কোম্পানি সংবাদ

উভয় বাজারে সূচকের উত্থান দিয়ে লেনদেন শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক: টানা ৯ কার্যদিবস ঈদের ছুটি শেষে গতকাল উত্থান দিয়ে শেষ হয় পুঁজিবাজারে লেনদেন। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সবকটি সূচক উত্থানের পাশাপাশি বেশিরভাগ শেয়ারের দর বেড়েছে। তবে লেনদেন সর্বশেষ কার্যদিবসের তুলনায় কমেছে। গতকাল ডিএসইতে প্রায় ৫০ শতাংশ কোম্পানির দর বেড়েছে। কমেছে ৩৬ শতাংশের দর। লেনদেনের শুরুতে সূচকের উত্থান হলেও বেশ কয়েকবার ওঠানামা করে শেষ পর্যন্ত ২৬ পয়েন্ট ইতিবাচক ছিল সূচক। বাকি দুই সূচকও ইতিবাচক ছিল। অন্যদিকে চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচক শেয়ারদর ও লেনদেনে একই চিত্র লক্ষ্য করা গেছে। তবে সিএসইতে গ্রামীণফোনের বড় অঙ্কের শেয়ার লেনদেন হয়।
বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, গতকাল ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ২৫ দশমিক ২২ পয়েন্ট বা দশমিক ৪৬ শতাংশ বেড়ে পাঁচ হাজার ৪০২ দশমিক ৯৬ পয়েন্টে অবস্থান করে।
ডিএসইএস বা শরিয়াহ্ সূচক পাঁচ দশমিক ৮১ পয়েন্ট বা দশমিক ৪৭ শতাংশ বেড়ে এক হাজার ২২০ দশমিক শূন্য সাত পয়েন্টে অবস্থান করে। আর ডিএস ৩০ সূচক ১২ দশমিক ৪৪ পয়েন্ট বা দশমিক ৬৬ শতাংশ বেড়ে এক হাজার ৮৮৯ দশমিক শূন্য তিন পয়েন্টে অবস্থান করে। গতকাল ডিএসইর বাজার মূলধন তিন লাখ ৯৬ হাজার ৭৪৩ কোটি টাকা হয়। ডিএসইতে গতকাল লেনদেন হয় ৩০৪ কোটি ৬৬ লাখ ৯৯ হাজার ২৯০ টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৪২৫ কোটি টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট। এ হিসেবে লেনদেন কমেছে ১২০ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। এদিন ৯ কোটি আট লাখ ৩৪ হাজার ১২৫টি শেয়ার ৮৬ হাজার ৭৯১ বার হাতবদল হয়। লেনদেন হওয়া ৩৪৫ কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৭১টির, কমেছে ১২৫টির ও অপরিবর্তিত ছিল ৪৯টির দর।
গতকাল টাকার অঙ্কে লেনদেনের শীর্ষে উঠে আসে বিমা খাতের ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স। কোম্পানিটির ১৮ কোটি ৮২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। দর বেড়েছে ১৮ টাকা ৪০ পয়সা। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ইউনাইটেড পাওয়ারের ১৮ কোটি ২৯ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। দর বেড়েছে ৯ টাকা ৯০ পয়সা। ইস্টার্ন হাউজিংয়ের ১২ কোটি ৩৩ লাখ টাকা লেনদেন হয়। দর বেড়েছে চার টাকা ৯০ পয়সা। এরপরের অবস্থানে থাকা ইস্টার্ন কেব্লসের সাত কোটি ২৫ লাখ টাকা লেনদেন হয়। দর বেড়েছে ১৫ টাকা ৮০ পয়সা। নিউ লাইন ক্লোথিংসের ছয় কোটি ৮৭ লাখ টাকা লেনদেন হলেও এক টাকা ২০ পয়সা দরপতন হয়। জেএমআই সিরিঞ্জের ছয় কোটি ৩২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়, দর কমেছে চার টাকা। বিএসসিসিএলের পাঁচ কোটি ৯৮ লাখ টাকা লেনদেন হয়, দর বেড়েছে আড়াই টাকা। ফাস ফাইন্যান্সের পাঁচ কোটি ৮১ লাখ টাকা লেনদেন হয়, দর বেড়েছে ৫০ পয়সা। ফরচুন সুজের পাঁচ কোটি ৬২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়, দর কমেছে ৮০ পয়সা। খুলনা পাওয়ারের পাঁচ কোটি ৫৯ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। দর বেড়েছে আড়াই টাকা।
৯ দশমিক ৮৩ শতাংশ বেড়ে দর বৃদ্ধির শীর্ষে উঠে আসে ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেড। এরপরে প্রাইম ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের দর ৯ দশমিক ৬৭ শতাংশ, ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সের দর আট দশমিক ৫৭ শতাংশ, প্রগতি লাইফের দর আট দশমিক ২০ শতাংশ, এসইএমএল এফবিএলএসএল গ্রোথ ফান্ডের দর আট শতাংশ, ইউনিয়ন ক্যাপিটালের দর ছয় দশমিক ৭২ শতাংশ, মাইডাস ফাইন্যান্সের দর ছয় দশমিক ৬৬ শতাংশ, ন্যাশনাল হাউজিং ফাইন্যান্সের দর ছয় দশমিক ২৩ শতাংশ, সিনোবাংলা ইন্ডাস্ট্রিজের দর পাঁচ দশমিক ৪৫ শতাংশ, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের দর পাঁচ দশমিক ২১ শতাংশ বেড়েছে।
অন্যদিকে ১২ দশমিক ২২ শতাংশ কমে দরপতনের শীর্ষে উঠে আসে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের দর। স্টান্ডার্ড ব্যাংকের দর ৯ দশমিক ৫৬ শতাংশ, এনসিসি ব্যাংকের দর সাত দশমিক ৫৯ শতাংশ, শাহজালাল ব্যাংকের দর সাত দশমিক শূন্য তিন শতাংশ, এনএলআই ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের দর চার দশমিক ৭৬ শতাংশ, এমারেল্ড অয়েলের দর চার দশমিক ৪৬ শতাংশ, নিউলাইন ক্লোথিংয়ের দর চার দশমিক ৩২ শতাংশ, সোনারবাংলা ইন্সুরেন্সের দর চার দশমিক ১৪ শতাংশ, গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্সের দর তিন দশমিক ৯৮ শতাংশ, কে অ্যান্ড কিউ’র দর তিন দশমিক ৬৫ শতাংশ কমেছে।
সিএসইতে গতকাল সিএসসিএক্স মূল্যসূচক ৮৮ দশমিক ১০ পয়েন্ট বা দশমিক ৮৮ শতাংশ বেড়ে ১০ হাজার পাঁচ দশমিক শূন্য দুই পয়েন্টে এবং সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১৪৩ দশমিক ৮৭ পয়েন্ট বা দশমিক ৮৭ শতাংশ বেড়ে ১৬ হাজার ৫১৯ দশমিক ৬৩ পয়েন্টে অবস্থান করে। গতকাল সর্বমোট ২৩১টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১২৫টির, কমেছে ৬৫টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৪১টির দর।
সিএসইতে এদিন ৪১ কোটি ৫৪ লাখ ৯৭ হাজার ১৬৫ টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৪২ কোটি শূন্য এক লাখ ৩৮ হাজার ৯৫১ টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট। এ হিসাবে লেনদেন কমেছে ৪৬ লাখ ৪১ হাজার টাকার। সিএসইতে গতকাল লেনদেনের শীর্ষে অবস্থান করে গ্রামীণফোন। কোম্পানিটির ৩০ কোটি ২৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। এরপর ইস্টার্ন হাউজিংয়ের এক কোটি ৪০ লাখ টাকার, রানার অটোমোবাইলের ৭৭ লাখ টাকার, স্কয়ার ফার্মার ৩৭ লাখ টাকা, জেনেক্স ইনফোসিসের ৩৪ লাখ টাকার, ফাস ফাইন্যান্সের ৩৩ লাখ টাকার, ভি এফএস থ্রেডের ৩৩ লাখ টাকা, প্রিমিয়ার ব্যাংকের ২৫ লাখ টাকা, এনবিএলের ২৪ লাখ টাকা, লংকাবাংলা ফাইন্যান্সের ২৪ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়।

সর্বশেষ..