরিশ্রম, উদ্ভাবনী শক্তি ও গুণগত মানের ওপর ভর করে টেকসই প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে বদ্ধপরিকর এই গ্রুপটি। তবে সবার ওপরে দেশের গ্রাহকদের সন্তুষ্টিকে গুরুত্ব দিয়ে থাকে ইন্ট্রাকো গ্রুপ।

 

পরিচালনা পর্ষদ

ইন্ট্রাকো গ্রুপে চেয়্যারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন হাকিম আলী। তিনি সম্পন্ন করেছেন এলএলবি। এছাড়া হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্টের ওপর পড়ালেখা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল ও অস্ট্রেলিয়ার চার্লসবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয় দুটিতে। তার প্রথম প্রতিষ্ঠান হোটেল আগ্রাবাদে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও রেসিডেন্ট ডিরেক্টরের দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি দি প্যানপ্যাসিফিক হোটেল সোনারগাঁওয়ের একজন পরিচালক। পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন চিটাগং মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিতে (সিএমসিসিআই)। বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল হোটেল অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন ফর টুরিজম ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ভ্যাকেশন ক্লাবের প্রেসিডেন্ট তিনি। একই সঙ্গে ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগো ট্রেড সেন্টার ইন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ও সিইও তিনি। তিনি ইংল্যান্ডের ইন্টারন্যাশনাল বায়োগ্রাফিক্যাল সেন্টারের ‘ম্যান অব অ্যাচিভমেন্ট’ অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত হয়েছেন।

ইন্ট্রাকো গ্রুপে ভাইস চেয়্যারম্যানের দায়িত্বে রয়েছেন মনোয়ারা হাকিম আলী। চট্টগ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে বেড়ে উঠেছেন তিনি। যুক্তরাজ্যের সিটি অব লন্ডন কলেজ থেকে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেছেন। বাবা ছিলেন একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী। বাবার উৎসাহ ও অনুপ্রেরণায় ব্যবসায় হাতেখড়ি হয় তার। ইন্ট্রাকো গ্রুপ প্রতিষ্ঠায় তার ভূমিকা অনস্বীকার্য। এই গ্রুপের সফলতায় একের পর চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন। সব বাধা উতরে গেছেন সফলভাবে। কৃতিত্বের ছাপ রেখে চলেছেন বরাবরের মতো। ব্যবস্থাপনা টিমের নেতৃত্বে রয়েছেন মোহাম্মদ রিয়াদ আলী। দেশের সিএনজি খাতের পথিকৃৎ বলা হয় তাকে। বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভারশন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সহকারী ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বে রয়েছেন ইরাদ আলী। তিনিও বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভারশন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

 

করপোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি

সব সময় দুস্থ ও অসহায়দের পাশে থাকার চেষ্টা করে ইন্ট্রাকো গ্রুপ। কর্তৃপক্ষ মনে করে আর্থিক প্রবৃদ্ধি কিংবা মুনাফা অর্জনই সব নয়। তাই সমাজের উপকারে অনেক কাজ করে আসছে প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে।

কর্মীবান্ধব হিসেবে সুনাম রয়েছে ইন্ট্রাকো গ্রুপের। কর্মীদেরকে সবচেয়ে বড় সম্পদ মনে করে কর্তৃপক্ষ। সব কর্মীর জন্য সমান সুযোগ-সুবিধা বরাদ্দ রাখা হয়েছে এখানে। কর্মীদের আবাসন, যাতায়াত ও স্বাস্থ্যসেবার প্রতি বিশেষ মনোযোগী এই গ্রুপটি। যথাসময়ে তাদের প্রাপ্য বুঝিয়ে থাকে। প্রতিবছর শীতার্ত মানুষের মাঝে নানা ধরনের শীতবস্ত্র বিতরণ করে।

পরিবেশের সুরক্ষা বজায় রেখে চলেছে ইন্ট্রাকো গ্রুপ। পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর এমন কোনো প্রকল্প হাতে নেয়নি তারা। পরিবেশ ও সুন্দরের প্রতি মানুষের সচেতনতা বাড়াতে নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে তারা। এমনই একটি উদাহরণ বাটারফ্লাই পার্ক। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্রমেই বিলুপ্ত হতে যাওয়া প্রজাপতিদের রক্ষা করতে গ্রুপটি চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় গড়ে তুলেছে বাটারফ্লাই পার্ক। স্থানটিকে প্রজাপতিদের অভয়ারণ্য বলা চলে। এখানে রয়েছে নানা রঙের নানা প্রজাতির প্রজাপতি। এদের সঙ্গে দর্শনার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিতে পার্কে রয়েছেন গাইড ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এই পার্কে রয়েছে একটি গবেষণাকেন্দ্র ও জাদুঘর। প্রতিষ্ঠানটির সূত্রমতে, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও চীনের পর প্রজাপতির জন্য স্বতন্ত্র পার্ক তৈরি করেছে তারা।

অঙ্গপ্রতিষ্ঠান

হোটেল আগ্রাবাদ, চিটাগং

ইন্ট্রাকো বাটারফ্লাই পার্ক বাংলাদেশ লিমিটেড

ইন্ট্রাকো আল্ট্রা ফার্মা লিমিটেড

ইন্ট্রাকো প্রপার্টিজ লিমিটেড

ইন্ট্রাকো এনার্জি লিমিটেড

ইন্ট্রাকো ওয়াটারপার্ক অ্যান্ড রিসোর্টস লিমিটেড

ইন্ট্রাকো সিএনজি লিমিটেড

ইন্ট্রাকো কনভেশন হল

ইন্ট্রাকো এলপিজি অটো গ্যাস লিমিটেড

ইন্ট্রাকো রেডি-মিক্স কোম্পানি লিমিটেড

ইন্ট্রাকো কনসালটেন্সি সার্ভিসেস

ইন্ট্রাকো কোকোনাট গার্ডেন রিসোর্ট, কক্সবাজার

জেনেটিকা

ইন্ট্রাকো টেলিকম লিমিটেড

ইন্ট্রাকো সিলিন্ডার রি-টেস্ট প্লান্ট

ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্যাস সাপ্লাই

ডেস ইন হোটেল

ইন্ট্রাকো মেরিন ডিভিশন

ইন্ট্রাকো ডেভেলপারস লিমিটেড

সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড

ইন্ট্রাসো অ্যাগ্রো-প্রোডাক্টস লিমিটেড

ইন্ট্রাকো রিনিউয়েবল এনার্জি লিমিটেড

ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং স্টেশনস লিমিটেড

 

রতন কুমার দাস