কোম্পানি সংবাদ

উভয় বাজারে সূচকের ইতিবাচক গতিতে লেনদেন

নিজস্ব প্রতিবেদক: অবশেষে সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবসে উভয় বাজারে ইতিবাচক গতিতে লেনদেন হয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সবগুলো সূচকের উত্থানের পাশাপাশি বেশিরভাগ শেয়ারদর বেড়েছে। তবে মোট লেনদেন আগের কার্যদিবসের তুলনায় সামান্য কমেছে। লেনদেন কমলেও গতকাল বিক্রির চেয়ে কেনার প্রবণতা বেশি ছিল। লেনদেনের প্রথম ১৫ মিনিটে সূচকের উত্থান হলেও এরপর বিক্রির চাপে সূচক নেমে যায়। তবে তা বেশি সময় স্থায়ী হয়নি। ৪৫ মিনিট পর ফের সূচকের উত্থান হয়। এরপর স্থিতিশীল থেকে দুপুর সোয়া ১টার দিকে আরও কিছুটা উত্থান হয়। লেনদেনে শেষে প্রধান সূচককে প্রায় ২৫ পয়েন্ট ইতিবাচক থাকতে দেখা যায়। এদিন ডিএসইতে ৫৬ শতাংশ কোম্পানির দর বেড়েছে। ৩০ শতাংশের দর কমেছে। চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচক, শেয়ারদর ও লেনদেন সবগুলোই ইতিবাচক গতিতে ছিল।
বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, গতকাল ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ২৪ দশমিক ৯৪ পয়েন্ট বা দশমিক ৪৬ শতাংশ বেড়ে পাঁচ হাজার ৪০০ দশমিক ২৩ পয়েন্টে অবস্থান করে।
ডিএসইএস বা শরিয়াহ্ সূচক আট দশমিক ২৯ পয়েন্ট বা দশমিক ৬৭ শতাংশ বেড়ে এক হাজার ২৩২ দশমিক ২৮ পয়েন্টে অবস্থান করে। আর ডিএস ৩০ সূচক পাঁচ দশমিক ৭১ পয়েন্ট বা দশমিক ৩০ শতাংশ বেড়ে এক হাজার ৮৯৫ দশমিক ১০ পয়েন্টে অবস্থান করে। গতকাল ডিএসইর বাজার মূলধন তিন লাখ ৯৮ হাজার ৪১৭ কোটি ৭৯ লাখ ৩২ হাজার টাকা হয়। ডিএসইতে গতকাল লেনদেন হয় ৫২৮ কোটি ৮২ লাখ ৮৯ হাজার ৫৮৮ টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৫৩৫ কোটি ২৭ লাখ ৮৪ হাজার টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট। এ হিসেবে লেনদেন কমেছে ছয় কোটি লাখ ৪৫ লাখ টাকা। এদিন ১৭ কোটি ৫৯ লাখ ৫২ হাজার ৩৭০টি শেয়ার এক লাখ ৩৫ হাজার ৪৫৫ বার হাতবদল হয়। লেনদেন হওয়া ৩৪৯ কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৯৬টির, কমেছে ১০৫টির ও অপরিবর্তিত ছিল ৪৮টির দর।
গতকাল টাকার অঙ্কে লেনদেনের শীর্ষে উঠে আসে ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্স। কোম্পানিটির ১৮ কোটি ৩২ লাখ টাকা লেনদেনের পাশাপাশি দর বেড়েছে চার টাকা ৯০ পয়সা। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা নূরানী ডায়িংয়ের ১৪ কোটি ৪১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। দর বেড়েছে এক টাকা ৫০ পয়সা। জেএমআই সিরিঞ্জের ১৪ কোটি ২৮ লাখ টাকা লেনদেন হয়। দর বেড়েছে ২ টাকা ৭০ পয়সা। এরপরের অবস্থানে থাকা ড্রাগন সোয়েটারের ১১ কোটি ৪৬ লাখ টাকা লেনদেন হয়। দর বেড়েছে ১০ পয়সা। এছাড়া গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্সের ১০ কোটি এক লাখ টাকার, নিউলাইন ক্লোথিংসের ৯ কোটি ৬৫ লাখ টাকা, এসকে ট্রিমসের ৯ কোটি ৬৪ লাখ টাকা, ইস্টল্যান্ড ইন্স্যুরেন্সের ৯ কোটি ৩৬ লাখ টাকা, ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সের আট কোটি ৯০ লাখ টাকা, প্যাসিফিক ডেনিমসের আট কোটি ৫৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়।
প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে দর বৃদ্ধির শীর্ষে উঠে আসে ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্স। এরপরে নূরানী ডায়িংয়ের দর ৯ দশমিক ৭৪ শতাংশ, জাহিন টেক্সের দর ৯ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ, মাইডাস ফাইন্যান্সিংয়ের দর আট দশমিক ৬৭ শতাংশ, মালেক স্পিনিংয়ের দর আট দশমিক শূন্য দুই শতাংশ, রিপাবলিক ইন্স্যুরেন্সের দর সাত দশমিক ৭৫ শতাংশ, এশিয়া ইন্স্যুরেন্সের দর সাত দশমিক ৩০ শতাংশ, রিজেন্ট টেক্সটাইলের দর সাত দশমিক ১০ শতাংশ, তোসরিফা ইন্ডাস্ট্রিজের দর ছয় দশমিক ১৫ শতাংশ, সায়হাম টেক্সটাইলের দর ছয় দশমিক ১০ শতাংশ বেড়েছে।
অন্যদিকে পাঁচ দশমিক ৮২ শতাংশ কমে দরপতনের শীর্ষে উঠে আসে প্রগতি ইন্স্যুরেন্স। এসইএমএল এফবিএলএসএল গ্রোথ ফান্ডের দর পাঁচ দশমিক ৭১ শতাংশ, জিল বাংলা সুগার মিলের দর চার দশমিক ৩৭ শতাংশ, ঢাকা ডায়িংয়ের দর চার দশমিক ৩৪ শতাংশ, বিচ হ্যাচারির দর চার দশমিক ১৬ শতাংশ, প্যারামাউন্ট টেক্সের দর চার শতাংশ, নদার্ন ইন্স্যুরেন্সের দর তিন দশমিক ৮৩ শতাংশ, স্টান্ডার্ড সিরামিকের দর তিন দশমিক ৮০ শতাংশ, ব্যাংক এশিয়ার দর তিন দশমিক ৬৬ শতাংশ, জুট স্পিনার্সের দর তিন দশমিক ৩৫ শতাংশ কমেছে।
সিএসইতে গতকাল সিএসসিএক্স মূল্যসূচক ৫৩ দশমিক ৬৩ পয়েন্ট বা দশমিক ৫৩ শতাংশ বেড়ে ১০ হাজার ৪৪ দশমিক ৭২ পয়েন্টে এবং সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৮৬ দশমিক ৪৮ পয়েন্ট বা দশমিক ৫২ শতাংশ বেড়ে ১৬ হাজার ৫৭৫ দশমিক ৩০ পয়েন্টে অবস্থান করে। গতকাল সর্বমোট ২৫৯টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১৫৫টির, কমেছে ৬৯টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৩৫টির দর।
সিএসইতে এদিন ৪২ কোটি ৪২ লাখ দুই হাজার ৩৯১ টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৩৩ কোটি ৯৪ লাখ ৪৮ হাজার ৭৯২ টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট। এ হিসাবে লেনদেন বেড়েছে আট কোটি ৪৭ লাখ টাকা। সিএসইতে গতকাল লেনদেনের শীর্ষে অবস্থান করে গ্রামীণফোন। কোম্পানিটির পাঁচ কোটি ৮২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। এরপর মাউডাস ফাইন্যান্সিংয়ের চার কোটি ৭৬ লাখ টাকার, বেক্সিমকো ফার্মার চার কোটি ২৪ লাখ টাকার, আইপিডিসির দুই কোটি ৭১ লাখ টাকার, সামিট পাওয়ারের এক কোটি ৯৭ লাখ টাকার, উত্তরা ব্যাংকের এক কোটি ৯২ লাখ টাকা, ডরিন পাওয়ারের এক কোটি ১০ লাখ টাকার, নূরানী ডায়িংয়ের ৯৪ লাখ টাকার, সিলকো ফার্মার ৮৭ লাখ টাকার, ইস্টল্যান্ড ইন্স্যুরেন্সের ৭৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়।

সর্বশেষ..