বিশ্ব বাণিজ্য

ইরানের তেল কেনা নিয়ে নির্বাচনের পর সিদ্ধান্ত নেবে ভারত

শেয়ার বিজ ডেস্ক: ইরানের অন্যতম বাণিজ্য অংশীদার ভারত। অন্যদিকে ভারতের জন্যও ইরান থেকে অপরিশোধিত তেল কেনা অনেকটা সস্তা, কারণ পরিবহন খরচ ও দাম দুটোই কম পড়ে। কিন্ত মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটি থেকে তেল কিনতে পারছে না ভারত। এ পরিস্থিতিতে গত মঙ্গলবার দিল্লি সফর করলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ সফররত ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ‘গঠনমূলক’ আলোচনা করেন। সেখানে ভারতের লোকসভা নির্বাচনের পরই গুরুত্বপূর্ণ তেল আমদানির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান সুষমা। খবর: বিবিসি ও এনডিটিভি।
পর্যবেক্ষকরা ধারণা করছেন, ভারত যাতে ইরান থেকে তেল কেনা অব্যাহত রাখে সেজন্য তেহরান দিল্লিকে চাপে রাখতে চাইছে, আর এজন্য দরকষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে চাবাহার বন্দরকে। গত চার মাসে দুবার দিল্লি সফর করলেন জাভেদ জারিফ। কিন্তু ইরান ইস্যু ভারতের জন্য জটিল এক কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। গত নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন যখন নতুন করে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা চাপায়, তখন ভারতসহ আটটি দেশকে ইরান থেকে তেল কেনার ক্ষেত্রে সাময়িক ছাড় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু চলতি মে মাসের শুরুর দিকে সেই অব্যাহতির মেয়াদও ফুরিয়েছে। এ পরিস্থিতি ভারত ও ইরান দুই দেশকেই সমস্যায় ফেলে দিয়েছে।
দিল্লিতে শীর্ষস্থানীয় ইরান বিশেষজ্ঞ কামার আগা বলেন, বস্তুত ইরান ভীষণভাবে চায় ভারত তাদের কাছ থেকে আগের মতো তেল কেনা বজায় রাখুক, কিন্তু ভারতের সমস্যা হলো তাদের ওপর পশ্চিমা দেশগুলোর সাংঘাতিক চাপ। তিনি বলেন, ভারত বরাবর বলে থাকে তাদের পররাষ্ট্রনীতি সম্পূর্ণ স্বাধীন। এখন ইরানের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে আমি বলব, ভারতের সেই পররাষ্ট্রনীতিই এক কঠিন পরীক্ষায় পড়েছে। “
এক টুইট বার্তায় মঙ্গলবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মুখপাত্র জানান, ‘সুষমা স্বরাজ ও জাভেদ জারিফের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় স্বার্থের বিষয়ে গঠনমূলক সংলাপ হয়েছে। বৈঠকে আফগানিস্তানসহ সামগ্রিক আঞ্চলিক পরিস্থিতিতে দুই দেশের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েও আলোচনা হয়েছে।’ সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রমতে, সুষমা স্বরাজের পক্ষ থেকে বাণিজ্যনীতি, জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থ নিয়ে ভারতের লোকসভা নির্বাচনের পরই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানানো হয়। জাভেদ জারিফ ভারতকে ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির পক্ষ থেকে গত ৮ মে ঘোষিত ইউরেনিয়াম ও ভারী পানি রফতানিবিষয়ক সিদ্ধান্তের কথা মনে করিয়ে দেন।

সর্বশেষ..