ঈদের আগেই চামড়া খাতের সমস্যায় নজর দিন

দেশের সম্ভাবনাময় ও গুরুত্বপূর্ণ দুটি খাত গার্মেন্ট ও চামড়া। প্রতি বছর রফতানি আয়ের বড় অংশই আসে এ দুই খাত থেকে। এর মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম রফতানি পণ্য চামড়া খাতের গুরুত্ব অনুধাবন করে একে ২০১৭ সালের বর্ষপণ্যও ঘোষণা করেছিল সরকার। কিন্তু নানা প্রতিবন্ধকতায় এ খাত সে লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। গতকালের শেয়ার বিজে ‘রফতানিবর্ষে লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ চামড়া খাত’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এতে বলা হয়, ২০১৭ সালে মোট ১৩০ কোটি ৫১ লাখ ৬০ হাজার ডলার রফতানি লক্ষ্যের বিপরীতে আয় হয়েছে ১২২ কোটি ৬৩ লাখ ৪০ হাজার ডলার। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে যা সাত কোটি ৮৮ লাখ ২০ হাজার ডলার বা ছয় শতাংশ কম।
চামড়াশিল্পের হঠাৎ এমন অবস্থানের জন্য বেশ কিছু বিষয়কে দায়ী করেছেন ব্যবসায়ীরা। এর মধ্যে সময়মতো ঋণ না পাওয়া, হাজারীবাগ থেকে শিল্পনগরী সাভারে যাওয়ার পর গুছিয়ে উঠতে না পারা, চামড়ার মান নষ্ট হওয়া, এমনকি সরকারের যথাযথ সহযোগিতা না পাওয়ার মতো অভিযোগও করেছেন তারা। খবরেই উল্লেখ করা হয়েছে, হাজারীবাগের ২২২টির মধ্যে সাভারে মাত্র ৭০টি ট্যানারি পুরো উৎপাদনে যেতে সক্ষম হয়েছে। এতদিনেও সব কারখানা পুরো উৎপাদনে যেতে না পারা উদ্বেগের। এতে অনেক ট্যানারির চামড়া নষ্ট হয়ে যাচ্ছে কিংবা মান খারাপ হচ্ছে। পরিবেশগত কারণে কিছু বিদেশি বায়ার চামড়া কিনছে না বলেও জানা যাচ্ছে। এগুলো আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। এসব সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারলে ২২ হাজার কোটি ডলারের বৈশ্বিক বাজারের বড় অংশীদার হওয়া সম্ভব বলেই আমাদের বিশ্বাস।
আমাদের রফতানি খাতে গার্মেন্টের অবদান অনেক বেশি থাকলেও চামড়া খাতের গুরুত্ব কোনো অংশেই কম নয়। বরং কিছু ক্ষেত্রে চামড়ার ভূমিকা বেশি। এ খাত একদিকে শ্রমঘন, একই সঙ্গে প্রায় সম্পূর্ণরূপে আমাদের নিজস্ব সম্পদ। পশুপালন থেকে চামড়া প্রক্রিয়াজাত ও পণ্য তৈরিÑসবকিছুই দেশে সম্পন্ন হয়। ফলে অসংখ্য মানুষের জীবিকাও এতে জড়িত। কিছু পশু অবশ্য ভারতসহ অন্যান্য দেশ থেকে আসে। সব মিলিয়ে ভবিষ্যতে আমাদের অর্থনীতিতে এ খাতের অবদান বাড়বে বৈ কমবে না।
চামড়া আমাদের দ্বিতীয় বৃহত্তম রফতানি পণ্য হলেও দেশেও এর বিশাল বাজার রয়েছে। এছাড়া দেশে উৎপাদিত চামড়ার মান ভালো হওয়ায় বিদেশেও এর সুনাম রয়েছে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে চামড়াশিল্পের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করা সম্ভব। বিশেষত আমাদের যে ১৬ কোটি জনসংখ্যার বিশাল বাজার রয়েছে, তা পুরোপুরি না হলেও অনেকটাই নিজস্ব পণ্যের বাজারে পরিণত করা সম্ভব। এতে বিপুল মানুষের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি দেশেই মানসম্মত পণ্য উৎপাদিত হবে। ইতোমধ্যে চামড়াজাত পণ্য তৈরির কিছু দেশীয় কোম্পানি সুনামের সঙ্গে পণ্য উৎপাদন করছে। এক্ষেত্রে চামড়া খাতকে আরও ভালোভাবে গড়ে তুলতে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি প্রয়োজনে বৈদেশিক নামি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ গড়ে তোলার বিষয়টি ভেবে দেখা যেতে পারে।
আমাদের দেশে প্রতি বছর যে পরিমাণ চামড়া উৎপাদিত হয়, তার সিংহভাগই আসে কোরবানি ঈদের সময়। তখন অল্প সময়ের মধ্যেই বিপুল পরিমাণ চামড়া প্রক্রিয়াজাত করতে হয়। এটা বড় চ্যালেঞ্জ সন্দেহ নেই। এক্ষেত্রে আমাদের সক্ষমতা আরও বাড়ানো প্রয়োজন। অন্যথায় এ খাত আরও সমস্যায় নিমজ্জিত হতে পারে বলে শঙ্কা অনেকের। ইতোমধ্যে ব্যবসায়ীরা কোরবানি ঈদ সামনে রেখে তাদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। বিষয়টি আমলে নিয়ে সরকারের এখনই প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া জরুরি বলে আমরা মনে করি।