সুশিক্ষা

ই-ব্যাংকিং এখন সময়ের চাহিদা

কোনো দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির বড় চালিকাশক্তি হলো ব্যাংক খাত। ব্যাংককে বলা হয় অর্থনীতির ধারক ও বাহক। তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের ছোঁয়া লেগেছে দেশের ব্যাংকিং সেবায়। ব্যাংক খাতে ডিজিটাল আর্থিক সেবার পরিধি ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে, অনেক গ্রাহক যুক্ত হয়েছেন। প্রথাগত ব্যাংকিং মাধ্যমের লেনদেনকে ছাড়িয়ে গেছে অনলাইনভিত্তিক লেনদেন।
বর্তমানে এটিএম কার্ড, ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড, হোম ব্যাংকিং, মোবাইল ব্যাংকিং, ইন্টারনেট ব্যাংকিং, এসএমএস ব্যাংকিংসহ নানা ধরনের আকৃতি ও ধরনে ই-ব্যাংকিং মানুষের দোরগোড়ায় উন্নত মানের ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দিতে
সক্ষম হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সূত্রমতে, শুধু ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবায় গত ডিসেম্বরে গ্রাহক ছিল ২০ লাখ ৪০ হাজার। ওই এক মাসে লেনদেন হয়েছিল দুই হাজার ৮৮৮ কোটি টাকা। এক কোটি ৫৪ লাখ ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডে গত ডিসেম্বরে লেনদেন হয়েছে ১৩ হাজার ৭৩৪ কোটি টাকা। সারা দেশে এটিএম বুথ রয়েছে ১০ হাজার ৩৫৫। কেনাকাটার জন্য পয়েন্ট অব সেলস রয়েছে ৪৫ হাজার ৮৯৬টি। আর সারা দেশের ১০ হাজার ১০৯ শাখার মধ্যে আট হাজার ৮৯৯ ব্যাংক শাখাই অনলাইনের আওতায়। এর মধ্যে বিদেশি ব্যাংকগুলোর শতভাগ শাখা অনলাইনে। সরকারি ব্যাংকগুলো ৯৯ শতাংশ, বেসরকারি ব্যাংকগুলোর ৯৭ শতাংশ ও বিশেষায়িত সরকারি ব্যাংকগুলোর ২৫ শতাংশ শাখা অনলাইনে। বর্তমানে দেশে সব মিলিয়ে ৫৯টি ব্যাংক কার্যক্রমে আছে। এর মধ্যে হাতে গোনা কয়েকটি ব্যাংক ছাড়া সব ব্যাংকই অনলাইন ব্যাংকিং সেবা দিচ্ছে। এর মধ্যে কেউ দিচ্ছে পুরোপুরি ব্যাংকিং সেবা, কেউবা অল্প কিছু সেবা।
প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতি ও
অগ্রগতিতে জীবন হয়ে উঠেছে গতিময়, স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ ও সমৃদ্ধ।
গ্রাহক হচ্ছেন ব্যাংকের প্রাণ, ব্যাংকের সম্পদ এবং ব্যাংকিং কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দু। প্রযুক্তি-বিপ্লবের সঙ্গে সঙ্গে গ্রাহকদের জীবনযাত্রার মানে এসেছে নানা ধরনের পরিবর্তন। এ জন্য ডিজিটাল মাধ্যমে সেবা নিতে গ্রাহকদের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। বাংলাদেশে বড় একটা বাজার অপেক্ষা করছে নতুন ডিজিটাল মাধ্যমে সেবা নিতে। নতুন প্রজন্ম নতুন মাধ্যমে সেবা নিতে চায়। দেশের ১৫-২০টি ব্যাংক পূর্ণাঙ্গ ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবা দিতে পারছে। সব ব্যাংককেই নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে ডিজিটাল সেবায় যুক্ত হতে হবে। সময়ের প্রয়োজনে সব ব্যাংককেই এদিকে আসতে হবে যারা আসবে না, তারা পিছিয়ে পড়বে, তা অত্যন্ত স্পষ্ট।

কাজী আশফিক রাসেল

 

 

 

সর্বশেষ..