হোম সম্পাদকীয় ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আমাদের জন্যও জরুরি

ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আমাদের জন্যও জরুরি


Warning: date() expects parameter 2 to be long, string given in /home/sharebiz/public_html/wp-content/themes/Newsmag/includes/wp_booster/td_module_single_base.php on line 290

গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত ‘বাংলাদেশে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সহায়তা দেবে ইউনিডো’ শিরোনামের প্রতিবেদনটি অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে থাকবে। গত ৬ সেপ্টেম্বর শিল্প মন্ত্রণালয়ের একটি বৈঠকে জাতিসংঘের শিল্প উন্নয়ন সংস্থার পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে ইলেকট্রনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কারিগরি সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। ঘনবসতিপূর্ণ এ দেশে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বরাবরই জটিল। সেখানে ইলেকট্রনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়টি আমাদের জন্য নতুন বলা যায়। তাই এক্ষেত্রে আশা করি ইউনিডোর কারিগরি সহায়তা ও পরামর্শ আমাদের জন্য একটি ভালো সুযোগ হতে যাচ্ছে।

বাংলাদেশে প্রযুক্তিপণ্যের জোয়ার শুরু হয়েছে বেশিদিন হয়নি। তা সত্ত্বেও ইতোমধ্যে ই-বর্জ্যরে ঝুঁকি যতটা জটিল রূপ নিয়েছে, তাতে এ সমস্যা মোকাবিলায় আর কালক্ষেপণ করা ঠিক হবে না। বর্তমানে দেশে বছরে এক কোটি টনেরও বেশি ই-বর্জ্য ময়লার স্তূপে জমা হচ্ছে। দেশে ১৩ কোটি মানুষের হাতে হাতে মোবাইল ফোন; অন্যান্য বৈদ্যুতিক পণ্যের গ্রাহকও বেড়ে চলেছে, যার ৩০ শতাংশই কঠিন বর্জ্যে পরিণত হচ্ছে। একদিকে বেড়েছে ক্রয়ক্ষমতা, অন্যদিকে তৈরি হচ্ছে নিত্যনতুন প্রযুক্তিপণ্যের চাহিদা। আরও আরামদায়ক ও কার্যকর জীবনের আশায় দিন দিন প্রযুক্তিনির্ভরতা বাড়তেই থাকবে। তরুণ ও আধুনিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে গেজেটপ্রীতিও বাড়ছে। আবার নবতর ও বেশি আকর্ষণীয় পণ্যের কারণে বাদ পড়ছে পুরোনো ইলেকট্রনিক পণ্য। এভাবে সময়ের সঙ্গে ই-বর্জ্যরে পরিমাণ বাড়তেই থাকবে, যদিও এখন পর্যন্ত এর সঠিক পরিমাণের গ্রহণযোগ্য সরকারি পরিসংখ্যান নেই।

আমরা এখন ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার পথে। শিল্পসমৃদ্ধ মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তরের প্রক্রিয়াও চলমান। তারই আওতায় আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন শিল্প-কারখানা গড়ে তোলার লক্ষ্যে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন করা হচ্ছে। এতেও বাড়বে ই-বর্জ্যরে পরিমাণ। অথচ এর ক্রমবর্ধমান বোঝা ব্যবস্থাপনায় দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি, যা আশঙ্কাজনক। সম্প্রতি এ-বিষয়ক নীতিমালার একটি খসড়া প্রণয়ন করা হলেও তা নিয়ে রয়েছে মতবিরোধ। সংশ্লিষ্ট সব মহলের অংশগ্রহণ ও যথাযথ সমন্বয় ছাড়া এ ধরনের নীতিমালা তৈরি করে সমস্যার সমাধান হবে বলে মনে হয় না। এক্ষেত্রে প্রযুক্তিপণ্যের গ্রাহক বা উৎপাদক-ব্যবসায়ী নয়, বরং তৃতীয় কোনো পক্ষকে ই-বর্জ্য সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দিলে হয়তো এর কার্যকরী সুরাহা হতে পারে।

ক্রমবর্ধমান ই-বর্জ্যরে সঠিক ও পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থাপনার বিষয়টি বিশ্বের কিছু উন্নত দেশের জন্যও চ্যালেঞ্জের। ইউরোপভুক্ত দেশগুলো তাদের উৎপাদিত ইলেকট্র্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক বর্জ্যরে ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত পুনর্ব্যবহারের উপায় নিয়ে কাজ করছে। আমরাও তাদের অনুসরণ করতে পারি। এজন্য উৎপাদক, ব্যবসায়ী, জনসাধারণ ও সরকারÑসবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। জনগণকে সচেতন হতে হবে বৈদ্যুতিক পণ্যের সদ্ব্যবহার ও ই-বর্জ্যরে যথাযথ অপসারণ বিষয়ে। সরকারকেও পরিবেশের ওপর ই-বর্জ্যরে ক্ষতিকর প্রভাব ও এর স্বাস্থ্যঝুঁকির ব্যাপারে জনগণকে সচেতন করতে হবে।