ইরান থেকে জ্বালানি তেল আমদানি কমাচ্ছে ভারত

শেয়ার বিজ ডেস্ক: ইরান থেকে আমদানির ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে জ্বালানি তেল আমদানি অব্যাহতভাবে বাড়াচ্ছে ভারত। এর ধারাবাহিকতায় গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র থেকে রেকর্ড পরিমাণ অশোধিত তেল আমদানি করেছে দেশটি। এছাড়া চলতি বছর এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র থেকে আগের বছরের মোট আমদানির তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ তেল আমদানি করেছে ভারত। নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুশিয়ারিতে ইরান ও ভেনিজুয়েলা থেকে তেল আমদানি নিয়ে জটিলতা তৈরি হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বৃদ্ধি করছে ভারত। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়া, আনন্দবাজার।
এদিকে তেল আমদানির ক্ষেত্রে ভারতকে দেওয়া সুবিধা প্রত্যাহারের হুশিয়ারি দেওয়ার পর কিছুটা সুর নরম করেছে ইরান। ভারতের নয়াদিল্লির ইরান দূতাবাস থেকে বলা হয়েছে, তেলের বিষয়ে ভারত ইরানের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী দেশ। এর আগে ভারতে নিযুক্ত ইরানের উপ-রাষ্ট্রদূত মাসুদ রেজভানিয়ান রাহাঘি বলেছিলেন, ইরান থেকে তেল আমদানি কমালে ভারতকে দেওয়া বিশেষ ছাড় বন্ধ করার কথা ভাববে তেহরান।
আগামী নভেম্বরের মধ্যে ইরান থেকে পণ্য আমদানি শূন্যে নামিয়ে আনার জন্য মিত্র দেশগুলোকে চাপ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এক্ষেত্রে ভারতকে বিশেষ সুবিধাও দিচ্ছে দেশটি। যদিও ইরান থেকে তেল আমদানির বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি ভারত। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় অশোধিত জ্বালানি তেল রফতানিকারক দেশ যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির সরকারের প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, গত এপ্রিলে প্রতিদিন প্রায় ১৭ লাখ ৬০ হাজার ব্যারেল তেল রফতানি করেছে।
তেল রফতানি নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার মধ্যেই ভারতের ইরান দূতাবাস বলছে, তেল আমদানি করার বিষয়টি নয়াদিল্লির নিজস্ব বিষয়। এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও তেলের বাজারের অনিশ্চয়তার বিষয়টি জড়িয়ে রয়েছে। ভারতকে তেল রফতানির ক্ষেত্রে সব রকমের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।
চলমান অনিশ্চয়তার মধ্যে তেল রফতানিকারক দেশগুলোর সংস্থা ওপেককে সতর্ক করে দিয়ে ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশনের চেয়ারম্যান সঞ্জীব সিংহ ইতোমধ্যে বলেছেন, অশোধিত তেলের দাম না কমানো হলে বিকল্প ভাবতে বাধ্য হবে ভারত। সেক্ষেত্রে প্রাকৃতিক গ্যাস, বিদ্যুৎ ও অচিরাচরিত শক্তির রাস্তাতেই হাঁটার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
বিশ্বে অশোধিত জ্বালানি তেলের শীর্ষস্থানীয় ক্রেতা দেশ ভারত। আর তাদের অন্যতম তেল সরবরাহকারী দেশ ইরান। তবে গত জুনে ভারতে ইরানের তেল রফতানি কমে প্রতিদিন পাঁচ লাখ ৯২ হাজার ৮০০ ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে, যা মে মাসের তুলনায় ১৬ শতাংশ কম বলে শিল্প ও বাণিজ্য সূত্রগুলো জানিয়েছে।