ইয়াবা বন্ধে সহায়তা করছে না মিয়ানমার

নিজস্ব প্রতিবেদক: মাদক পাচার বন্ধে বাংলাদেশকে মিয়ানমার সহায়তা করছে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি জানান, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে তিন কোটির বেশি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
গতকাল জাতীয় সংসদে মাদকবিরোধী অভিযান চলার মধ্যে এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা জানান।
বাংলাদেশে এখন মাদকের মধ্যে ইয়াবাই সবচেয়ে আলোচিত, যা মূলত মিয়ানমার হয়ে চোরাপথে এসে থাকে। ফেনসিডিলের মতো মাদক পাচার বন্ধে ভারতের সহযোগিতা পাওয়া গিয়েছিল বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আগে জানিয়েছিলেন। তখন মিয়ানমারের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগও করেছিলেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইয়াবা পাচার রোধে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে তিনটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে মিয়ানমারকে ইয়াবার উৎপাদন ও চালান বন্ধে ব্যবস্থা গ্রহণসহ মিয়ানমার সীমান্তে অবস্থিত ইয়াবা তৈরির কারখানা সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হয়েছে। কিন্তু মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছার অভাবে এ বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি।
মন্ত্রী জানান, ২০১৬ সালে দুই কোটি ৯৪ লাখ ৫০ হাজার ১৭৮টি এবং ২০১৭ সালে চার কোটি ৭৯ হাজার ৪৪৩টি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। চলতি বছর জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত উদ্ধার করা হয় তিন কোটি ২৮ লাখ ৬১১টি ইয়াবা ট্যাবলেট।
চলমান মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে তিনি বলেন, মাদক সম্রাট বা মাদক গড ফাদারদের আইনের আওতায় আনার লক্ষ্যে মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা ধরে অভিযান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
তিনি জানান, ২০১৬ সালে ৮৭ হাজার ১৪ মাদক বিক্রেতার বিরুদ্ধে ৬৯ হাজার ৬৩৯টি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। ২০১৭ সালে এক লাখ ৩২ হাজার ৮৮৩ জনের বিরুদ্ধে এক লাখ ছয় হাজার ৫৩৬টি মামলা হয়েছে। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে ২৭ হাজার ৩৪০টি মামলায় ৩৫ হাজার ১১২ জনকে গ্রেফতারের তথ্যও সংসদকে জানানো হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, গত বছর ১২ হাজার মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে মাদকসংক্রান্ত পাঁচ হাজার ৯৯১টি মামলা করা হয়েছে। চলতি বছর মে পর্যন্ত চার হাজার ৭৫৪টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে দুই হাজার ৪১৬টি মামলা করা হয়েছে। এ সময় দুই হাজার ৬৫৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।
মাদক আইনে শাস্তি বাড়ানোর উদ্যোগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগের লক্ষ্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮-এর খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে। এতে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।