উৎপাদন বাড়াতে স্কয়ার টেক্সটাইলের নতুন বিনিয়োগ পরিকল্পনা

নিজস্ব প্রতিবেদক: বস্ত্র খাতের কোম্পানি স্কয়ার টেক্সটাইলের পরিচালনা পর্ষদ কোম্পানির উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াতে নতুন একটি বিনিয়োগ পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে। সুতা উৎপাদন ও ফাইবার ডায়িং স্থাপনে ৯১ কোটি ৬০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করবে কোম্পানিটি। সম্প্রতি কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্রানুযায়ী, সুতা উৎপাদন ও ফাইবার ডায়িং স্থাপন করা হলে প্রতি বছরে তিন হাজার টন উৎপাদন বাড়বে কোম্পানির। এজন্য প্রকল্প স্থাপন ব্যয় ধরা হয়েছে আনুমানিক ৯১ কোটি ৬০ লাখ টাকা। ২০১৯ সালের মার্চ মাসের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ সম্পন্ন হবে। এতে প্রতিবছর কোম্পানির টার্নওভার বাড়বে ৭০ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। এটি থেকে কোম্পানির মুনাফা আসবে ১০ শতাংশ, যা বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশে প্রভাব ফেলবে।
এদিকে ৩০ জুন, ২০১৮ সমাপ্ত হিসাববছরের জন্য পরিচালনা পর্ষদ ২০ শতাংশ নগদ ও পাঁচ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এছাড়া কোম্পানির ভারসাম্য রক্ষা, আধুনিকীকরণ, পুনর্বাসন ও সম্প্রসারণসহ (বিএমআরই) প্রকল্প সম্প্রসারণের জন্য পরিচালনা পর্ষদ ৮৫ কোটি টাকা অনুমোদন দিয়েছে। এদিকে সমাপ্ত হিসাববছরে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে দুই টাকা ৪৩ পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছে ৩৯ টাকা ৬৩ পয়সায়, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল দুই টাকা ১৯ পয়সা ও ৩৯ টাকা ১০ পয়সা। লভ্যাংশসহ অন্যান্য সিদ্ধান্ত অনুমোদনের জন্য বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আগামী ২০ ডিসেম্বর সকাল ১১টায় ঢাকা ক্লাবের স্যামসন এইচ চৌধুরি সেন্টার, রমনা, ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে। এজন্য রেকর্ড ডেট নির্ধারিত হয়েছে আগামী ২৭ নভেম্বর।
এদিকে পুঁজিবাজারে পতনের প্রভাবে গতকাল ডিএসইতে শেয়ারটির দর ১০ পয়সা বা দশমিক ২০ শতাংশ কমে সবশেষ লেনদেন হয় ৫০ টাকা ২০ পয়সায়। লেনদেন শেষে সবশেষ দর অপরিবর্তিত ছিল। গতকাল কোম্পানিটির ৩২ হাজার ৪৮৭টি শেয়ার ১০৬ বার হাতবদল হয়, যার বাজারমূল্য ১৬ লাখ ৪৬ হাজার টাকা। গতকাল শেয়ারটির দর ৫১ টাকা ৮০ পয়সা থেকে ৫০ টাকা ১০ পয়সায় ওঠানামা করে। গত এক বছরে শেয়ারদর ৪৯ টাকা থেকে ৭১ টাকা ২০ পয়সার মধ্যে হাতবদল হয়। সবশেষ অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে কোম্পানির মূল্য আয় অনুপাত ২০ দশমিক ৬৬ ও নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, ২১ দশমিক ৮৩।
স্কয়ার টেক্স ২০১৭ সালেও ২০ শতাংশ নগদ ও পাঁচ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছে । ওই সময় ইপিএস হয়েছে দুই টাকা ৩০ পয়সা ও এনএভি ছিল ৪১ টাকা পাঁচ পয়সা। ওই সময় কর-পরবর্তী মুনাফা করেছে ৪১ কোটি ১৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা। ‘এ’ ক্যাটেগরির কোম্পানিটি ২০০২ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। কোম্পানির অনুমোদিত মূলধন ৩০০ কোটি টাকা ও পরিশোধিত মূলধন ১৮৭ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। রিজার্ভে আছে ৫৪৬ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। মোট শেয়ারসংখ্যা ১৮ কোটি ৭৮ লাখ ৫৯ হাজার ৪৮টি। মোট শেয়ারের ৬১ দশমিক ৮৩ শতাংশ উদ্যোক্তা পরিচালক, ১৯ দশমিক ২৯ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক, পাঁচ দশমিক ৯০ শতাংশ বিদেশি ও ১২ দশমিক ৯৮ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে।