উল্লেখযোগ্য ক্রেতা নেই: লোকসানের শঙ্কা খুলনার আলু ব্যবসায়ীদের

 

শুভ্র শচীন, খুলনা: খুলনা, যশোর ও ঝিনাইদহ অঞ্চলের ১৪টি কোল্ডস্টোরেজ থেকে লোকসানের ভয়ে মজুতদাররা আলু তুলছেন না। দক্ষিণের মোকামের সংকট মেটাতে রাজশাহী ও জয়পুরহাট থেকে চাহিদার তুলনায় দ্বিগুণ আলু আমদানি হচ্ছে। খুলনার কদমতলা, দৌলতপুর ও ট্রাক টার্মিনাল আড়তে উল্লেখযোগ্য ক্রেতা নেই। পাইকারি মোকামে প্রতি কেজি গোলআলু আট টাকা ও খুচরা ১২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলের কোল্ডস্টোরেজগুলোয় দেড় লাখ বস্তা আলু অবিক্রি থাকার শঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সূত্র জানায়, ২০১৪ ও ১৫ সালে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে আলুর বাজারে ধস নামে। উত্তরের আলু ব্যবসায়ীরা দক্ষিণের মোকামে পানির দরে আলু বিক্রি করেন। লোকসান কাটিয়ে উঠতে ১৬ সালে আবাদ বাড়িয়ে দেওয়া হয়। এবার বাম্পার ফলন হয়েছে আলুর। পাশাপাশি কাক্সিক্ষত রফতানি হয়নি। ফলে উত্তরের মজুতকৃত আলু আমদানির পরিমাণ বেড়েছে। প্রতিদিন উত্তরাঞ্চল থেকে তিন হাজার মণ আলু আসছে খুলনাঞ্চলে।

নগরীর কদমতলা মোকামের হাজি জবেদ আলী মোড়ল কমিশন এজেন্টের ম্যানেজার গিয়াস কামাল এ প্রতিবেদককে জানান, জয়পুরহাট ও রাজশাহী থেকে আলু আমদানির পরিমাণ বেড়েছে, যা চাহিদার তুলনায় দ্বিগুণ। তার দেওয়া তথ্যমতে, পাইকারি বাজারে ডায়মন্ড আলু কেজি প্রতি ১৩ টাকা ৫০ পয়সা, লাল ১২ টাকা, গোলআলু আট টাকা এবং মুন্সীগঞ্জের আলু ১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

যশোরের মণিরামপুর উপজেলার ঝালঝরা গ্রামের মজুতদার মো. হানিফ সরদার জানান, মৌসুমের শুরু থেকে ৯০ কেজি ওজনের আলু এক হাজার ৪০০ টাকা দরে কিনে এখন ৯০০ টাকা দরে বিক্রি করতে হচ্ছে। নতুন আলু ওঠার আগে উত্তরাঞ্চল থেকে পুরোনো আলুর আমদানি বেশি হওয়ায় দাম এখন নি¤œমুখী। যশোর, খুলনা ও ঝিনাইদহ অঞ্চলের মজুতদারদের প্রতি বস্তায় ৫০০ টাকা লোকসান দিতে হচ্ছে। ১৪টি কোল্ডস্টোরেজে দেড় লাখ বস্তা আলু অবিক্রি থাকবে।

মাহমুদ কোল্ডস্টোরেজের ম্যানেজার মো. আজমল হোসেন বলেন, মৌসুমে ১৪ হাজার ৪৪৮ বস্তা মজুত করা হলেও মজুতের পরিমাণ ছয় হাজার ১২৩ বস্তা। প্রতি বস্তায় বছরে হিমাগারকে ২৬০ টাকা ভাড়া দিতে হয়। ১২ জন মজুদদার হিমাগারের ধারের কাছে ভিড়ছে না। প্রতি বস্তায় ৫০০ টাকা লোকসান হবে। তাছাড়া হিমাগারে প্রতিদিন তিন থেকে চার ঘণ্টা লোডশেডিং হয়। আলু সতেজ রাখতে জেনারেটর ব্যবহার করা হচ্ছে।

জেলা বাজার কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, এ বছরের জানুয়ারি মাসে স্থানীয় বাজারে গোলআলু প্রতি কেজি পাইকারি মূল্য ১৩ টাকা ৫০ পয়সা, ফেব্রæয়ারি মাসে পাইকারি মূল্য ১১ টাকা, খুচরা মূল্য ১৫ টাকা, মার্চ মাসে পাইকারি মূল্য ১১ টাকা ৫০ পয়সা, খুচরা ১৫ টাকা, এপ্রিল মাসে পাইকারি মূল্য ১৩ টাকা, খুচরা ১৬ টাকা, মে মাসে পাইকারি মূল্য ১৩ টাকা ৫০ পয়সা, খুচরা ১৬ টাকা, জুন মাসে পাইকারি মূল্য ১৬ টাকা ৫০ পয়সা, খুচরা ১৯ টাকা, জুলাই মাসে পাইকারি মূল্য ১৮ টাকা, খুচরা ২১ টাকা, আগস্টে পাইকারি মূল্য ১৭ টাকা ৫০ পয়সা, খুচরা ২১ টাকা এবং সেপ্টেম্বর মাসে পাইকারি মূল্য ১৬ টাকা, খুচরা ১৯ টাকা ৫০ পয়সা দরে বিক্রি হয়। এদিকে গতকাল খুলনার খুচরা বাজারে ২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা যায়।