সারা বাংলা

উচ্চ আদালতের আদেশ অমান্য করে বালি উত্তোলনের অভিযোগ

এম এ রফিক, শেরপুর: উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার পাহাড়ি নদী তাওয়াকোচা সুমেশ্বরী থেকে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া পাহাড়ি নদী মহারশির আটটি স্থানে শক্তিশালী শ্যালো মেশিন বসিয়ে চলছে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন। পাহাড়ি বিভিন্ন ছড়া, খাল ও নদী থেকেও বালি উত্তোলনের মহোৎসব চলছে। প্রতিদিন শত শত ট্রাক বালি বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে।
জানা গেছে, জেলার ঝিনাইগাতি উপজেলার সীমান্তবর্তী পাহাড়ি সুমেশ্বরী নদীর তাওয়াকোচা বালি মহালটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে আসাদুজ্জামান স্বপন নামে এক ব্যক্তি ১৪২৫ বঙ্গাব্দের ১ বৈশাখ থেকে ৩০ চৈত্র পর্যন্ত (১৪ এপ্রিল ২০১৮ থেকে ১৩ এপ্রিল ২০১৯) এক বছর মেয়াদি ইজারা গ্রহণ করেন। এরপর ইজারার মেয়াদ শেষ হলে বালি ঠিকমতো উত্তোলন করতে না পারায় লোকসান হয়েছে বলে ঠিকাদার চলতি বছরের ১০ মার্চ উচ্চ আদালতে এক রিট পিটিশন দায়ের করেন। আদালত ঠিকাদারকে ৭ এপ্রিল আরও ছয় মাসের জন্য বালি উত্তোলনের অনুমতি দেন। এদিকে হাইকোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে সরকারপক্ষে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব বাদী হয়ে ২ মে উচ্চ আদালতে আপিল করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ওই আদেশ স্থগিত করে বালি উত্তোলনের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে ২৪ জুন শুনানির আদেশ দেন আদালত। কিন্তু তার পরও বালি উত্তোলন বন্ধ করেননি ওই বালু ব্যবসায়ী স্বপন। উচ্চ আদালতের আদেশ অমান্য করায় স্থানীয় জনগণ গত ২৩ মে আইজিপিসহ বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।
অবৈধভাবে বালি উত্তোলন অব্যাহত রাখা এবং উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলেও পরিবেশ অধিদফতর ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে মাঝেমধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে বালি উত্তোলনের সরঞ্জাম জব্দ ও জরিমানা করা হয়। কিন্তু বালি উত্তোলন থেমে নেই। পরিবেশসচেতন মহল অভিযোগ তুলেছে, মহারশি নদী থেকে এভাবে অপরিকল্পিত বালি উত্তোলনের কারণে নদীর তীরবর্তী এলাকার বসতি, আবাদি জমি ও গ্রামীণ সড়ক ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। একই সঙ্গে পরিবেশের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে। এছাড়া উপজেলার সন্ধ্যাকুড়ায় মহারশি নদীর সেতুসহ বেশ কিছু সেতু-কালভার্টও ঝুঁকিতে রয়েছে।
ইজারাদার আসাদুজ্জামান স্বপন বালি উত্তোলনের কথা স্বীকার করে জানান, উচ্চ আদালতের চেম্বার আদালতের শুনানি আগামী ২৪ জুন। ওই তারিখের আগ পর্যন্ত বালি তুলতে পারবেন তিনি। এছাড়া চেম্বার আদালতের আদেশ স্থানীয় প্রশাসন বিচার-বিশ্লেষণ করে তাকে বালি উত্তোলন করার অনুমতি দিয়েছে।
এদিকে সুপ্রিমকোর্টের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বালি উত্তোলনের বিষয়টি স্বীকার করে ঝিনাইগাতি থানার ওসি বিপ্লব বিশ্বাস জানান, বিষয়টি জেলা প্রশাসনের এখতিয়ার হওয়ায় জেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন পুলিশের সহযোগিতা চাইলে তিনি সহযোগিতা করবেন।
এ ব্যাপারে সিভিল কোর্টের আইনজীবী খন্দকার রাকিবুল হাসান জানান, মহামান্য হাইকোর্ট ডিভিশনে ১০ মে বালি উত্তোলনে স্থিতাবস্থার আদেশের পরও বালু উত্তোলন আদালত অবমাননার শামিল।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুবেল মাহমুদ জানান, চেম্বার জজের আদেশ পাননি। পেলে ব্যবস্থা নেবেন। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এবিএম এহসানুল মামুন জানান, আদালতের দুটি আদেশের জন্য বিজ্ঞ জিপি’র মতামত চাওয়া হবে। মতামতের ভিত্তিতে পরে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বশেষ..