প্রচ্ছদ শেষ পাতা

উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনে সহায়ক হবে নতুন মুদ্রানীতি

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন মুদ্রানীতির সঠিক বাস্তবায়ন সম্ভব হলে দেশে উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হবে। একই সঙ্গে সরকারের সামষ্টিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে যথাযথ ভূমিকা রাখবে বলেও অভিমত ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্টরা।
গতকাল রাজধানীর মিরপুরে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) মিলনায়তনে মুদ্রানীতি (জানুয়ারি-জুন, ২০১৯) শীর্ষক এক কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন। কর্মশালায় ঘোষিত মুদ্রানীতি বিষয়ে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক (গবেষণা) ড. মো. আখতারুজ্জামান।
বিআইবিএমের পরিচালক (প্রশিক্ষণ) অধ্যাপক ড. শাহ মো. আহসান হাবীবের সভাপতিত্বে এ কর্মশালায় সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। কর্মশালায় সূচনা বক্তব্য রাখেন বিআইবিএমের পরিচালক (ডিএসবিএম) মো. মহিউদ্দিন ছিদ্দিকী।
মূল আলোচক বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক (গবেষণা) ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, উচ্চ প্রবৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হয়েছে। বেসরকারি খাত বিনিয়োগের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ পাবে। তবে উচ্চ প্রবৃদ্ধি ও বিনিয়োগের জন্য মুদ্রানীতির বাইরে আরও কিছু বিষয় রয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে সফলতা এলে উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে।
তিনি বলেন, সরকার বাজেটে ঘোষণা দিয়েও প্রয়োজন না হওয়ায় লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ব্যাংক ঋণ নিচ্ছে না। সঞ্চয়পত্র থেকে বেশি অর্থ নিচ্ছে। এত অর্থ নেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক-নেতিবাচক দিক পর্যালোচনা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বিআইবিএমের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক হেলাল আহমদ চৌধুরী বলেন, উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনে আর্থিক কার্যক্রমে নারীদের অংশগ্রহণ আরও বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে নারীদের গৃহস্থালির কাজকে জিডিপিতে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. শাহ মো. আহসান হাবীব বলেন, উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি খুব জরুরি। এ আর্থিক অন্তর্ভুক্তি আরও পরিকল্পনামাফিক হতে হবে। আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বিষয়ে বিশদ গবেষণা করে পদক্ষেপ নিতে হবে। নতুন- পুরোনো সব ব্যাংক শহরের একই জায়গায় শাখা খুলছে। এতে গ্রামের মানুষ ব্যাংকিং সেবার বাইরে থাকছে। এ অবস্থার পরিবর্তন না হলে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি সম্ভব হবে না।
কর্মশালায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক ও বিআইবিএমের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক মো. ইয়াছিন আলী। সমাপনী বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক ও বিআইবিএমের অনুষদ সদস্য মো. আবদুল কাইউম।
গত ৩০ জানুয়ারি চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের (জানুয়ারি-জুন) মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির। এবারের মুদ্রানীতিতে অর্থবছরের প্রথমার্ধের (জুলাই-ডিসেম্বর) প্রকৃত বিনিয়োগের গতিধারা বিবেচনায় নিয়ে আগামী জুন পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধির আগেকার আট দশমিক পাঁচ ও ১৬ দশমিক আট শতাংশ প্রক্ষেপণ কিছুটা সংশোধন করে যথাক্রমে ১০ দশমিক ৯ ও ১৬ দশমিক পাঁচ শতাংশ ধরা হয়েছে। এছাড়া রেপো ও রিভার্স রেপোর সুদহার আগের মতো যথাক্রমে ছয় ও চার দশমিক ৭৫ শতাংশ রাখা হয়েছে। ব্যাপক মুদ্রার প্রবৃদ্ধি ১২ শতাংশ এবং অভ্যন্তরীণ ঋণের প্রবৃদ্ধি ১৫ দশমিক ৯ শতাংশে অপরিবর্তিত থাকবে।

সর্বশেষ..