উৎপাদনক্ষমতা বাড়াবে মুন্নু সিরামিক

নিজস্ব প্রতিবেদন: সিরামিক খাতের কোম্পানি মুন্নু সিরামিক তাদের কোম্পানি আধুনিকীকরণের লক্ষ্যে সম্পূর্ণ নতুন ব্র্যান্ডের বিস্কুট ফায়ারিং রোলার কেলন কিনবে মোডেনা টেকনোলজি লিমিটেড থেকে এবং ১০০ ব্র্যান্ড নতুন গ্লস্ট ফায়ারিং টানেল কেলন জার্মানির রিডহ্যামার জিএমবিএইচ থেকে আমদানি করা হবে। গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
এই নতুন উৎপাদন লাইনটি সম্পূর্ণভাবে স্থাপন করার পর কোম্পানির উৎপাদন ক্ষমতা দ্বিগুণ হয়ে যাবে। অর্থাৎ বর্তমান উৎপাদন ক্ষমতা ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যাবে। এর ফলে উৎপাদিত পণ্য রফতানি ও অভ্যন্তরীণ বাজারে ব্যাপক চাহিদা বাড়লে কোম্পানিটির টার্নওভারও বেড়ে যাবে বলে আশা করছে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ।
এদিকে গত মে মাসের মাঝামাঝি থেকে মুন্নু সিরামিকের শেয়ারদর ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। গত ১৩ মে কোম্পানিটির শেয়ারদর ছিল ১৩০ টাকা ৪০ পয়সা। যা গতকাল দাঁড়িয়েছে ৩৪১ টাকা ১০ পয়সায়। অর্থাৎ গত দু’মাসের ব্যবধানে শেয়ারটির দর ২১০ টাকার বেশি বেড়েছে। এদিকে অব্যাহত দর বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে ডিএসই দুবার অনুসন্ধান করেও দর বাড়ার নেপথ্যে কোনো মূল্যসংবেদনশীল তথ্য জানাতে পারেনি।
এদিকে গতকাল ডিএসইতে শেয়ারটির দর ১০ টাকা ৬০ পয়সা বা তিন দশমিক ১৭ শতাংশ বেড়ে সর্বশেষ লেনদেন হয় ৩৪৫ টাকায়। লেনদেন শেষে সর্বশেষ দর দাঁড়ায় ৩৪১ টাকা ১০ পয়সায়। এদিন কোম্পানিটির ছয় লাখ ৮৭ হাজার ৭১৫টি শেয়ার তিন হাজার ১৬৩ বার হাতবদল হয়। যার মোট মূল্য ২৩ কোটি ৯৬ লাখ টাকা।
সর্বশেষ প্রকাশিত তৃতীয় প্রান্তিকের (জানুয়ারি-মার্চ ’১৮) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে শেয়ারপ্রতি আয় হয় ৩০ পয়সা। যা আগের বছর একই সময় ছিল শূন্য দুই পয়সা। (জুলাই’ ১৭-মার্চ ’১৮) পর্যন্ত ৯ মাসে শেয়ারপ্রতি আয় হয় দুই টাকা। যা আগের বছর একই সময় হয়েছিল ১২ পয়সা।
সর্বশেষ অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন ও বর্তমান বাজারদরের ভিত্তিতে শেয়ারটির মূল্য আয় অনুপাত (পিই রেশিও) ১২৭ দশমিক ৯১। নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে পিই রেশিও তিন হাজার ১০০ দশমিক ৯১।
কোম্পানিটি ২০১৭ সালে পাঁচ শতাংশ নগদ ও পাঁচ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছে। ওই বছর শেয়ারপ্রতি আয় হয় ১১ পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য দাঁড়ায় ৯৪ টাকা ৩২ পয়সায়। এর আগে ২০১৩ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত পাঁচ শতাংশ হারে নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি।
১৯৮৩ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ৫০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ২৫ কোটি ১২ লাখ টাকা। কোম্পানির মোট শেয়ার সংখ্যা দুই কোটি ৫১ লাখ ২৪ হাজার ৪২১টি। কোম্পানির রিজার্ভে আছে ২০০ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। কোম্পানির মোট শেয়ারের ৬২ দশমিক ৪০ শতাংশ উদ্যোক্তা পরিচালক, ৯ দশমিক ১৫ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক, দশমিক ১২ শতাংশ বিদেশি ও ২৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীর হাতে।