বাণিজ্য সংবাদ

ঈদ কেনাকাটায় শ্রমিকের ভরসা সাভারের ফুটপাত

ইমতিয়াজ উল ইসলাম, সাভার: ঈদের বাকি আর মাত্র ক’দিন। স্থানীয় মধ্য ও উচ্চবৃত্ত শ্রেণির মানুষ প্রতিনিয়তই ভিড় করছে নামিদামি ব্যান্ডের শো-রুমগুলোতে। কিন্তু সাভারের শ্রমিকদের কেনাকাটার ভরসা শুধু ফুটপাত। এ এলাকায় প্রচুর গার্মেন্ট শিল্প থাকায় স্থানীয় জনগণতের মতো শ্রমিক সংখ্যাও অনেক।
ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সাভারের ছোট-বড় বিপণিবিতানের পাশাপাশি ইতোমধ্যেই জমে উঠেছে সড়ক ও মহাসড়ক ঘেঁষা বিভিন্ন ফুটপাত। শ্রমিক অধ্যুষিত অঞ্চলের অধিকাংশ বাসিন্দা তৈরি পোশাক কারখানার নিন্ম আয়ের শ্রমিক হওয়ায় ফুটপাতগুলোর ক্রেতা মূলত তারাই। বড় বিপণিবিতানগুলোতে জিনিসপত্রের দাম নাগালের বাইরে হওয়ায় ঈদ কেনাকাটায় এসব ফুটপাতই যেন ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে শ্রমিকদের। মার্কেটের চেয়ে তুলনামূলক কম দাম হওয়ায় ফুটপাত থেকেই নিজের ও প্রিয়জনের ঈদ কেনাকাটা সেড়ে নিচ্ছেন তারা। আর ক্রেতা সমাগম বেড়ে যাওয়ায় বিকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ব্যস্ত সময় পাড় করছেন এসব ফুটপাতের দোকানিরা।
সাভার ও আশুলিয়ার বিভিন্ন ফুটপাত ঘুরে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের বিকিকিনির ব্যস্ত সময় পাড় করার দৃশ্য দেখা গেছে। বিশেষ করে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের আশুলিয়ার নবীনগর জাতীয় স্মৃতিসৌধ সংলগ্ন ফুটপাতটি সন্ধ্যার পর হতেই জমে উঠে ক্রেতাদের ভিড়ে। এছাড়া নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের বলিভদ্র এলাকার চিত্রও একই। আর টঙ্গী-আশুলিয়া-ইপিজেড সড়কের জামগড়া এলাকার ফুটপাতটিতে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়ে হয়ে উঠেছে জমজমাট।
জামগড়া এলাকার ফুটপাতের শ্রমিক ক্রেতারা জানান, ঈদের আর অল্প কিছু দিন বাকি। তাই গ্রামে বাবা, মা, ভাই ও বোনের জন্য তিনি এই ফুটপাত থেকে কেনাকাটা করতে এসেছেন। আশপাশের মার্কেটগুলোর চেয়ে এখানে তুলনামূলক কম দামে ভালো পোশাক পাওয়া যায়। তাই তাদের মত নিন্ম আয়ের শ্রমিকদের ঈদ কেনাকাটার জন্য ফুটপাতই একমাত্র ভরসা।
বলিভদ্র এলাকায় ফুটপাতের ক্রেতা ডিইপিজেডের শ্রমিক নাসরিন আক্তার বলেন, এখন পর্যন্ত কারখানা থেকে বেতন দেওয়া হয়নি। কিন্তু ছেলেমেয়ের বায়নার কারণে তার জমানো কিছু টাকা থেকে ওদের জন্য পোশাক কিনতে এসেছেন তিনি। আর বেতন পেলে নিজের ও পরিবারের অন্যদের জন্যও পোশাক কিনবেন এ ফুটপাত থেকেই।
নবীনগর এলাকার ফুটপাতের ক্রেতা শ্রমিক গিল্ডেন শাহরিয়ার কারখানার শ্রমিক দেলোয়ার হোসেন জানান, বেতন না পাওয়ায় ছুটির দিনে কারখানার সহকর্মীদের নিয়ে এ ফুটপাতে পোশাক ও জুতার দাম যাচাই করতে এসেছেন। এখানে অনেক কম দামে ভালো শার্ট, প্যান্ট, পাঞ্জাবি, ঘরি, বেল্ট ও সানগ্লাস পাওয়া যায়। বেতন পেলে এখান থেকে সব কিনেই তিনি বাসযোগে গ্রামের বাড়ি রংপুরে ফিরবেন।
নবীনগর, বলিভদ্র ও জামগড়া এলাকার ফুটপাতের দোকানিরা জানান, ঈদ উপলক্ষে ইতোমধ্যেই ক্রেতাদের আগমনে তাদের ব্যবসা জমে উঠেছে। দিনের বেলা ফুটপাতে পুলিশ বসতে না দেওয়ায় সন্ধ্যার পর থেকে অতিরিক্ত ক্রেতাদের চাপে দম ফেলার ফুরসত পান না তারা। তবে গার্মেন্ট গুলোর বেতন হলে সপ্তাহের ছুটির দিন গুলোতে তাদের বিক্রি কয়েক গুণ বেড়ে যাবে বলেও প্রত্যাশা তাদের।

সর্বশেষ..