ঈদ আনন্দ হোক সবার

ও মন রমজানের ওই রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ…। ঈদ মানে আনন্দ। ঈদ মানে খুশি। এই আনন্দ আর খুশির বারতার জন্য অপেক্ষা করতে হয় রমজান মাসের প্রথম দিন থেকেই। রমজানের এক মাস সিয়াম সাধনা শেষে আনন্দ নিয়ে আসে পবিত্র ঈদুল ফিতর। মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। হিজরি সনের সাওয়াল মাসের এক তারিখে বিশ্বের তাবত মুসলমান উদ্যাপন করেন ঈদুল ফিতর।
প্রকৃতপক্ষে এক মাস সিয়াম সাধনার মাধ্যমে মানুষ আল্লাহর নৈকট্য লাভ করে। সংযমের শিক্ষা গ্রহণ করে রোজা পালনের মাধ্যমে। আর এই রোজা পালনের কঠিন শিক্ষা গ্রহণকে আরও মর্যাদাপূর্ণ করতে মহান আল্লাহতায়ালা মুসলমানদের জন্য উপহার দিয়েছেন ঈদুল ফিতর। পবিত্র রমজান মাস মুসলমানদের জন্য সবচেয়ে ফজিলতের মাস। দিনে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে ১৭টি ফরজ। এ মাসে তার সঙ্গে যুক্ত হয় সিয়াম সাধনা। এমন একটি ফজিলতের মাসে মুসলমানরা যে সাধনা করেন, তার পুরস্কার হিসেবেই ঈদ আমাদের মাঝে আনন্দ বয়ে আনে।
মুসলমানের জন্য রোজা ফরজ করা হয়েছে। পবিত্র কোরআন মজিদে বলা আছে, ‘হে মুমিনরা, তোমাদের জন্য সিয়াম ফরজ করা হলো, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যেন তোমরা মুত্তাকি হও।’ ঈদের আনন্দ মুমিন মুসলমানের জন্য হলেও এর একটি সামাজিক দিক রয়েছে। সে কারণে ঈদ আনন্দ সবার মাঝে বিলিয়ে দেওয়া, সবাইকে নিয়ে ঈদ আনন্দ উপভোগ করার মাঝে প্রকৃত আনন্দ খুঁজে পাওয়ার রেওয়াজ হয়ে গেছে।
ঈদের দিনে নতুন জামা-কাপড় পরা, উন্নতমানের খাবার খাওয়া ও আত্মীয়-স্বজন নিয়ে উল্লাস করার মাঝে ধর্মীয় তেমন গুরুত্ব না থাকলেও এটি সামাজিক রীতিতে পরিণত হয়েছে। ঈদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক। ঈদ এলে নতুন জামা-কাপড় পরে বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করা হয়।
ঈদ পোশাক কেনার ক্ষেত্রে অনেকেই প্রয়োজনের সীমা ছাড়িয়ে যান। যাদের সামর্থ্য আছে, তারাই এমন করেন। হয়তো তারা ধর্মীয় অনুশাসন মেনে জাকাতও দিচ্ছেন। প্রসঙ্গত, জাকাত ও রোজা দুটোই ইসলামের স্তম্ভ। পবিত্র হাদিস শরিফে আছে, জাকাত দীন ইসলামের স্তম্ভ। একটি বিষয় এখানে পরিষ্কার যে, ঈদের আগে জাকাত দেওয়া হয় কেন? এর মূলে রয়েছে যাতে ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সবাই ঈদে নতুন কাপড় পরতে পারে। সবাই ভালো খাবার খেতে পারে, সর্বোপরি সবাই যাতে খুশিতে ঈদ কাটাতে পারে। যারা ধনী, তারা জাকাত দেবেনÑএটি ইসলামের বিধান। আত্মীয়-স্বজন বা পাড়া-প্রতিবেশীদের মধ্যে অনেকেই আছেন, যারা জাকাত গ্রহণের উপযোগী নন। কিন্তু হয়তো ঈদের সময় বিশেষ কোনো সংকটে সেভাবে আনন্দ করতে পারছেন না। পারছেন না ছেলেমেয়েদের নতুন পোশাক কিনে দিতে। একজন সচ্ছল প্রতিবেশী হিসেবে ওই পরিবারের পাশে দাঁড়ানো আপনার-আমার নৈতিক দায়িত্ব। ইসলাম ধর্মে প্রতিবেশীর খোঁজ-খবর নেওয়ার কথা বলা আছে। তাই শুধু নিজেদের জন্য নয়, দরিদ্র, নিকটাত্মীয়, প্রতিবেশী ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাশে থেকে তাদের জন্য কিছু করার মধ্যেও যে আনন্দ আছে সেটাও পাওয়া যায়।
ঈদ আনন্দ হোক সবার। সমাজের সব শ্রেণির মানুষ ঈদ আনন্দ করতে পারলেই সার্থক হবে আমাদের উৎসব আনন্দ।