বিশ্ব বাণিজ্য

উদ্বেগও বাড়াচ্ছে বিনিয়োগকারীদের

মোদির ফের ক্ষমতা গ্রহণ প্রত্যাশার সঙ্গে

শেয়ার বিজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার ফের ক্ষমতায় আসাকে স্বাগত জানিয়েছেন ভারতে ব্যবসা করা বিভিন্ন বিদেশি কোম্পানি। তবে নতুন সরকারের সময়ে দেশটিতে ব্যবসার পরিবেশ আরও সহজ হবে বলে তারা আশা করছেন। মোদি সরকারের প্রথম মেয়াদের কয়েক বছরে নেওয়া বিভিন্ন ধরনের সংরক্ষণমূলক নীতি বাতিল করা হবে বলে কোম্পানিগুলোর প্রত্যাশা। খবর: রয়টার্স।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ব্যবসাবান্ধব নীতি এবং ভারতের তরুণ প্রজন্ম বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য অন্যতম আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। আমাজন, ওয়ালমার্ট ও মাস্টারকার্ডের মতো যুক্তরাষ্ট্রের বৃহৎ কোম্পানিগুলো সেখানে হাজার হাজার কোটি ডলারের বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এতে সেখানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান হোয়াটসঅ্যাপের বিপুলসংখ্যক ব্যবহারকারী ভারতে রয়েছে। তবে ২০১৭ সালের দিকে হিন্দু জাতীয়তাবাদী নেতারা ই-কমার্স ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে ব্যাপক সংরক্ষণবাদী এবং কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে। এছাড়া বাড়তি দেশপ্রেম দেখাতে গিয়েও কিছু অতি উৎসাহী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
নয়াদিল্লিভিত্তিক প্রযুক্তি নীতিবিষয়ক বিশ্লেষক প্রশান্ত রায় বলেন, ‘আমি আশা করি তিনি ব্যবসায়ে সুদিন ফেরানোর দিকে নজর দেবেন। বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়মনীতির স্থিতিশীলতা ও ভবিষ্যতের ব্যাপারে উদ্বিগ্ন। এটা বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি উদ্বেগজনক বার্তা দিতে পারে।’
অনেক বিদেশি বিনিয়োগকারী মনে করছেন, নরেন্দ্র মোদি হয়তো খুব দ্রুত তার সংরক্ষণবাদী নীতি থেকে সরে আসছেন না। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মনে করেন, এখন আরও আশাবাদী হওয়ার চেয়ে হয়তো উদ্বিগ্ন হওয়াটাই যুক্তিযুক্ত।
সদ্য শেষ হওয়া ভারতের লোকসভা নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে বিজেপি। ৫৪২টি আসনের মধ্যে ৩০২টি পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে দলটি। ২০১৪ সালের নির্বাচনেও ২৮২টি আসন পেয়েছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল।
তার জয়ের পর ভারতে ব্যবসা করা অন্তত এক ডজন বিদেশি কোম্পানির কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। তারা আশা প্রকাশ করে বলেছেন, নরেন্দ্র মোদি তার কঠোর অবস্থান থেকে সরে আসবে। এছাড়া কিছু নীতি আরও সহজ করবেন বলেও তাদের প্রত্যাশা। অনেকে আশা করছেন, ভারত সরকার হুটহাট নীতি বদলের পন্থা থেকে সরে আসবে। কারণ এ ধরনের হঠাৎ সিদ্ধান্তের ফলে তাদের পিছিয়ে যেতে হচ্ছে এবং ক্ষতির মুখে পড়তে হয়।
কানাডাভিত্তিক বহুমুখী বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ফেয়ারফ্যাক্স ফাইন্যান্সিয়ালের চেয়ারম্যান প্রেম ওয়াটসা মনে করেন, ভারতে ব্যবসা করতে সংরক্ষণবাদ নীতির মতো উদ্বেগের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। তবে সেখানে ভবিষ্যতে ব্যবসাবন্ধব নীতি নেওয়া হবে বলে প্রত্যাশা। এছাড়া আরও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ভারতে ব্যবসা করতে আসবে বলেও মনে করেন তিনি।
ভারতে যেসব কোম্পানি আরও ব্যবসাবান্ধব নীতির আশা করছেন তার মধ্যে কিছু বৈশ্বিক আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। ২০১৬ সালে মোদি সরকার অনলাইন পেমেন্ট ব্যবস্থা চালু করলে তারা ভালো ব্যবসা করছে। গত বছর মাস্টারকার্ড ও ভিসার মতো কিছু কোম্পানি ভারতে আরও তথ্য সংরক্ষণের অনুমতি দেওয়ার অনুরোধ জানায়। তবে সেখানে দ্রুত নীতি বদলের কারণে এ ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতির মুখে পড়ে।
এছাড়া নীতি পরিবর্তনের কারণে মেডিক্যাল পণ্যের কিছু প্রতিষ্ঠান প্রায় ৫০০ কোটি ডলার ক্ষতির মুখে পড়েছে। এমন একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা আশ্বানী মাহাজন বলেন, ‘বিদেশি কোম্পানিগুলো যদি দীর্ঘ মেয়াদে ভালো ভবিষ্যৎ দেখে, তাহলে তারা ভারতের মানুষের চাহিদা পূরণের দিকে নজর দেবে।’

সর্বশেষ..