ঊর্ধ্বমুখী ধারায় বিশ্ব পুঁজিবাজার

মার্কিন কর্মসংস্থান বৃদ্ধির প্রভাব

শেয়ার বিজ ডেস্ক : গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির বাজার ছিল সন্তোষজনক। প্রকাশিত উপাত্তে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির শঙ্কা অনেকটা কেটে গেছে। এতে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) শিগগিরই সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনাও কিছুটা শিথিল হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে দেশটির পুঁজিবাজারে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এ নিয়ে কিছুটা স্বস্তি আসায় বাজার ঊর্ধ্বমুখী ধারায় রয়েছে কয়েকদিন ধরেই। এর প্রভাব পড়েছে এশিয়াসহ বিশ্ব পুঁজিবাজারেও। খবর রয়টার্স।

জাপান বাদে এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সার্বিক পুঁজিবাজার সূচক গতকাল সোমবার বেড়েছে এক দশমিক তিন শতাংশ। এ নিয়ে টানা তিন দিন এ অঞ্চলের বাজার ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ছিল। এশিয়ার বাজারের মধ্যে জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক গতকাল ৩৫৪ দশমিক ৮৩ পয়েন্ট বা এক দশমিক ৬৫ শতাংশ বেড়েছে। অস্ট্রেলিয়ার পুঁজিবাজার সূচক বেড়েছে এক শতাংশের বেশি। এছাড়া হংকংয়ের হ্যাং সেং ৫৯৮ দশমিক ১২ পয়েন্ট বা এক দশমিক ৯২৩ শতাংশ, চীনের সাংহাই প্রায় এক শতাংশ এবং ভারতের সেনসেক্স প্রায় দুই শতাংশ বেড়েছে। অন্য বাজারগুলোও ছিল ঊর্ধ্বমুখী ধারায়।

সম্প্রতি প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগের উপাত্তে দেখা গেছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দেশটিতে তিন লাখ ১৩ হাজার কর্মসংস্থান হয়েছে। তবে ঘণ্টায় মজুরির বার্ষিক প্রবৃদ্ধি কমে দুই দশমিক ছয় শতাংশে পৌঁছেছে। গত জানুয়ারিতে মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল সর্বোচ্চ।

মজুরি কমায় দেশটিতে মূল্যস্ফীতির বৃদ্ধির যে শঙ্কা ছিল, সেটা অনেকটা কেটে গেছে। এর মূল্যস্ফীতি না বাড়লে এবং মজুরি বৃদ্ধির হার কমায় আগামী সপ্তাহে ফেডের নীতিনির্ধারণী সভায় সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনাও কমে এসেছে। এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে। এ কারণে মার্কিন পুঁজিবাজারে ঊর্ধ্বমুখী ধারা দেখা গেছে। গত রোববার ওয়াল স্ট্রিটের অন্যতম প্রধান সূচক ডাও জোনস ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ ৪৪০ দশমিক ৫৩ পয়েন্ট বা এক দশমিক ৭৭ পয়েন্ট বেড়েছে। অন্য প্রধান বাজার নাসডাকে সূচক বেড়েছে ১৩২ দশমিক ৮৬ পয়েন্ট বা এক দশমিক ৭৯ শতাংশ এবং এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক পয়েন্ট বেড়েছে ৪৭ দশমিক ৬০ পয়েন্ট বা এক দশমিক ৭৪ শতাংশ। সাপ্তাহিক হিসাবে এসঅ্যান্ডপি বেড়েছে তিন দশমিক পাঁচ শতাংশ, ডাও তিন দশমিক ২৫ শতাংশ এবং নাসডাক সূচক বেড়েছে চার দশমিক দুই শতাংশ।

মার্কিন বাজারের এ ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার পর সোমবার এশিয়ার বাজারে তার প্রভাব পড়ে। এছাড়া ইউরোপের বাজারও গতকাল লেনদেনের শুরুর দিকে ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ছিল। এদিন অন্য প্রধান মুদ্রার বিপরীতে ডলারের দরও অনেকটা কম ছিল।

এর আগে উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জন উনের দেওয়া বৈঠক প্রস্তাবে রাজি হয় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই বৈরী সম্পর্ক। বৈঠকে রাজি হওয়ায় কিছুটা হলেও উত্তেজনা কমেছে। বাজারে ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ফিরে আসার পিছনে এটিও একটি কারণ।