প্রচ্ছদ শেষ পাতা

উন্নয়নশীল অর্থনীতির দেশের তুলনায় পিছিয়ে বাংলাদেশ

শেখ আবু তালেব: বিদেশি বিনিয়োগের গতির উল্লেখযোগ্য প্রভাব রয়েছে বিভিন্ন দেশের পুঁজিবাজারে। বিদেশি বিনিয়োগ পর্যবেক্ষণ করেই সাধারণ বিনিয়োগকারীরা শেয়ার লেনদেনে আগ্রহী হয়ে উঠেন প্রায় সময়ে। এজন্য উন্নয়নশীল অর্থনীতির দেশ মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম, ভারত ও শ্রীলঙ্কার পুঁজিবাজারে মোট বাজার মূলধনের সর্বোচ্চ ২৬ শতাংশ পর্যন্ত বিদেশিদের হাতে। অন্যদিকে সম্ভাবনা থাকলে এক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ।
পুঁজিবাজারের বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে আইডিএলসির তৈরি করা এক প্রতিবেদনে বিষয়টি উঠে উঠেছে। জানা গেছে, প্রতিবেশী দেশ ভারতের ২১ দশমিক দুই শতাংশ, শ্রীলঙ্কার সাত দশমিক ছয় শতাংশ, ভিয়েতনামের ২৩ দশমিক তিন শতাংশ ও মালয়েশিয়ার ২৬ দশমিক তিন শতাংশ। সেখানে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে মোট বাজার মূলধনের মাত্র ছয় দশমিক তিন শতাংশ বিদেশিদের বিনিয়োগ। যদিও মাঝে মাঝে এই হার সাড়ে সাত থেকে আট শতাংশ পর্যন্ত উঠেছে।
শতাংশের বিবেচনায় গত চার বছরে বাজার মূলধন বাড়লেও কমেছে পুঁজিবাজারে বিদেশিদের নিট বিনিয়োগ। ২০১৪ সালে যেখানে এ বাজারে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের নিট বিনিয়োগ ছিল ৯৪ কোটি ৩০ লাখ ডলার। ২০১৮ সাল শেষে তা দাঁড়িয়েছে ২২ কোটি ৭০ লাখ ডলার। ফেব্রুয়ারি শেষে তা পাঁচ কোটি ৯০ লাখ ডলারে নেমে গেছে।
অন্যদিকে আরেক তথ্য অনুযায়ী, পুঁজিবাজারে বাজার মূলধন ১০০ কোটি ডলার বা এর ওপরে থাকা কোম্পানির সংখ্যা মাত্র সাতটি। ৫০ কোটি ডলারের পাঁচটি ও ২৫ কোটি বা তার ওপরে রয়েছে ২০টি কোম্পানির। শীর্ষ ১০টি কোম্পানির বাজার মূলধন মোট বাজার মূলধনের ৪৬ শতাংশ। এটি প্রমাণ করে বাজারে বড় মূলধনি কোম্পানির সংখ্যা একেবারেই কম।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ টানতে বিনিয়োগযোগ্য কোম্পানির সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হবে। দেশের সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতেও প্রয়োজন বিদেশি বিনিয়োগ আনা। বর্তমানে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা দেশে বিনিয়োগ করতে চাইলেও সেই মানের কোম্পাানির সংখ্যা একেবারেই কম।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক বিনিয়োগকারী জানান, পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত করতে হবে ভালো মানের ও বড় মূলধনি প্রতিষ্ঠানকে। গত কয়েক বছরে দেশের আইপিওর মাধ্যমে তালিকাভুক্ত ২০টি কোম্পানির আয় যোগ করলে তা মোবাইল কোম্পানি রবি-আজিয়াটার চেয়ে কম হবে। স্বল্প মূলধনি কোম্পানি তালিকাভুক্ত না করে এরকম বেশি আয়ের কোম্পানি তালিকাভুক্ত করলে বাজারের গভীরতা বৃদ্ধি পাবে। সাধারণ বিনিয়োগকারীও বাজারে ফিরে আসবে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও বিনিয়োগ করার মতো কোম্পানি খুঁজে পাবে। এজন্য প্রয়োজন সরকারি ও পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিশেষ উদ্যোগ।
দেশের পুঁজিবাজারে বিদেশি বিনিয়োগের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ব্যবস্থাপনা পরিচালক কেএএম মাজেদুর রহমান শেয়ার বিজকে বলেন, ‘আমাদের বাজার মূলত ইকুইটিনির্ভর। এজন্য বিদেশি বিনিয়োগ বাড়লেও অন্যান্য দেশের মতো নয়। এছাড়া আমাদের বাজার এখনও ফ্রন্টিয়ার পর্যায়ে রয়েছে। প্রগ্রেসিভ ধাপে গেলে বিদেশি বিনিয়োগ আরও বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নও একটি কারণ। আমাদের অর্থনীতি এখন স্থিতিশীল। বিনিয়োগ টানতে পণ্যের বৈচিত্র্য আনার জন্য কাজ চলছে। এতে বাজারের ব্যপ্তি বৃদ্ধি পাবে। তখন বিদেশি বিনিয়োগও বৃদ্ধি পাবে।’
জানা গেছে, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বড় কোম্পানির মধ্যে ফ্রি ফ্লোট শেয়ারের পরিমাণও বেশি নয়। বহুজাতিক কোম্পানি গ্রামীণফোন ও দেশীয় কোম্পানি এসকোয়্যার ফার্মার ফ্রি ফ্লোট শেয়ারের সংখ্যা ১০ শতাংশের নিচে। এটি বৃদ্ধির পাশাপাশি আরও বড় কয়েকটি কোম্পানি তালিকাভুক্ত হলে বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে।
বাজার-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আমাদের দেশের পুঁজিবাজারের পোর্টফোলিও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বেশি হওয়াও একটি অন্যতম কারণ বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি না পাওয়া। এজন্য সমন্বিত একটি পরিকল্পনা প্রয়োজন; যা সরকার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাকেই নিতে হবে। পুঁজিবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ বেশি হলে দেশের ব্র্র্যান্ডিংও ভালো হয়। আমাদের অর্থনীতি যেভাবে চলছে, তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারছে না পুঁজিবাজার। বিদেশি বিনিয়োগ টানতে পারলে এর সঙ্গে দেশীয় সাধারণ বিনিয়োগও বৃদ্ধি পাবে।

সর্বশেষ..