বিশ্ব পণ্যবাজার

ঊর্ধ্বমুখী ধারায় অপরিশোধিত চিনির দাম

শেয়ার বিজ ডেস্ক : ব্রাজিলে উৎপাদনকারীরা আখ ব্যবহার করে ইথানল উৎপাদনে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। মূলত চিনির বদলে ইথানল উৎপাদনে লাভ বেশি হওয়ায় তাদের মধ্যে এ প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এর প্রভাব পড়েছে চিনির বাজারে। পণ্যটির দামে কয়েকদিন ধরেই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। গত সোমবার অপরিশোধিত চিনির দাম সাড়ে তিন মাসের মধ্যে সর্বোচ্চে পৌঁছায়। খবর বিজনেস রেকর্ডার।

আগামী বছর মার্চে সরবরাহ চুক্তিতে লন্ডনের ইন্টারকন্টিনেন্টাল এক্সচেঞ্জে (আইসিই) গত সোমবার দিনশেষে প্রতি পাউন্ড অপরিশোধিত চিনির দাম ১৪ ডলার ৯৭ সেন্টে স্থির হয়। আগের দিনের তুলনায় এটি দশমিক শূন্য এক সেন্ট বা দশমিক এক শতাংশ বেশি। তবে লেনদেনের শুরুর দিকে দাম ১৫ ডলার শূন্য তিন সেন্টে পৌঁছেছিল। চলতি বছরের ১ আগস্টের পর এটিই ভবিষ্যৎ বাজারে পণ্যটির সর্বোচ্চ দাম।

অপরিশোধিত চিনির পাশাপাশি লন্ডনে পরিশোধিত চিনিরও দাম বেড়েছে। ডিসেম্বরে সরবরাহের চুক্তিতে এদিন প্রতি টন সাদা চিনি বিক্রি হয়েছে ৩৯০ ডলার ৭০ সেন্টে। আগের দিনের তুলনায় এটি এক ডলার ৪০ সেন্ট বা দশমিক চার শতাংশ বেশি।

চিনি উৎপাদনকারী ও রফতানিকারকদের তালিকায় লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিলের অবস্থান শীর্ষে। দেশটির মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোয় আখ ও চিনি উৎপাদন বেশি হয়। দেশটির আখ ও চিনি উৎপাদনের ৯০ শতাংশই এ অঞ্চল থেকে আসে। চলতি মৌসুমে এ অঞ্চলের আখচাষি ও চিনি উৎপাদনকারীরা আখ ব্যবহার করে ইথানল উৎপাদনে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। মূলত চিনির বদলে ইথানল উৎপাদনে লাভ বেশি হওয়ায় তাদের মধ্যে এ প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এর জের ধরে দেশটির এ অঞ্চলে চিনি উৎপাদন আগের মৌসুমের তুলনায় কমে যাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে ব্রাজিলের পণ্যবাজার-বিষয়ক তথ্য প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান কিংসম্যান।

প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, দেশটির এ অঞ্চলে আখ ব্যবহার করে চিনি উৎপাদনের পরিমাণ প্রতি বছরই গড়ে ২১ লাখ টন করে কমছে। ২০১৫-১৬ মৌসুমে পণ্যটির মোট উৎপাদন তিন কোটি ১২ লাখ ২০ হাজার টনে নেমে আসে, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সর্বনি¤œ। ২০১৮-১৯ মৌসুমে এ অঞ্চলে তিন কোটি ৩৯ লাখ ৯০ হাজার টন চিনি উৎপাদিত হতে পারে বলে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চলতি মৌসুমে এ অঞ্চলে খরা পরিস্থিতি বিরাজ করায় আখ উৎপাদন ৫৭ কোটি ৫০ লাখ টন কমতে পারে। ইথানল উৎপাদন অর্থনৈতিকভাবে  বেশি লাভজনক হওয়ায় চিনি উৎপাদনে আখ ব্যবহারের পরিমাণ আগের মৌসুমের তুলনায় সর্বোচ্চ ৪৬ দশমিক তিন শতাংশ কমতে পারে। এ কারণে ব্রাজিলের চিনি উৎপাদন কমে যাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। ২০১৮-১৯ মৌসুমে দেশটির এ অঞ্চলে চিনি উৎপাদন দুই লাখ ৫০ হাজার টন কমতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

বাজারবিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান আইএনজি বলছে, চিনি প্রস্তুতকারক উপাদানের মূল্য বৃদ্ধিতে এবং ইথানল উৎপাদনমুখী হওয়ায় ভবিষ্যৎ চিনির বাজার নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে সতর্কতা দেখা গেছে। এতেই বাজারে পণ্যটির দাম বেড়েছে।

এদিকে দাম কমেছে কফির। গত সোমবার পাউন্ডে ৫০ সেন্ট বা দশমিক ছয় শতাংশ দাম বেড়েছে অ্যারাবিকা কফির। এদিন মার্চে সরবরাহের চুক্তিতে প্রতি পাউন্ড কফি বিক্রি হয়েছে এক দশমিক তিন হাজার ৪০ ডলারে। অন্যদিকে টনে ছয় ডলার দাম কমেছে রোবাস্তার। জানুয়ারিতে সরবরাহ চুক্তিতে দশমিক তিন শতাংশ দাম কমে প্রতি টন রোবাস্তা কফি বিক্রি হয়েছে এক হাজার ৮১০ ডলারে।

 

সর্বশেষ..