ঈশ্বরগঞ্জে ৫০০ হেক্টর জমিতে শিম চাষ

এম ইদ্রিছ আলী, ময়মনসিংহ: ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে ৫০০ হেক্টর জমিতে শিম চাষ হয়েছে। বর্তমানে ফুলে ফুলে ভরে গেছে শিমক্ষেত। অনেক ক্ষেত থেকে শিম তুলে ট্রাকে করে দেশের বিভিন্ন বাজারে নিয়ে যাচ্ছেন পাইকাররা। ফলন ও দাম ভালো পাওয়ায় খুশি কৃষক।

উপজেলা কৃষি অফিস থেকে জানা যায়, উপজেলার রাজিবপুর ও উচাখিলা ইউনিয়নের ব্র?হ্মপুত্র ও কাঁচামাটিয়া নদীর চরাঞ্চলে প্রচুর সবজির আবাদ হয়। উচাখিলা মরিচের জন্য বিখ্যাত এবং রাজিবপুর ইউনিয়নে প্রচুর শিম উৎপাদিত হয়। ইউনিয়ন দুটির কয়েকটি গ্রামে এবার ৫০০ হেক্টর জমিতে বারি-২ জাতের শিম চাষ হয়েছে।

শিমের সবুজ ডগায় সাদা-বেগুনি ফুলে ছেয়ে গেছে মাঠ। তবে এবার শিমে জো-পোকার আক্রমণ দেখা দেওয়ায় চাষিরা কিছুটা চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। কিন্তু বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় শিমক্ষেত পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক।

কৃষকরা জানান, ১০ শতাংশ জমিতে শিম চাষে খরচ পড়েছে প্রায় আট হাজার ৫০০ টাকা। এ জমি থেকে গড়ে শিম উৎপাদিত হয় এক হাজার ৮০০ কেজি বা ৪৫ মণ। আর বর্তমানে জমি থেকেই প্রতি কেজি শিম ৪৫ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। তবে সব মিলে গড়ে ২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করলেও এক কাঠা জমি থেকে কৃষক ৩৬ হাজার টাকার শিম বিক্রি করতে পারবে। সে হিসেবে উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে প্রতি কাঠায় কৃষকের লাভ হবে ২৭ হাজার ৫০০ টাকা।

অধিক লাভজনক হওয়ায় কৃষকের পাশাপাশি কৃষাণীরাও শিমক্ষেতে সময় দিচ্ছেন সমান তালে। রাজিবপুর ইউনিয়নের মাছুয়াডাঙ্গা গ্রামের শিমচাষি সুফিয়া খাতুন জানান, অন্যের জমি বর্গা নিয়ে ১২ বছর আগে শিম চাষ শুরু করেন। শিম বিক্রি করে একমাত্র মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। এ পর্যন্ত পাঁচ লাখ টাকায় জমি বন্ধক নিয়েছেন। বাড়ি করার জন্য জমি কিনেছেন। তিনি জানান, এখন তিনি স্বাবলম্বী। এবারও তিনি প্রায় ১২ কাঠা জমিতে শিম চাষ করেছেন।

ওই এলাকার এনামুল হক ফকির জানান, কয়েক বছর ধরে শিমের ফলন ভালো ও দাম ভালো পাওয়ায় এবার চাষিদের উৎসাহের শেষ নেই। এলাকার প্রায় সব জমিতেই এখন শিম চাষ হচ্ছে। শিমের পাশাপাশি আলু, বেগুন ও লাউ চাষও হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে অন্যান্য মৌসুমি সবজির চাষও করা হয়ে থাকে চরাঞ্চলের এসব এলাকায়।

কৃষক শহীদুল ইসলাম বাচ্চু জানান, শিমে জো-পোকার কিছু আক্রমণ আছে। তবে কৃষি বিভাগের লোকজন মাঠে থেকে পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। বিগত বছরের মতো এবারও ফলন ভালো হবে বলে আশাবাদী তিনি।

আবু তাহের আকন্দ জানান, এলাকায় প্রচুর পরিমাণে শিম উৎপাদিত হওয়ায় পাইকাররা মাঠে এসে শিম কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। এতে অনেক সময় তারা ন্যয্য দাম পান না। স্থানীয়ভাবে শিমের একটি বাজার সৃষ্টি করা গেলে কৃষকরা ন্যায্য দাম পাবেন বলে আশা করেন তিনি।

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রফিক উদ্দিন ভুঁইয়া জানান, এ বছর রাজিবপুর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে ৫০০ হেক্টর জমিতে শিম চাষ হয়েছে। শিমের মাঠে অল্প পরিমাণে জো-পোকা থাকলেও তা নির্মূলে ওষুধ প্রয়োগের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে কৃষকদের। ৫০০ হেক্টর জমিতে উৎপাদন খরচ বাদে এ বছর প্রায় ৩৪ কোটি টাকা ঘরে তুলবে কৃষক।

উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা রহিমা খাতুন জানান, শিমচাষিরা কৃষক মাঠ স্কুলের (আইপিএম) মাধ্যমে প্রশিক্ষিত। তারা কীটনাশকের পরিবর্তে নিমপাতা, মেহগনির বীজ বালাইনাশক হিসেবে ব্যবহার করে ভালো ফল পাচ্ছেন। এছাড়া প্লাস্টিকের সুতলি দিয়ে মাচা তৈরি করায় উৎপাদন খরচ কম হচ্ছে। শিম আবাদে ওই অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা পাল্টে যাচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর শিমের বাম্পার ফলন আশা করা হচ্ছে।