ইস্টার্ন লুব্রিক্যান্টসের দর বেড়েছে ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের কোম্পানি ইস্টার্ন লুব্রিক্যান্টস লিমিটেড গত সপ্তাহে দর বৃদ্ধির শীর্ষে উঠে এসেছে। সপ্তাহজুড়ে কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়েছে ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্রমতে, গত সপ্তাহে কোম্পানিটির প্রতিদিন গড় লেনদেন হয়েছে দুই কোটি ৮৯ লাখ ৯৭ হাজার টাকার শেয়ার। সপ্তাহজুড়ে মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় ১১ কোটি ৫৯ লাখ ৮৮ হাজার টাকা।
সপ্তাহের শেষ দিনে কোম্পানিটির শেয়ারদর ছয় দশমিক ২৫ শতাংশ বা ৮৬ টাকা ৩০ পয়সা বেড়ে প্রতিটি শেয়ার সবশেষ এক হাজার ৪৬৭ টাকায় হাতবদল হয়, যার মোট মূল্য ছিল ছয় কোটি ৩৯ লাখ ৪৩ হাজার টাকা। শেয়ারটির সবশেষ দর একই ছিল। ওইদিন শেয়ারদর সর্বনি¤œ এক হাজার ৩৮৫ টাকা থেকে সর্বোচ্চ এক হাজার ৪৬৭ টাকা ৬০ পয়সায় হাতবদল হয়। আর গত এক বছরে শেয়ারটির দর এক হাজার ৭৫৯ টাকা থেকে ৯৩৮ টাকা ৫০ পয়সায় ওঠানামা করে।
কোম্পানিটি সবশেষ ২০১৭ সালে ১০০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। আগের বছরও একই পরিমাণ লভ্যাংশ দেয়। ২০১৭ সালে শেয়ারপ্রতি আয় দাঁড়ায় ৪০ টাকা ৬৩ পয়সা ও শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য ১৪৩ টাকা সাত পয়সা। বছর শেষে মুনাফা হয়েছে চার কোটি চার লাখ টাকা।
তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে রেনউইক যজ্ঞেশ্বর। এ কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে ১১ দশমিক ১০ শতাংশ। গত সপ্তাহে কোম্পানিটির গড়ে প্রতিদিন তিন কোটি ১৭ লাখ ৩৩ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আর সপ্তাহজুড়ে লেনদেন হয়েছে ১২ কোটি ৬৯ লাখ ৩৫ হাজার টাকার শেয়ার।
সর্বশেষ কার্যদিবসে ডিএসইতে কোম্পানিটির পাঁচ কোটি ৩৭ লাখ ৭৪ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। দিনজুড়ে ৩৩ হাজার ২৬৩টি শেয়ার এক হাজার ৩০৫ বার হাতবদল হয়। শেয়ারদর আগের কার্যদিবসের চেয়ে ছয় দশমিক ২৫ শতাংশ বা ৯৫ টাকা ৮০ পয়সা বেড়ে প্রতিটি সর্বশেষ এক হাজার ৬২৮ টাকা ৬০ পয়সায় হাতবদল হয়, যার সবশেষ দরও ছিল এক হাজার ৬২৭ টাকা ৬০ পয়সা। দিনভর শেয়ারদর সর্বনিম্ন এক হাজার ৫৪২ টাকা ৮০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ এক হাজার ৬২৮ টাকা ৬০ পয়সায় হাতবদল হয়। গত এক বছরে কোম্পানিটির শেয়ারদর এক হাজার ৬২৮ টাকা ৬০ পয়সা থেকে ৫৫৫ টাকায় ওঠানামা করে।
২০১৮ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাববছরের জন্য কোম্পানিটি ১২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। ওই সময় শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৫ টাকা ৫৮ পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য (এনএভি) লোকসানে ছিল ২২ টাকা ৭০ পয়সা। ওই সময় কর-পরবর্তী মুনাফা করেছে এক কোটি ছয় লাখ টাকা।
আগের বছর অর্থাৎ ২০১৬ সমাপ্ত হিসাববছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে কোম্পানিটি ১২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। এ সময় ইপিএস হয়েছে চার টাকা ১৭ পয়সা এবং এনএভি ৩২ টাকা ৬৯ পয়সা লোকসানে।
কোম্পানিটি ১৯৮৯ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়ে বর্তমানে ‘এ’ ক্যাটেগরিতে অবস্থান করছে। ২০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন দুই কোটি টাকা। রিজার্ভে লোকসান ছয় কোটি ৫৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা।
তালিকার তৃতীয় স্থানে ছিল বি ক্যাটেগরির ফাইন ফুডস লিমিটেড। সপ্তাহজুড়ে কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে ১০ দশমিক ৯৯ শতাংশ। গত সপ্তাহে কোম্পানিটির প্রতিদিন ৮৭ লাখ ৪৬ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। আর পুরো সপ্তাহে লেনদেন হয়েছে তিন কোটি ৪৯ লাখ ৮৪ হাজার টাকার শেয়ার।
সর্বশেষ কার্যদিবসে ডিএসইতে কোম্পানিটির ছয় লাখ দুই হাজার ৫২৬টি শেয়ার ৯৪৩ বার হাতবদল হয়, যার বাজারদর দুই কোটি ৩৩ লাখ ৬৩ হাজার টাকা। ওইদিন শেয়ারদর ছয় দশমিক ২২ শতাংশ বা দুই টাকা ৩০ পয়সা বেড়ে প্রতিটি সর্বশেষ ৩৯ টাকা ৩০ পয়সায় হাতবদল হয়। সবশেষ দর ছিল ৩৯ টাকা ৪০ পয়সা। দিনভর শেয়ারদর সর্বনি¤œ ৩৭ টাকা ১০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ৩৯ টাকা ৭০ পয়সায় ওঠানামা করে। এক বছরের মধ্যে শেয়ারদর ৪৭ টাকা ২০ পয়সা থেকে ২৬ টাকায় ওঠানামা করে।
সবশেষ ২০১৮ সালে কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের জন্য মাত্র তিন শতাংশ বোনাস শেয়ার লভ্যাংশ হিসেবে দিয়েছে, যা আগের বছর ছিল দুই শতাংশ বোনাস।
খাদ্য খাতের বি ক্যাটেগরির কোম্পানিটি ২০০২ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। ১০০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন ১৩ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। রিজার্ভের পরিমাণ ৮২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। কোম্পানিটির এক কোটি ৩৯ লাখ ৭৩ হাজার শেয়ার রয়েছে। ডিএসই থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্যমতে, কোম্পানির মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে এক দশমিক ০৯ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক দশমিক ০১ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে ৯৮ দশমিক ৯০ শতাংশ শেয়ার।
তালিকার চতুর্থ স্থানে রয়েছে রেকিট বেনকিজার (বিডি) লিমিটেড। সপ্তাহজুড়ে কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে ১০ দশমিক ৭৯ শতাংশ। গত সপ্তাহে কোম্পানিটির গড়ে প্রতিদিন ছয় কোটি ৯০ লাখ ১০ হাজার ২৫০ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। আর পুরো সপ্তাহে লেনদেন হয় ২৭ কোটি ৬০ লাখ ৪১ হাজার টাকার শেয়ার। সপ্তাহের শেষদিনে ওষুধ ও রসায়ন খাতের বহুজাতিক এ কোম্পানিটির শেয়ারদর চার দশমিক ০৫ শতাংশ বা ১৪১ টাকা ১০ পয়সা বেড়েছে। কোম্পানিটি সবশেষ ২০১৭ সালে ৭৯০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল। সবশেষ তৃতীয় প্রান্তিক (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর, ২০১৮) শেষে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৪১ টাকা ৮৮ পয়সা। ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ পর্যন্ত শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছে ৫৪ টাকা ৬৬ পয়সা।
তালিকার পঞ্চম স্থানে রয়েছে রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স। এ কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে ৯ দশমিক ৬১ শতাংশ। গত সপ্তাহে কোম্পানিটির গড়ে প্রতিদিন তিন কোটি ১২ লাখ ৭৩ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আর পুরো সপ্তাহে লেনদেন হয় ১২ কোটি ৫১ লাখ টাকার শেয়ার।
তালিকায় থাকা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে ম্যারিকো বাংলাদেশের দর বেড়েছে আট দশমিক ৪২ শতাংশ। গড়ে প্রতিদিন লেনদেন হয় ১০ কোটি ৩০ লাখ টাকার শেয়ার। সপ্তাহজুড়ে লেনদেন হয় ৪১ কোটি ২৩ লাখ টাকার। সপ্তম অবস্থানে উঠে আসে রংপুর ফাউন্ড্রি লিমিটেড। কোম্পানিটির দর বেড়েছে সাত দশমিক ৫১ শতাংশ। গড়ে প্রতিদিন লেনদেন হয় ৭০ লাখ ৯৬ হাজার টাকার। সপ্তাহজুড়ে লেনদেন হয় দুই কোটি ৮৩ লাখ টাকার। বিডি অটোকারসের দর পাঁচ দশমিক ৪৮ শতাংশ বেড়েছে। সপ্তাহজুড়ে লেনদেন হয় ছয় কোটি ৮১ লাখ টাকার। জেএমআই সিরিঞ্জের দর পাঁচ দশমিক ৩৮ শতাংশ বেড়েছে। সপ্তাহজুড়ে লেনদেন হয় ১০ কোটি ৫৫ লাখ টাকার। লিবরা ইনফিউশনের দর পাঁচ দশমিক ২০ শতাংশ বেড়েছে। সপ্তাহজুড়ে লেনদেন হয় ৯ কোটি ৪৭ লাখ টাকার।