বাণিজ্য সংবাদ

ঈদ ঘিরে জমজমাট সাভারের বিপণিবিতানগুলো

ইমতিয়াজ উল ইসলাম, সাভার: আসন্ন ঈদুল ফিতর ঘিরে সাভারের ছোট-বড় বিপণিবিতানগুলোতে বেড়েছে ক্রেতা সমাগম। দিনের বেলায় প্রচণ্ড দাবদাহের কারণে সন্ধ্যার পর বিপণিবিতানে ভিড় জমাচ্ছেন ক্রেতারা। কিনছেন নিজেদের পছন্দের পা-জামা, পাঞ্জাবিসহ সব ধরনের পোশাক।
আর বিক্রেতারাও ঈদ মৌসুমে বাড়তি লাভের আশায় নতুন ডিজাইনের পণ্যে দোকানে পসরা সাজিয়েছেন। তবে গতবারের তুলনায় এবার পোশাকের দাম কিছুটা বেশি বলে ক্রেতারা অভিযোগ করলেও তুলনামূলক কম দামেই পোশাক বিক্রি করছেন বলে জানান বিক্রেতারা।
সরেজমিনে গিয়ে গতকাল দেখা যায়, ইফতারের পর থেকেই গভীর রাত পর্যন্ত সাভার ও আশুলিয়ার ছোট বড় বিভিন্ন বিপণিবিতানে দেখা গেছে ব্যাপক ক্রেতা সমাগম। নিজের ও পরিবারের সদস্যদের জন্য কেনাকাটা করতে সাভারের নিউমার্কেট, সিটি সেন্টার, রাজ্জাক প্লাজাসহ বড় মার্কেটগুলোর পাশাপাশি রাস্তার দু’ধারে হকার্স মার্কেটগুলোতেও ক্রেতাদের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। এছাড়া আশুলিয়ার সেনা শপিং কমপ্লেক্স, হাসেম প্লাজা, মণ্ডল মার্কেটসহ ছোট বিপণিবিতানেও বেড়েছে ক্রেতাদের ভিড়।
সিটি সেন্টারে পরিবার নিয়ে ঈদ কেনাকাটা করতে আসা গৃহিণী সুমি আক্তার জানান, প্রতি বছর ঈদে অতিরিক্ত ভিড় বাড়ার আগেই তিনি স্বামী, দুই সন্তান, শ্বশুর-শাশুড়ি ও বাবা-মায়ের জন্য আগেভাগেই কেনাকাটা সেরে নেন। এ বছরও আজ (গতকাল) তিনি স্বামী ও দুই সন্তানকে নিয়ে মার্কেটে এসেছেন। এর মধ্যেই সন্তানদের জন্য পোশাক ও স্বামীর জন্য পাঞ্জাবি কিনেছেন। তবে দামে বনিবনা না হওয়ায় এখন পর্যন্ত নিজের জন্য শাড়ি ও পরিবারের অন্যদের জন্য পোশাক কেনা হয়নি। গতবারের চেয়ে এবার পোশাকের দাম কিছুটা বেশি বলে অনেক দোকান ঘুরতে হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
একই মার্কেটের কাপড় বিক্রেতা আনোয়ার হোসেন জানান, ঈদ মৌসুমে বাড়তি লাভের আশায় তিনি ইতোমধ্যেই বাহারি রঙ ও ডিজাইনের পোশাক মজুদ করেছেন। তার দোকানে পাঞ্জাবি, শাড়ি, থ্রিপিচ, ও ছোটদের পোশাকের অনেক কালেকশন আছে। যা তুলনামূলক কম দামে স্বল্প লাভেই বিক্রি করছেন। ইতোমধ্যেই তাদের মার্কেটে ক্রেতা সমাগম বেড়ে যাওয়ায় সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত দোকানে ব্যস্ত সময় পাড় করতে হচ্ছে তাকে।
সাভারের নিউমার্কেটে ঈদের কেনাকাটায় ব্যস্ত তরুণী তানিয়া আহমেদ বলেন, তিন হাজার টাকা দিয়ে একটি থ্রিপিচ কিনেছেন। আর এর সঙ্গে মিলিয়ে সিøপার ও গয়না পছন্দ করছেন। তবে গতবারের চেয়ে এবার ঈদে বিক্রেতারা একটু বেশি দাম হাঁকছেন বলেও জানান এ তরুণী।
এ বিপণিবিতানে জুতার শোরুমের বিক্রেতারা জানান, গত কয়েক ধরে তাদের দোকানে ক্রেতাদের ভিড় বেড়েছে। এর মধ্যে নারী ও শিশু ক্রেতাদের সংখ্যাই বেশি। তবে ২০ রমজানের পরে তাদের বিক্রি আরও বাড়বে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
আশুলিয়ার সেনা শপিং কমপ্লেক্সের ক্রেতা সাইদুল ইসলাম বলেন, এবার ঈদে কম মূল্যে ভালোমানের একটি পাঞ্জাবি নিজের জন্য কিনবেন তিনি। এছাড়া গ্রামের বাড়িতে বাবা, মা, ভাইবোন ও স্বজনদের জন্যও ঈদের পোশাক কিনতে হবে তার। তাই আগে থেকেই সবার জন্য দোকান ঘুরে ঘুরে দর যাচাই করছেন। পছন্দের সঙ্গে দামের মিল হলেই শুধু তিনি জিনিস ক্রয় করবেন।
সেনা শপিং কমপ্লেক্সের প্রসাধনী ও গয়না বিক্রির দোকানিরা জানান, পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে এমিটেশন জাতীয় গয়না, টিপ, নেইল পলিশ, মেকাপ, চুড়িসহ প্রসাধনী কিনতে নারী ক্রেতারা দোকানে ভিড় জমাচ্ছেন। ইতোমধ্যেই অতিরিক্ত ক্রেতা সমাগমের কারণে হিমসিম খেতে হচ্ছে তাদের।
এছাড়া সাভার ও আশুলিয়ার বিভিন্ন ছোট বিপণিবিতানগুলোতে ছুটির দিন ছাড়াও ক্রেতা সমাগমে দম ফেলার ফুরসত পাচ্ছেন না এ মার্কেটের দোকানিরা। স্বল্প আয়ের ক্রেতারা কম দামে চাহিদামত ঈদসামগ্রী কিনতে প্রতিদিন ছুটে আসছেন এসব দোকানে। আর বিক্রেতারাও এ ক্রেতাদের চাহিদা মাথায় রেখে তাদের দোকানে ঈদ কালেকশন রেখেছেন বলে জানিয়েছেন।

সর্বশেষ..