কোম্পানি সংবাদ

উভয় বাজারে লেনদেন বেড়েছে ২১৫ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক: সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে ইতিবাচক গতিতে শেষ হয়েছে লেনদেন। গতকাল উভয় বাজার মিলে লেনদেন বেড়েছে ২১৫ কোটি টাকার বেশি। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সবকটি সূচকের উত্থানের পাশাপাশি বেড়েছে বেশিরভাগ শেয়ারদর। সে সঙ্গে লেনদেনও বেড়েছে ১৮০ কোটি টাকা। গতকাল ডিএসইতে প্রায় ৬০ শতাংশ কোম্পানির দর বেড়েছে। কমেছে ২৯ শতাংশের দর। লেনদেনের শুরুতে সূচকের উত্থান হয়। বেলা ১২টার পর থেকে বিনিয়োগকারীরা মুনাফা তুলে নিতে শুরু করলে সূচকে পতন নেমে আসে। বেলা ১টার পর ফের কেনার চাপ বাড়লে সূচক ঊর্ধ্বমুখী হয়। শেষ পর্যন্ত প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ২৮ পয়েন্ট ইতিবাচক থাকে। বাকি দুই সূচকও ইতিবাচক ছিল। অন্যদিকে চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচক, শেয়ারদর ও লেনদেনে একই চিত্র লক্ষ করা গেছে।
বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, গতকাল ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ২৮ দশমিক ৬২ পয়েন্ট বা দশমিক ৫২ শতাংশ বেড়ে পাঁচ হাজার ৪৩১ দশমিক ৫৯ পয়েন্টে অবস্থান করে।
ডিএসইএস বা শরিয়াহ্ সূচক ১১ দশমিক ৯৪ পয়েন্ট বা দশমিক ৯৭ শতাংশ বেড়ে এক হাজার ২৩২ দশমিক শূন্য দুই পয়েন্টে অবস্থান করে। আর ডিএস৩০ সূচক ১২ দশমিক ৬৩ পয়েন্ট বা দশমিক ৬৬ শতাংশ বেড়ে এক হাজার ৯০১ দশমিক ৬৭ পয়েন্টে অবস্থান করে। গতকাল ডিএসইর বাজার মূলধন তিন লাখ ৯৯ হাজার ৬৫ কোটি টাকা হয়। ডিএসইতে গতকাল লেনদেন হয় ৪৮৪ কোটি ৮৯ লাখ ২১ হাজার ৭৪৩ টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৩০৪ কোটি ৬৬ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট। এ হিসেবে লেনদেন বেড়েছে ১৮০ কোটি ২২ লাখ টাকা। এদিন ১৩ কোটি ১১ লাখ ৩৯ হাজার ৪২৪টি শেয়ার এক লাখ ১৯ হাজার ৪৮১ বার হাতবদল হয়। লেনদেন হওয়া ৩৫১ কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ২১০টির, কমেছে ১০২টির ও অপরিবর্তিত ছিল ৩৯টির দর।
গতকাল টাকার অঙ্কে লেনদেনের শীর্ষে উঠে আসে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের ইউনাইটেড পাওয়ার। কোম্পানিটির ২৩ কোটি ৩৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। দর বেড়েছে ১২ টাকা ৩০ পয়সা। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা খুলনা পাওয়ারের ১৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। দর বেড়েছে তিন টাকা ৮০ পয়সা। ব্র্যাক ব্যাংকের ১৪ কোটি ৬৯ লাখ টাকা লেনদেন হয়। দর বেড়েছে ৩০ পয়সা। এর পরের অবস্থানে থাকা বিএটিবিসির ১৩ কোটি ৩৬ লাখ টাকা লেনদেন হয়। দর বেড়েছে ২৮ টাকা। ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ১২ কোটি ২১ লাখ টাকা লেনদেন হয়। দর বেড়েছে এক টাকা ২০ পয়সা। আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজের ১১ কোটি ২৯ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়, দর বেড়েছে পাঁচ টাকা ৬০ পয়সা। বিবিএস কেব্লসের আট কোটি ১২ লাখ টাকা লেনদেন হয়। দর বেড়েছে এক টাকা ৬০ পয়সা। জেএমআই সিরিঞ্জের সাত কোটি ৮৩ লাখ টাকা লেনদেন হয়, দর বেড়েছে ১৯ টাকা ২০ পয়সা। ফরচুন শুজের সাত কোটি ২৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়, দর বেড়েছে ১০ পয়সা। আমান ফিডের ছয় কোটি ৫১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। দর বেড়েছে দুই টাকা।
৯ দশমিক ৬৯ শতাংশ বেড়ে দর বৃদ্ধির শীর্ষে উঠে আসে সাফকো স্পিনিং। এরপর আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজের দর ৯ দশমিক ৫২ শতাংশ, বিডি ল্যাম্পসের আট দশমিক ৪৭ শতাংশ, গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্সের আট দশমিক শূন্য পাঁচ শতাংশ, খুলনা পাওয়ারের ছয় দশমিক ৬৭ শতাংশ, সিভিও পেট্রোকেমিক্যালের ছয় দশমিক ২১ শতাংশ, লিন্ডে বিডির পাঁচ দশমিক ৬১ শতাংশ, প্রাইম টেক্সের পাঁচ দশমিক ৪৫ শতাংশ, জেএমআই সিরিঞ্জের পাঁচ দশমিক ২৬ শতাংশ, আলহাজ্জ টেক্সটাইলের দর চার দশমিক ৯৫ শতাংশ বেড়েছে।
অন্যদিকে ৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ কমে দরপতনের শীর্ষে উঠে আসে এআইবিএল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড। মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের দর আট দশমিক ৫৯ শতাংশ, এমবিএল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের আট দশমিক ১০ শতাংশ, ইউনিয়ন ক্যাপিটালের চার দশমিক ৭২ শতাংশ, ইস্টার্ন কেব্লসের চার দশমিক ৩৪ শতাংশ, এনসিসি ব্যাংক মিউচুয়াল ফান্ডের চার দশমিক ২২ শতাংশ, প্রাইম লাইফের চার দশমিক শূন্য তিন শতাংশ, জিলবাংলা সুগার মিলের তিন দশমিক ৭৬ শতাংশ, রূপালী লাইফের তিন দশমিক ৭৫ শতাংশ, সোনারগাঁও টেক্সটাইলের দর তিন দশমিক ৭২ শতাংশ কমেছে।
সিএসইতে গতকাল সিএসসিএক্স মূল্যসূচক ৫৮ দশমিক ১১ পয়েন্ট বা দশমিক ৫৮ শতাংশ বেড়ে ১০ হাজার ৬৩ দশমিক ১৩ পয়েন্টে এবং সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৯৪ দশমিক ৯৫ পয়েন্ট বা দশমিক ৫৭ শতাংশ বেড়ে ১৬ হাজার ৬১৪ দশমিক ৫৮ পয়েন্টে অবস্থান করে। গতকাল সর্বমোট ২৪৩টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১৫১টির, কমেছে ৬৭টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ২৫টির দর।
সিএসইতে এদিন ৭৭ কোটি ১২ লাখ ২১ হাজার ৬৫৭ টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৪১ কোটি ৫৪ লাখ ৯৭ হাজার ১৬৫ টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট। এ হিসাবে লেনদেন বেড়েছে ৩৫ কোটি ৫৭ লাখ ২৪ হাজার টাকা। সিএসইতে গতকাল লেনদেনের শীর্ষে অবস্থান করে জিপিএইচ ইস্পাত। কোম্পানিটির ২১ কোটি ৭৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। এরপর গ্রামীণফোনের ১৩ কোটি ৭৮ লাখ টাকার, ন্যাশনাল ব্যাংকের ১০ কোটি শূন্য ৯ লাখ টাকার, স্কয়ার ফার্মার ৯ কোটি ৭৬ লাখ টাকার, ব্র্যাক ব্যাংকের পাঁচ কোটি ১৫ লাখ টাকার, ডরিন পাওয়ারের এক কোটি ৮৮ লাখ টাকার, আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজের এক কোটি শূন্য আট লাখ টাকার, খুলনা পাওয়ারের ৮০ লাখ টাকার, ইন্দো-বাংলা ফার্মার ৫০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়।

সর্বশেষ..