বিশ্ব সংবাদ

ইরান পরমাণু সমঝোতা মেনে চলছে: পুতিন

Russian President Vladimir Putin speaks during his annual press conference in Moscow on December 20, 2018. (Photo by Alexander NEMENOV / AFP) (Photo credit should read ALEXANDER NEMENOV/AFP/Getty Images)

শেয়ার বিজ ডেস্ক: ২০১৫ সালে পরমাণু সমঝোতা স্বাক্ষর করার পর থেকে এখন পর্যন্ত পরমাণু কর্মসূচির ক্ষেত্রে ইরান সবচেয়ে বেশি স্বচ্ছতার পরিচয় দিয়েছে বলে মনে করেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। বুধবার মস্কোয় দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) প্রধানের সঙ্গে ইরানের ব্যাপারে কথা বলেছি। তিনি আমাকে জানিয়েছেন, ইরান তার পরমাণু প্রতিশ্রুতি পুরোপুরি পালন করেছে। তবে পরমাণু সমঝোতা টিকিয়ে রাখা শুধু রাশিয়ার ওপর নির্ভর করছে না বলেও জানিয়েছেন তিনি। খবর: পার্স টুডে।
ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, ‘ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় বহুবার বলেছি, এ সমঝোতা টিকিয়ে রাখা বেশি যুক্তিপূর্ণ পন্থা, কারণ ইরান এ সমঝোতা থেকে বেরিয়ে গেলে সবাই এ কথা ভুলে যাবে যে, আমেরিকা আগে এটি থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল। তখন সব দোষ ইরানের ঘাড়ে চাপানো হবে।’
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘দুঃখজনকভাবে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সম্পর্কে সব চুক্তি লঙ্ঘন করা হয়েছে। কিন্তু রাশিয়া সব সময় এ চুক্তির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। কাজেই পরমাণু সমঝোতা মেনে চলাই ইরানের জন্য লাভজনক হবে।’
এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বলেছেন, আমেরিকা তার দেশের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ করছে। তিনি বলেন, এ নিষেধাজ্ঞায় ইরানের সাধারণ জনগণের খাদ্য ও ওষুধকে টার্গেট করা হয়েছে। তিনি বুধবার তেহরানে ইরানি আইনজীবীদের সঙ্গে এক বৈঠকে আরও বলেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক যুদ্ধের ফলে ইরানের সাধারণ জনগণ সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে। এ যুদ্ধকে তিনি ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘এটি ইরানের সরকারের বিরুদ্ধে কোনো যুদ্ধ নয়, বরং এটি এদেশের সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ।’
২০১৮ সালের মে মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরমাণু সমঝোতা থেকে বের হয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। একই বছরের নভেম্বরে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করেন। সে সময় ইরানের তেল কেনার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ক্ষেত্রে কিছু দেশকে ছয় মাসের জন্য ছাড় দেয় ওয়াশিংটন। কিন্তু সম্প্রতি সে ছাড় প্রত্যাহার করে নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ইরানের সরকারের আচরণে পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার কথা বলা হলেও ইরানের সাধারণ মানুষের জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে বলে দেশটি জানিয়েছে।

সর্বশেষ..



/* ]]> */