ইরানের সঙ্গে ডলারবহির্ভূত বাণিজ্য করবে তিন দেশ

শেয়ার বিজ ডেস্ক: ইরানের সঙ্গে ডলারবহির্ভূত বাণিজ্য সম্পর্ক স্থাপনে সম্মত হয়েছে পরমাণু সমঝোতায় স্বাক্ষরকারী তিন গুরুত্বপূর্ণ ইউরোপীয় দেশ ফ্রান্স, জার্মানি ও ব্রিটেন। এ পরমাণু সমঝোতা থেকে মে মাসে একতরফাভাবে বের হয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র। এ প্রেক্ষাপটে তেহরানের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য ওয়াশিংটনের প্রচণ্ড চাপের মুখে পড়ে ইউরোপের কোম্পানিগুলো। খবর পার্সটুডে।
রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ গতকাল জানান, ছোট ও মাঝারি কোম্পানিগুলোর স্বার্থ বিবেচনা করে ইরানের সঙ্গে ডলারবহির্ভূত বাণিজ্য সম্পর্ক স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফ্রান্স, জার্মানি ও ব্রিটেন।
এছাড়া পরমাণু সমঝোতায় স্বাক্ষরকারী বাকি দেশগুলোও মার্কিন নিষেধাজ্ঞা থেকে নিজ নিজ দেশের বাণিজ্যকে রক্ষার পদ্ধতি বের করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন অবৈধ এবং অগ্রহণযোগ্য নিষেধাজ্ঞা আবার চাপিয়ে দেওয়ার কঠোর নিন্দাও করেন তিনি।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকি সত্ত্বেও ইরানের তেল উত্তোলন ও রফতানিতে বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি বলে জানিয়েছেন দেশটির তেলমন্ত্রী বিজান জাঙ্গানে। তিনি বলেন, মার্কিন হুমকি মোকাবিলার জন্য ইরান এরই মধ্যে একটি পরিকল্পনা নিয়েছে এবং সে পরিকল্পনা সফলতার সঙ্গে কাজও করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের ইরানবিরোধী নানা তৎপরতার কারণেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তেল উত্তোলন বাড়াতে সৌদি আরবের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য ইরানের তেলমন্ত্রী প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, মার্কিন প্রচেষ্টার কারণে তেলের বাজার অস্থিতিশীল হয়ে উঠবে। এ ধরনের চাপ তেল রফতানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ওপেকের নীতিমালার বিরোধী বলেও তিনি মন্তব্য করেন। ইরান ও সৌদি আরব দু’দেশই এ ওপেকের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। জাঙ্গানেহ বলেন, ওপেকের নীতি হচ্ছে রাজনৈতিক চাপের কারণে কখনও আন্তর্জাতিক তেলের বাজারের গতি পরিবর্তন করা যাবে না।
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ইরানকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল বিক্রি করতে দেওয়া হবে না এবং দেশটির তেলের উত্তোলন শূন্যের কোঠায় আনা হবে। এর জবাবে ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বলেছেন, ইরান তেল বিক্রি করতে না পারলে হরমুজ প্রণালী দিয়ে কাউকে তেল বিক্রি করতে দেওয়া হবে না।