সারা বাংলা

উদ্বোধনের আট মাসেও শুরু হয়নি কার্যক্রম

কালাই ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স

শামীম কাদির, জয়পুরহাট: জয়পুরহাটের কালাই ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন উদ্বোধন করার আট মাস পরও শুরু হয়নি কার্যক্রম। জনবল, পরিবহন ও সরঞ্জাম না থাকায় প্রায় আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে প্রতিষ্ঠিত এ প্রতিষ্ঠানটি কোনো কাজেই আসছে না।
জানা গেছে, কালাই ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনটি জয়পুরহাট-বগুড়া মহাসড়কের পাশে টিএনটি মোড়ে ২০১০ সালে ৩৩ শতাংশ জমির ওপর নির্মিত হয়। এর আগে ২০০৬ সালে ওই জমি অধিগ্রহণের সময় মূল্য কম হওয়ার অভিযোগ তুলে জমির মালিক মনোয়ারা বেগম ওই প্রতিষ্ঠানের নির্মাণকাজ বন্ধ চেয়ে জয়পুরহাট জেলা জজ আদালতে মামলা করেন। আবার ওই মামলার ওপর জমি মালিকের জামাতা মোজাফ্ফর হোসেন জমিটি তার সংস্থার (এনজিও) নামে লেখা আছে বলে দাবি করে জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট চার কর্মকর্তার নামে উচ্চ আদালতে আরও একটি রিট করেন। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আদালত ২০১০ সালের ৬ জুন নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে তিন মাসের স্থগিতাদেশ দেন। স্থগিতাদেশের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছিল ২০১০ সালের ৯ সেপ্টেম্বর।
এ নিয়ে পরবর্তীকালে আদালত আর কোনো নির্দেশনা না দেওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির কাজ শেষ হলেও মামলার কারণে তখন চালু হয়নি। পরবর্তীকালে গত বছরের অক্টোবরে হাইকোর্ট ওই মামলা দুটি খারিজ করে দেন। সেই আলোকে আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত কালাই ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনটি গত বছরের ১ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সারা দেশের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে উদ্বোধন করেন। কিন্তু গত আট মাসেও দেওয়া হয়নি জনবল নিয়োগ এবং সরবরাহ করা হয়নি পরিবহন ও সরঞ্জাম। ফলে প্রতিষ্ঠানটি ভবনসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান হয়ে আছে, কোনো কাজেই আসছে না এলাকাবাসীর।
ওই এলাকার আবদুল ওহাব জানান, ভোটের আগে যেভাবে তরিঘড়ি করে প্রধানমন্ত্রী এ প্রতিষ্ঠানটি উদ্বোধন করলেন, তাতে মনে হলো সেদিনই চালু হবে। কিন্তু আসলে তা নয়, আট মাস অতিবাহিত হলেও চালু হয়নি এ প্রতিষ্ঠানটি।
জয়পুরহাট ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের উপ-সহকারী পরিচালক নিজাম উদ্দিন জানান, উদ্বোধন যখন হয়েছে তখন চালুও হবে। একটু সময় লাগবে। জনবল কাঠামো অনুযায়ী এরই মধ্যে ৯ জনকে জয়পুরহাটে রাখা হয়েছে। পরিবহন ও আসবাবপত্র এলেই সেখানে পৌঁছে যাবে এসব জনবল। চালু হবে কালাই ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন।

সর্বশেষ..