উৎপাদন দ্বিগুণ করতে মেশিনারিজ স্থাপন করছে দেশবন্ধু পলিমার

নিয়াজ মাহমুদ, নরসিংদী থেকে ফিরে: উৎপাদন সক্ষমতা শতভাগ বাড়াতে মেশিনারিজ আমদানি করেছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত দেশবন্ধু পলিমার লিমিটেড। নরসিংদীর পলাশ উপজেলার চরসিন্দুতে শীতলক্ষ্যার পাড়ে অবস্থিত কারখানায় এসব মেশিনারিজ স্থাপনের কাজ চলছে। এগুলো চালু হলে চলতি বছর কোম্পানির উৎপাদন আরও ২০ শতাংশ বেশি হবে।

এছাড়া নতুন টেপ লাইন ও ১২টি লুম মেশিন আমদানির প্রক্রিয়া চলছে, যা আগামী মার্চে স্থাপন হবে এবং এপ্রিলের প্রথম দিন থেকে উৎপাদন শুরু হবে। তখন উৎপাদন দ্বিগুণ বৃদ্ধি পাবে। আগামী বছরের মাঝামাঝি সময়ে উৎপাদিত নতুন পণ্য জাম্বু ব্যাগ রফতানি করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন কোম্পানি সংশ্লিষ্টরা।

সম্প্রতি প্রকৌশল খাতের এ কারখানাটি ঘুরে দেখা যায়, পলিমারের উৎপাদন বাড়াতে বেশ কয়েকটি নতুন ইউনিট স্থাপন করা হয়েছে। নতুন মেশিন স্থাপনের কাজ চলছে। দেশবন্ধু পলিমারের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার ইঞ্জিনিয়ার সাখাওয়াত হোসেন শেয়ার বিজকে জানান, দেশবন্ধু সুগার মিলস চালু হওয়ার পর মোড়কের জন্য  প্রতিবছর ৩৫ থেকে ৩৬ লাখ চিনির ব্যাগ প্রয়োজন। সেই পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৬ সালে দেশবন্ধু পলিমার কারখানা স্থাপন করা হয়। প্রথমে তাইওয়ানের মেশিনারি দিয়ে স্বল্প পরিসরে অর্থাৎ বার্ষিক এক কোটি ব্যাগ উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন মিল স্থাপন করা হয়।

২০১১ সালে প্রথম সম্প্রসারণ কাজ করে উৎপাদন ক্ষমতা বার্ষিক তিন কোটি ব্যাগ উৎপাদনে উন্নীত হয়। পরবর্তী সময়ে আরও মেশিনারিজ সংযোজনের মাধ্যমে ২০১৩ ও ২০১৬ সালে আরও উৎপাদন বৃদ্ধি করে সিমেন্ট ব্যাগসহ বর্তমানে এর উৎপাদন ছয় কোটি ব্যাগে উন্নীত করা হচ্ছে বলে জানান সাখাওয়াত।

দেশবন্ধু গ্রুপের প্রকল্প পরিচালক প্রভাষ চক্রবর্তী শেয়ার বিজকে বলেন, দেশ-বিদেশে দেশবন্ধু পলিমার লিমিটেডে উৎপাদিত ব্যাগের ব্যাপক চাহিদা থাকায় নতুন করে আরও একটি কারখানার কাজ চালু করার প্রক্রিয়াধীন আছে, যার মাধ্যমে জার্মানির উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে ১০০ শতাংশ এক্সপোর্ট ব্যাগ তৈরি করা হবে। চলতি বছর মার্চ-এপ্রিলে এর কাজ এবং মেশিনারিজ স্থাপন করে বিদেশে রফতানি শুরু হবে।

এ বিষয়ে দেশবন্ধু পলিমারের এজিএম (সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং) এএসএম নাসির উদ্দিন জানান, এর বাইরেও দেশবন্ধু প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রি গড়ে তোলা হয়েছে। এখানে ডব্লিউপিপি ব্যাগ, ওয়ান এবং ডাবল প্লাই সিমেন্ট ব্যাগ, বিওপিপি (সুইং এবং পেস্টিং) এবং এফআইবিসি ব্যাগ উৎপাদন হবে। এসব পণ্যের অধিকাংশ রফতানি করা হবে। নাসির জানান, দেশবন্ধু প্যাকেজিংয়ের সব কাজ শেষের দিকে। মার্চের মধ্যে মেশিনারি স্থাপনের কাজ শেষ হলে আগামী এপ্রিলে পুরোদমে উৎপাদনে যাবে প্রতিষ্ঠানটি। এতে করে বছরে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা আয় হবে বলে প্রত্যাশা করছেন কর্তৃপক্ষ। নাসির আরও জানান, প্রায় আড়াই শ কোটি টাকা ব্যয়ে মোংলা বন্দরে দেশবন্ধু প্যাকেজিংয়ের কারখানা স্থাপন করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। বর্তমানে ভূমি অধিগ্রহণসহ অন্য বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। শতভাগ রফতানিযোগ্য এ শিল্পটি স্থাপন হলে বছরে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে।

কোম্পানি কর্তৃপক্ষ বলছেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী বছর কোম্পানির মুনাফা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে, যা কোম্পানির পাশাপাশি ভবিষ্যতে কোম্পানির শেয়ারহোল্ডাররাও লাভবান হবে বলে বলে আশাবাদ তাদের।

দেশবন্ধু গ্রুপের এ কোম্পানিটি ২০১৬-১৭ অর্থবছরে শেয়ারহোল্ডারদের ১০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দেয়। ২০১১ সালে তালিকাভুক্ত এ কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ৩০০ কোটি টাকা। আর পরিশোধিত মূলধন ৬১ কোটি টাকা।

এদিকে গত বছরের শেষ দিকে ভারতীয় কোম্পানি রিফর্ম প্যাকেজিং প্রাইভেট লিমিটেডের সঙ্গে ছয় ইস্যুতে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করে দেশবন্ধু পলিমার। রিফর্ম প্যাকেজিং ভারতের গুজরাটের আহমেদাবাদে অবস্থিত।

জানা গেছে, দেশবন্ধু পলিমারের উৎপাদন বাড়াতে ও কার্যক্ষমতা উন্নয়নে কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নে কাজ করবে ভারতীয় কোম্পানিটি। দেশবন্ধু পলিমারের পণ্য রফতানীকরণে মার্কেটিং সাপোর্ট দিবে রিফর্ম প্যাকেজিং; কোম্পানি পরিচালনায় সর্বোচ্চ দক্ষতা অর্জনে, পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নে সহায়তা করবে রিফর্ম প্যাকেজিং। এছাড়া দেশবন্ধু পলিমারে বিনিয়োগ ও দুই কোম্পানি যৌথভাবে দেশে বা দেশের বাইরে বিনিয়োগও করবে।

৩০ জুন সমাপ্ত ২০১৭ হিসাববছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৩৭ পয়সা। ৩০ জুন কোম্পানির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়ায় ১১ টাকা ২০ পয়সায়। ২০১৬ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাববছরে কোনো লভ্যাংশ দেয়নি। সে সময় কোম্পানিটির ইপিএস ছিল ১৯ পয়সা, আগের বছর একই সময় যা ছিল ৪১ পয়সা।