উন্নয়নের স্বার্থে রংপুরের জন্য চাই আলাদা বাজেট বরাদ্দ

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জন্য চার লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব পেশ করেন। প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে শেয়ার বিজের সঙ্গে কথা হয় রংপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ সভাপতি
মোস্তফা সোহরাব চৌধুরী টিটুর। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন শেয়ার বিজের রংপুর প্রতিনিধি নুর আলম

শেয়ার বিজ: প্রস্তাবিত বাজেটকে আপনি কীভাবে দেখছেন।

মোস্তফা সোহরাব চৌধুরী টিটু: প্রস্তাবিত বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার সাত দশমিক আট শতাংশ ধরে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং বিনিয়োগ বাড়াতে মানবসম্পদ উন্নয়ন, বিদ্যুৎ, জ্বালানিসহ ভৌত অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, রফতানি বহুমুখীকরণ, পাটের ব্যবহার বৃদ্ধি ও পরিবেশ সুরক্ষার স্বার্থে পলিথিন সামগ্রীর শুল্ক বৃদ্ধি, সরকারি ও বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে পিপিপিতে বরাদ্দ বৃদ্ধি, দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বিদ্যমান শুল্কমুক্ত সুবিধা অব্যাহত রাখার ফলে বৈদেশিক বিনিয়োগ, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া বাজেটে দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে এগিয়ে নিতে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর সম্প্রসারণ, মুক্তিযোদ্ধাদের বাড়তি ভাতা সুবিধা, শতভাগ রফতানিমুখী শিল্পের মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত সুবিধা, দেশীয় শিল্পের সুরক্ষায় বেশকিছু পণ্যের কাঁচামালের শুল্কহার হ্রাস, বিলাসবহুল ও অপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি নিরুৎসাহিত করতে নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক বহাল রাখা, দেশীয়ভাবে তৈরি মোটরসাইকেল ও রেফ্রিজারেটর উৎপাদনে ভ্যাট অব্যাহতির মেয়াদ বৃদ্ধিতে দেশীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাত বিকশিত হবে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করে রংপুর চেম্বার।
তবে বাজেটে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ চাঙা করতে ব্যাংকিং খাতের করপোরেট কর হার হ্রাস করার প্রস্তাবটি বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়াবে ও সুদহার কমাবে বলে মনে করে রংপুর চেম্বার।

শেয়ার বিজ: রংপুরে শিল্প-কারখানা গড়ে তুলতে এ বাজেট কতটুকু ভূমিকা রাখবে?

মোস্তফা সোহরাব চৌধুরী টিটু: সারা দেশে প্রবৃদ্ধি ও মাথাপিছু আয় বাড়লেও রংপুর অঞ্চলে সে হারে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে দারিদ্র্য। তাই এবারের প্রস্তাবিত বাজেটে রংপুর অঞ্চলের দারিদ্র্য নিরসনে টেকসই ও দৃশ্যমান কর্মপন্থা থাকা উচিত ছিল বলে মনে করণে রংপুর চেম্বার। বাজেটে অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া রংপুর বিভাগের ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পায়নের জন্য তেমন কোনো সুযোগ-সুবিধা ও অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাব না থাকায় এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা কিছুটা হতাশ মনে করে রংপুর চেম্বার। এছাড়া বাজেটে রংপুর অঞ্চলের জন্য প্রস্তাবিত স্পেশাল ইকোনমিক জোন ও আইটিপার্ক দ্রুত স্থাপনসহ উন্নয়নের স্বার্থে ‘নর্থ বেঙ্গল ডেভেলপমেন্ট মিনিস্ট্রি’ গঠন ও আলাদা বাজেট বরাদ্দ থাকা চাই।

শেয়ার বিজ: এ বাজেটে দ্রব্যমূল্য কতটুকু নিয়ন্ত্রণে থাকবে বলে মনে করেন আপনি?

মোস্তফা সোহরাব চৌধুরী টিটু: প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যক্তি শ্রেণির করমুক্ত আয়সীমা না বাড়ানোয় করদাতারা নতুন করে মূল্যস্ফীতির বাড়তি চাপে পড়বে এবং বেশকিছু পণ্যের ওপর স্থানীয় পর্যায়ে ও আমদানিতে শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক ও রেগুলেটরি ডিউটি বাড়ানোর প্রস্তাব করার ফলে পণ্য মূল্য অনেকাংশে বৃদ্ধি পাবে এবং সাধারণ জনগণের কষ্ট বাড়বে বলে মনে করে রংপুর চেম্বার। প্রস্তাবিত বাজেটে চাল আমদানির ওপর শুল্কারোপের প্রস্তাব একদিকে যেমন ইতিবাচক উদ্যোগ, তেমনি খানিকটা স্পর্শকাতরও। তাই কৃষকের স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি চালের দাম যেন সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকে সে বিষয়টির দিকে সরকারের নজর রাখা উচিত।
এছাড়া বাজেটে ইন্টারনেট বা সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে পণ্য বা সেবা ক্রয়-বিক্রয় এবং তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর সেবার ওপর ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব করায় উদীয়মান এ শিল্প খাতটি টিকিয়ে রাখতে হলে বর্ধিত আবগারি শুল্ক প্রত্যাহারের বিকল্প নেই অন্যথায় মুখ থুবড়ে পড়বে এ খাতটি।

শেয়ার বিজ: কি ধরনের বাজেট হওয়া উচিত ছিল বলে আপনি মনে করেন?

মোস্তফা সোহরাব চৌধুরী টিটু: বাজেটের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহ অর্জনের নিমিত্তে বেসরকারি বিনিয়োগে প্রাণ ফেরানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, নিত্যপণ্যের দাম সহনীয় রাখাসহ আঞ্চলিক বৈষম্য নিরসনে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা, পন্থা, অর্থের সুষম বণ্টন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতামূলক কর্মসূচি ও কৌশল এমনভাবে প্রণয়ন করতে হবে যাতে সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং দারিদ্র্য বিমোচনের ক্ষেত্রে ইতিবাচক সুফল বয়ে আনতে পারে সে ধরনের রংপুর চেম্বার কামনা করেন।

শেয়ার বিজ : ধন্যবাদ আপনাকে।

মোস্তফা সোহরাব চৌধুরী টিটু: অপনাকে ও শেয়ার বিজ পরিবারকে ধন্যবাদ।